একুশ মানে এগিয়ে চলা
jugantor
একুশ মানে এগিয়ে চলা

  সাইফুল আলম  

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পেশাগত জীবনে যুগান্তর আমাদের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের মেধা, অভিজ্ঞান, নিষ্ঠা আর শ্রমের ফসল দৈনিক যুগান্তর। মনে হয়, এই সেদিনের কথা।

দেখতে দেখতে অবলীলায় ২০ বছর পেরিয়ে একুশে পদার্পণ করছি আমরা। এ এক মাহেন্দ্রক্ষণ। আবেগময় আনন্দঘন মুহূর্ত। এ মুহূর্তে মনের জানালায় বারবার উঁকি দিয়ে যাচ্ছে একটিমাত্র ভাবনা।

কী এক আনন্দময় রোমাঞ্চকর পরিবেশে এবার আমরা আমাদের বিংশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উৎসবটি পালন করছি। আমাদের মহান নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবির্ভাবের শততম বর্ষ পালন করবে জাতি।

সে আনন্দের শিহরণ আমাদের বুকের মধ্যেও। এ যেন এক মহাজনমের মহিমান্বিত মধুময় লগ্ন। বাঙালি জাতির অমারাত্রির যত দুর্গতোরণ ধূলিতলে লুণ্ঠিত করে সে মহামানব শুনিয়েছেন নবজীবনের আশ্বাসবাণী।

বাংলাদেশ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে চিরস্থায়ী করেছেন, চিরজীবী করেছেন তিনি।

মুজিববর্ষের শুভ সূচনার ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। একুশে পা রাখলাম আমরাও। একুশের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এগিয়ে চলার মন্ত্রটি অন্তরে ধারণ করেছি আমরা। আমাদের এগিয়ে চলার মাইলফলকে পা রেখে আমরাও প্রতীক্ষা করছি তাঁর : ‘ওই মহামানব আসে,/ দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে/ মর্ত্য ধূলির ঘাসে ঘাসে।’

একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ মানে এগিয়ে চলা। একুশ মানে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নপূরণে আমাদের সঠিক ভূমিকাটিকে সুস্পষ্ট করা। এ শুভ মুহূর্তে তাই আমাদের উচ্চারণ :

‘বঙ্গবন্ধু, যুগস্রষ্টা হে মহামানব,

তোমার অমূল্য দান, বাঙালির এই দেশ-

স্বাধীন সার্বভৌম এই বাংলাদেশে

অনন্তকাল শোনা যাবে

বাঙালির জীবনের জয়গান।

চিরজীবী বাংলাদেশে

জয় বাংলা আমার স্লোগান।’

দুই.

একুশে পা দিল যুগান্তর। বাংলাদেশ আর বাংলা ভাষা আমাদের চেতনার মূলে নিরন্তর জলসিঞ্চন করে। সেই দু’হাজার সালে যমুনা গ্রুপের কর্ণধার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের আগ্রহে ভাষার মাসের পয়লা দিনটিকে পত্রিকাটির আত্মপ্রকাশের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই থেকে আজ অবধি দেশের সব শ্রেণির, সব পেশার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে যুগান্তর তার ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রবক্তা, একুশের অমর সঙ্গীতের মহান রচয়িতা অগ্রজ সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী গত বছর আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তার আশীর্বাণীতে লিখেছিলেন, ‘সাংবাদিকতার এ কমার্শিয়ালিজমের যুগেও যুগান্তর আদর্শিক সাংবাদিকতা এবং তার নিরপেক্ষ চরিত্র-বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেছে।

নিপীড়ন-নির্যাতনের মুখে যুগান্তর মাথা নত করেনি। ঢাকায় এখন অনেক দৈনিক। তার ভিড়ে যুগান্তর তার বৈশিষ্ট্য হারায়নি। নিরপেক্ষতার ভান করে জনগণের কোনো শত্রুশিবিরের স্বার্থসিদ্ধির বাহন হয়নি। আবার ক্ষমতাসীনদেরও চাটুকারিতার ভূমিকা নেয়নি। ... যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে সত্য ও ন্যায়ের বাতি নিভতে দেয়নি।’

শ্রদ্ধেয় গাফ্ফার ভাইয়ের জবানিতে ফুটে উঠেছে যুগান্তরের সত্যনিষ্ঠতা আর গণমানুষের স্বার্থরক্ষায় সৎ আদর্শের প্রতি ঋজু অবস্থানের পরম সত্যটি। একুশ বছরে পদার্পণের এ আনন্দময় পরিবেশে আমরা ঘোষণা করছি, অনাগত দিনগুলোতেও আমরা আমাদের সেবা ও লক্ষ্যে বিচ্যুতির কোনো অবকাশ সৃষ্টি হতে দেব না।

তিন.

একুশ শতকের কাগজ যুগান্তর। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং স্বল্পশিক্ষিত- সব শ্রেণির পাঠক-পাঠিকার ভালোবাসা নিয়ে আমাদের এগিয়ে চলা। সবার মনের খোরাক যুগান্তর। কঠিন কথা সহজভাবে বলাই আমাদের বৈশিষ্ট্য। সে কারণে এর গ্রাহক-অনুগ্রাহক ও পৃষ্ঠপোষকের সংখ্যায় কখনও কোনো ঘাটতি পড়েনি। বিপুল জনপ্রিয়তা ও প্রচার সংখ্যা নিয়ে এর প্রাধান্য বজায় রেখেছে আমাদের প্রিয় সংবাদপত্রটি। আমরা সম্পাদকীয় নীতির ক্ষেত্রে অসাম্প্রদায়িকতা ও জনকল্যাণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছি। যে কারণে আমাদের যুগান্তর এতটা পাঠকপ্রিয়তা ও জনসমর্থন লাভে সক্ষম হয়েছে বলে আমার ধারণা।

এগিয়ে চলা বাংলাদেশে আমরা চাই- রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা। আমরা চাই সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদমুক্ত প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ আর মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা। আমরা স্বপ্ন দেখি সুখী, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ সোনার বাংলার।

এ স্বপ্ন পূরণে আমাদের আকুতি, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যে যার অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব। দেশ, দেশের মাটি, দেশের পরিবেশ-প্রকৃতি আর দেশের মানুষকে ভালোবাসব। আমরা এগিয়ে যাব আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে। গতবার আমরা বলেছি, ‘যেতে হবে বহু দূর!’ একুশের চেতনায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঋদ্ধ হয়ে এবার আমাদের স্লোগান- ‘একুশ মানে এগিয়ে চলা’।

গতিশীলতাই জীবনের ধর্ম। যে চলতে পেরেছে সে জয়ী হয়েছে। যে থমকে গেছে তার ধ্বংস অনিবার্য। এগিয়ে চলার এ অন্তরঙ্গ অভিযাত্রায় আমাদের প্রতিটি পাঠক-পাঠিকা, গ্রাহক-অনুগ্রাহক ও পৃষ্ঠপোষক সবাইকে আমরা আমাদের সহযাত্রী হিসেবে পেতে চাই। হৃদয়ের উষ্ণতায় জড়াতে চাই সবাইকে।

একুশ মানে এগিয়ে চলা

 সাইফুল আলম 
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পেশাগত জীবনে যুগান্তর আমাদের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের মেধা, অভিজ্ঞান, নিষ্ঠা আর শ্রমের ফসল দৈনিক যুগান্তর। মনে হয়, এই সেদিনের কথা।

দেখতে দেখতে অবলীলায় ২০ বছর পেরিয়ে একুশে পদার্পণ করছি আমরা। এ এক মাহেন্দ্রক্ষণ। আবেগময় আনন্দঘন মুহূর্ত। এ মুহূর্তে মনের জানালায় বারবার উঁকি দিয়ে যাচ্ছে একটিমাত্র ভাবনা।

কী এক আনন্দময় রোমাঞ্চকর পরিবেশে এবার আমরা আমাদের বিংশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উৎসবটি পালন করছি। আমাদের মহান নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবির্ভাবের শততম বর্ষ পালন করবে জাতি।

সে আনন্দের শিহরণ আমাদের বুকের মধ্যেও। এ যেন এক মহাজনমের মহিমান্বিত মধুময় লগ্ন। বাঙালি জাতির অমারাত্রির যত দুর্গতোরণ ধূলিতলে লুণ্ঠিত করে সে মহামানব শুনিয়েছেন নবজীবনের আশ্বাসবাণী।

বাংলাদেশ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে চিরস্থায়ী করেছেন, চিরজীবী করেছেন তিনি।

মুজিববর্ষের শুভ সূচনার ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। একুশে পা রাখলাম আমরাও। একুশের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এগিয়ে চলার মন্ত্রটি অন্তরে ধারণ করেছি আমরা। আমাদের এগিয়ে চলার মাইলফলকে পা রেখে আমরাও প্রতীক্ষা করছি তাঁর : ‘ওই মহামানব আসে,/ দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে/ মর্ত্য ধূলির ঘাসে ঘাসে।’

একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ মানে এগিয়ে চলা। একুশ মানে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নপূরণে আমাদের সঠিক ভূমিকাটিকে সুস্পষ্ট করা। এ শুভ মুহূর্তে তাই আমাদের উচ্চারণ :

‘বঙ্গবন্ধু, যুগস্রষ্টা হে মহামানব,

তোমার অমূল্য দান, বাঙালির এই দেশ-

স্বাধীন সার্বভৌম এই বাংলাদেশে

অনন্তকাল শোনা যাবে

বাঙালির জীবনের জয়গান।

চিরজীবী বাংলাদেশে

জয় বাংলা আমার স্লোগান।’

দুই.

একুশে পা দিল যুগান্তর। বাংলাদেশ আর বাংলা ভাষা আমাদের চেতনার মূলে নিরন্তর জলসিঞ্চন করে। সেই দু’হাজার সালে যমুনা গ্রুপের কর্ণধার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের আগ্রহে ভাষার মাসের পয়লা দিনটিকে পত্রিকাটির আত্মপ্রকাশের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই থেকে আজ অবধি দেশের সব শ্রেণির, সব পেশার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে যুগান্তর তার ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রবক্তা, একুশের অমর সঙ্গীতের মহান রচয়িতা অগ্রজ সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী গত বছর আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তার আশীর্বাণীতে লিখেছিলেন, ‘সাংবাদিকতার এ কমার্শিয়ালিজমের যুগেও যুগান্তর আদর্শিক সাংবাদিকতা এবং তার নিরপেক্ষ চরিত্র-বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেছে।

নিপীড়ন-নির্যাতনের মুখে যুগান্তর মাথা নত করেনি। ঢাকায় এখন অনেক দৈনিক। তার ভিড়ে যুগান্তর তার বৈশিষ্ট্য হারায়নি। নিরপেক্ষতার ভান করে জনগণের কোনো শত্রুশিবিরের স্বার্থসিদ্ধির বাহন হয়নি। আবার ক্ষমতাসীনদেরও চাটুকারিতার ভূমিকা নেয়নি। ... যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে সত্য ও ন্যায়ের বাতি নিভতে দেয়নি।’

শ্রদ্ধেয় গাফ্ফার ভাইয়ের জবানিতে ফুটে উঠেছে যুগান্তরের সত্যনিষ্ঠতা আর গণমানুষের স্বার্থরক্ষায় সৎ আদর্শের প্রতি ঋজু অবস্থানের পরম সত্যটি। একুশ বছরে পদার্পণের এ আনন্দময় পরিবেশে আমরা ঘোষণা করছি, অনাগত দিনগুলোতেও আমরা আমাদের সেবা ও লক্ষ্যে বিচ্যুতির কোনো অবকাশ সৃষ্টি হতে দেব না।

তিন.

একুশ শতকের কাগজ যুগান্তর। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং স্বল্পশিক্ষিত- সব শ্রেণির পাঠক-পাঠিকার ভালোবাসা নিয়ে আমাদের এগিয়ে চলা। সবার মনের খোরাক যুগান্তর। কঠিন কথা সহজভাবে বলাই আমাদের বৈশিষ্ট্য। সে কারণে এর গ্রাহক-অনুগ্রাহক ও পৃষ্ঠপোষকের সংখ্যায় কখনও কোনো ঘাটতি পড়েনি। বিপুল জনপ্রিয়তা ও প্রচার সংখ্যা নিয়ে এর প্রাধান্য বজায় রেখেছে আমাদের প্রিয় সংবাদপত্রটি। আমরা সম্পাদকীয় নীতির ক্ষেত্রে অসাম্প্রদায়িকতা ও জনকল্যাণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছি। যে কারণে আমাদের যুগান্তর এতটা পাঠকপ্রিয়তা ও জনসমর্থন লাভে সক্ষম হয়েছে বলে আমার ধারণা।

এগিয়ে চলা বাংলাদেশে আমরা চাই- রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা। আমরা চাই সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদমুক্ত প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ আর মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা। আমরা স্বপ্ন দেখি সুখী, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ সোনার বাংলার।

এ স্বপ্ন পূরণে আমাদের আকুতি, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যে যার অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব। দেশ, দেশের মাটি, দেশের পরিবেশ-প্রকৃতি আর দেশের মানুষকে ভালোবাসব। আমরা এগিয়ে যাব আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে। গতবার আমরা বলেছি, ‘যেতে হবে বহু দূর!’ একুশের চেতনায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঋদ্ধ হয়ে এবার আমাদের স্লোগান- ‘একুশ মানে এগিয়ে চলা’।

গতিশীলতাই জীবনের ধর্ম। যে চলতে পেরেছে সে জয়ী হয়েছে। যে থমকে গেছে তার ধ্বংস অনিবার্য। এগিয়ে চলার এ অন্তরঙ্গ অভিযাত্রায় আমাদের প্রতিটি পাঠক-পাঠিকা, গ্রাহক-অনুগ্রাহক ও পৃষ্ঠপোষক সবাইকে আমরা আমাদের সহযাত্রী হিসেবে পেতে চাই। হৃদয়ের উষ্ণতায় জড়াতে চাই সবাইকে।