যুগান্তরের যেসব প্রতিবেদনে তোলপাড় সারা দেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুগান্তরের যেসব প্রতিবেদনে তোলপাড় সারা দেশ

‘সত্যের সন্ধানে নির্ভীক’ এই স্লোগানে দুই দশক আগে যাত্রা করে দৈনিক যুগান্তর। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাধা-বিপত্তি ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সত্যের সন্ধানে এখনও নিবেদিত পত্রিকাটি।

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কারণে দিন দিন পাঠকের অন্তরে গভীরে জায়গা করে নিয়েছে যুগান্তর। সমাজে ঘটে যাওয়া নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, অনিয়ম, খবরের পেছনে খবর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আর্থিক, সামাজিক ও সরকারি সংস্থার নেয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সবার আগে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়াই যুগান্তরের মূল লক্ষ্য।

বিগত সময়ের মতো ২০১৯ সালেও যুগান্তরের সেই চেষ্টা অব্যাহত ছিল। বছরজুড়েই অসংখ্য আলোচিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যুগান্তরে। ওইসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

যার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। ভবিষ্যতেও পাঠকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুগান্তর এ ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। কোনো দল, ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নয়, পাঠকের স্বার্থেই যুগান্তর।

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় যুগান্তর কখনও পিছপা হবে না। নিচে গত বছর যুগান্তরে প্রকাশিত আলোচিত কিছু প্রতিবেদন ও তার আলোকে কর্তৃপক্ষের নেয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হল।

এক. কারা অধিদফতরের ডিআইজি বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে গত ৬ অক্টোবর যুগান্তরে ‘বেপরোয়া ডিআইজি প্রিজনের ঘুষকাণ্ড, স্ত্রী কুরিয়ার সার্ভিসে নেন কোটি কোটি টাকা’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হয়।

পরে দুদক টাকার কুমির এই কারা কর্মকর্তার সম্পদের খোঁজে মাঠে নামে। খুব অল্প সময়েই তার আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

২০ অক্টোবর দুদকে হাজির হতে বলা হয় এবং রাজধানীর বেইলি রোডে রূপায়ণ সেন্টারে ৩ কোটি ৮ লাখ টাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই আটকে যান বজলুর রশীদ।

স্বীকার করেন ফ্ল্যাটটি তার ট্যাক্স ফাইলে প্রদর্শিত নয়। ওইদিনই দুদক কার্যালয়ের ভেতরেই কারা পোশাক পরিবর্তন করে গ্রেফতার করা হয় তাকে। সেই থেকে তিনি কারাগারে।

দুই. গত ২৮ জুন যুগান্তরের প্রথম পাতায় ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক বিএনপি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বলে, এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো ভোটে যাবে না দল।

কিন্তু পরে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। নীতিনির্ধারকদের এমন চিন্তাভাবনা জেনেই যুগান্তরে রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়। রিপোর্ট প্রকাশের এক সপ্তাহ পরই তা সত্যি প্রমাণিত হয়। ৫ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে।

তিন. গত ১৯ আগস্ট ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভিনিং প্রোগ্রাম : জমজমাট শিক্ষা বাণিজ্য’ শীর্ষক প্রধান প্রতিবেদন ছাপা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্সের ওপর ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে বিকল্প পথে গ্রাজুয়েট তৈরির চিত্র।

রিপোর্টে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভেতরে উচ্চশিক্ষা নিয়ে একশ্রেণির শিক্ষকের বাণিজ্যিক মনোভাব জনগণের সামনে চলে আসে। গত ৯ ডিসেম্বর এই কোর্স বাতিলের আহ্বান জানান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই কোর্সের ব্যাপারে নির্দেশনা জারি করে। তাতে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তা বন্ধ করার সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি।

চার. গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ‘যাত্রী পায় না, ট্রেনের টিকিট থাকে অবিক্রীত- চক্রে স্টেশন মাস্টার থেকে গার্ড সবাই’ শিরোনামে সংবাদ ছাপা হয়। এটি প্রকাশের পর রেলপথ মন্ত্রণালয়, রেলওয়ে বিভাগ তথা সর্বমহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়। যাত্রীসেবা নিশ্চিতে কোনো শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না বলে ঘোষণা দেন মন্ত্রী। মাঠ পর্যায়ের রিপোর্ট অনুযায়ী অব্যবস্থাপনা ও টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত ৩৭ স্টাফকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং রেলওয়ে বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে নেয়া হয় ১৬টি সিদ্ধান্ত।

পাঁচ. গত ২২ জানুয়ারি যুগান্তরে প্রকাশিত হয় ‘অপসারণ হচ্ছেন জনতা ব্যাংকের এমডি আবদুছ সালাম’ প্রতিবেদনটি। এতে বলা হয়, ঋণের নামে সীমাহীন লুটপাটের কারণে এই ব্যাংকের অবস্থা নাজুক।

বিশেষ করে ব্যাংকের পর্ষদ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততায় জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপকে দেয়া হয় ঋণ। ভুয়া আমদানি দেখিয়ে অর্থ পাচার করে কোম্পানির চেয়ারম্যান ইউনূস বাদল। আর এসব কাজে সহায়তা করেছেন ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুছ ছালাম আজাদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে বিষয়টি ধরা পড়ে। এ অবস্থায় জনতা ব্যাংকের এমডিকে অপসারণের সুপারিশ করে পরিদর্শক দল। কিন্তু অদৃশ্য কারণে মধ্যপথে ফাইল আটকে যায়। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরে যুগান্তর। এরপরই নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে আবদুছ ছালাম আজাদের অসারণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ছয়. গত বছর ২৪ ডিসেম্বর ‘সরকারি চাকরিতে ফৌজদারি মামলার আসামি’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে বরখাস্ত হন ঔষধ প্রশাসনের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. নূরুল ইসলাম।

গত ২৯ ডিসেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘মো. নূরুল ইসলাম, পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরকে বিএসআর (পার্ট-১) এর ৭৩নং বিধির নোট-২ অনুযায়ী ২৫ আগস্ট থেকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হল।’

তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। গত ২৫ আগস্ট ওই মামলায় রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

২৪ দিন কারাবাস শেষে হাইকোর্ট তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন। মামলাটি চলমান রয়েছে। তাই জেলহাজতে প্রেরণের তারিখ থেকে তিনি সাময়িক বরখাস্ত বলে বিবেচিত হবেন।

সাত. ‘বাজেটে থাকছে নতুন চমক বৃহস্পতিবার সংসদে উপস্থাপন’ শিরোনামে গত ১১ জুন দৈনিক যুগান্তরে লিড নিউজ ছাপা হয়। সেখানে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ বাজেটে মোট ব্যয় ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, মোট আয় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা এবং ঘাটতি ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকার তথ্য প্রকাশ করা হয়। দুই দিন পর ১৪ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন, দু’দিন আগেই সেটি হুবহু দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশ করা হয়। বাজেটের মোট ব্যয়, আয় ও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য, ঘাটতির পরিমাণ, এডিপির আকার, পরিচালনা ব্যয়সহ যেসব নতুন বিষয় উপস্থাপন করা হয় তার সবকিছু মিল ছিল যুগান্তরের ওই রিপোর্টে। সংসদে উপস্থাপনের আগে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত হওয়ায় এটি সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।

আট. ‘তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা থাকছে না’ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ২০ মার্চ। নিউজটি ছিল ওইদিনের ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। নিউজের গুরুত্ব অনুধাবন করে পরদিন ২১ মার্চ দেশের প্রায় সব বড় পত্রিকা ও অনলাইনে এই নিউজ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। এ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়।

ওই নিউজের অগ্রগতি জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চলতি বছরই পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) দেশের ১০০টি স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা তুলে দেয়া হয়েছে। এসব স্কুলে যেসব ভুল-ভ্রান্তি পাওয়া যাবে বা সমস্যা দেখা দেবে তা চিহ্নিত করে নতুন কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সে অনুযায়ী প্রস্তুত করা নতুন কারিকুলামে ২০২১ সালে সারা দেশে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ পদ্ধতি চালু হবে।

নয়. ছাত্রলীগ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই কঠোর নির্দেশনার খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয় দৈনিক যুগান্তরে। গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম পাতায় প্রকাশিত এ খবর সারা দেশে ‘টক অব দি কান্ট্রি’তে পরিণত হয়।

পরে এটি দেশ-বিদেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর চলতে থাকে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে সিরিজ সংবাদ।

বেরিয়ে আসে তাদের অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতিসহ নানা অপকর্মের ফিরিস্তি। এর সপ্তাহখানেক পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় শোভন-রাব্বানীতে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

দশ. গত বছরের গ্রীষ্ম ও বর্ষার মৌসুমজুড়ে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। প্রতিদিন শত শত মানুষ ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছিল। সে সময় মেয়াদোত্তীর্ণ মশার ওষুধের ব্যবহার এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব অবহেলার চিত্র জনগণের সামনে ফুটে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন এবং সমালোচনা থেকে বাঁচতে মশক নিধনে অপরিকল্পিত ‘অ্যারোসল বিতরণ’ কর্মসূচি গ্রহণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসি প্রাথমিকভাবে ৬ কোটি টাকার ‘অ্যারোসল’ ক্রয় করে এবং ধাপে ধাপে আরও অ্যারোসল ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেয়। এসব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর ‘মশক নিধনে ৬ কোটি টাকাই জলে!’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে ডিএসসিসি এবং নতুন করে ‘অ্যারোসল’ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায়।

এগারো. গত বছর ৩১ জুলাই ‘সুপ্রিমকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি গায়েব’ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলে সুপ্রিমকোর্টে তোলপাড় সৃষ্টি করে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নিজে বিভিন্ন সেকশন পরিদর্শন করেন। ওইসব সেকশনে সিসি ক্যামেরা বসানোসহ নানা ব্যবস্থা নেয়া হয়। কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। যাদের নথি পাওয়া যায়নি তাদের বিকল্প ব্যবস্থায় মামলার নথি তৈরি করে শুনানির ব্যবস্থা করা হয়।

বারো. গত বছরের ১৮ মার্চ ‘৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এ রিপোর্টে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসে।

পরে গত ১৮ জুন সব মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এক মাসের মধ্যে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি যেসব ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন আদালত।

বর্তমানে ওই কমিটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে। পরে ২৫ জুন সংবাদ সম্মেলন করে ২ জুলাইয়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সব ওষুধ ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সেই নির্দেশে এখনও শুধু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নয়, ভেজাল ও নকল ওষুধ বেচাকেনা বন্ধে মনিটরিং করা হচ্ছে। যাতে কোনোভাবেই মানুষের স্বাস্থ্যহানি না ঘটে।

তেরো. ‘অবিশ্বাস্য বেতন প্রস্তাব!’ শিরোনামে গত ১২ সেপ্টেম্বর সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, সাপোর্ট স্টাফদের অবিশ্বাস্য বেতন প্রস্তাব করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ক্লিনারের বেতন মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

অফিস সহায়কের বেতন প্রতি মাসে ৮৩ হাজার ৯৫০ টাকা এবং ক্যাড অপারেটরের বেতন ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, বিদেশি পরামর্শকের মাসিক বেতন ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা, যা গড়ে ১৬ লাখ টাকা।

এ সংবাদটি প্রচারের পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষিতে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রস্তুতিমূলক কারিগরি সহায়তা’ শীর্ষক প্রকল্প থেকে একজনকে বদলি করা হয়েছে বলে পরে জানান রেলের মহাপরিচালক। বাধ্য হয়েই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করে বেতন কমিয়ে আনা হয়।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫৬ ২৬
বিশ্ব ৯,৮১,৪২৫২,০৬,২৭২৫০,২৫৫
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×