লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে মহাকাশে ভাসছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ

সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিস্ময়কর * ইন্টারনেটের কল্যাণে হাতের মুঠোয় বিশ্ব * চ্যালেঞ্জ রাজনীতি ও সুশাসন

  মনির হোসেন ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাধীনতার অর্ধশত বছরের মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে বাংলাদেশ। তলাবিহীন ঝুড়ির খেতাব পাওয়া ছোট্ট বদ্বীপটি আজ বিশ্বের ৪১তম অর্থনীতির দেশ।

অর্থনীতির আকার ৩০০ বিলিয়ন ডলার। প্রতিযোগী এবং পার্শ্ববর্তী অনেক দেশকে পেছনে ফেলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি এখন ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।

১২৯ ডলার থেকে বেড়ে এক হাজার ৯০৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে মাথাপিছু আয়। নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভর করেই ঘোষিত হচ্ছে পাঁচ লাখ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট।

শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে জন্ম নেয়া ৫৬ হাজার বর্গমাইলের স্বাধীন মানচিত্র। লাল সবুজের পতাকায় ৪৯ বছরের এ পথ চলা।

এক অমিত সম্ভাবনার হাতছানি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ঝড়ের কবলে পড়ে এ অগ্রযাত্রা থমকে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পরক্ষণেই আবার অর্থনীতির চাকায় সঞ্চারিত হয়েছে আগের গতি। এতে ফের ঘুরতে শুরু করেছে চাকা।

মেইড ইন বাংলাদেশ নামে বিশ্বে পরিচিতি দিয়েছে পোশাক খাত। ইতিমধ্যে মিলেছে মধ্যম আয় ও উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি। অর্থনৈতিক সামাজিক সূচকগুলোতে ঈর্ষণীয় পরিবর্তন এসেছে। লাল সবুজের পতাকা নিয়ে মহাকাশে ভাসছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

ইন্টারনেটের কল্যাণে হাতের মুঠোয় বিশ্ব। ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো। বিশ্বশান্তিতে নোবেল এসেছে। পিছিয়ে নেই খেলাধুলাতেও। বিশ্ব দরবারে নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

অফুরান সম্ভাবনার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ কম নয়। কারণ অর্থনীতিতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার চেয়ে অনেক পিছিয়ে রাজনীতি। নির্বাচন ব্যবস্থা এখনও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি।

সম্ভব হয়নি সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা। দুর্নীতিতে বিশ্বের প্রথম ১৫টি দেশের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ। সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। যা এখন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান নয়।

জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, জাতি হিসেবে বাঙালি ভিষণ মেধাবী। কিন্তু পাকিস্তান সরকার কোনো সুযোগ দেয়নি।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। ওই সময় ৪০ শতাংশ খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি।

কিন্তু খাদ্য আমদানি করতে হয় না। এ ছাড়া শিল্প খাতের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে গার্মেন্ট শিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম। চীনের পরেই আমাদের অবস্থান। একই অবস্থা সেবা খাতেও। তার মতে, বৈষম্যের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছিল।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে বিশ্বে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামের স্বাধীন মানচিত্র। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত একটি সামরিক বাহিনীর বিপক্ষে নিরস্ত্র বাঙালির ৯ মাসের যুদ্ধেই রচিত হয়েছিল লাল সবুজের পতাকা। পৃথিবীতে এত অল্প সময়ে আর কোনো দেশ স্বাধীন হয়নি। সে কারণে দামটাও বেশি দিতে হয়েছিল।

সেই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুড়ি উপাধি পাওয়া দেশটি ৪৯ বছরে বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেল। যে দেশকে শোষণ, বঞ্চনা, নানাবিধ আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করেছিল পাকিস্তান, আজ তারাই বাংলাদেশের মতো উন্নয়নের স্বপ্ন দেখে। শুধু তাই নয়, তাদের সংসদেও বাংলাদেশের উন্নয়নের উদাহরণ টানা হয়।

গত ৪৯ বছরে বাংলাদেশের মানুষের উদ্ভাবনী চিন্তাচেতনার বাস্তবায়ন ও উদ্যোগী মনোভাবের কারণে দেশটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা হার, স্বাস্থ্য, শিশুমৃত্যুর হার কমানো, অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন, রফতানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, বৈদেশিক শ্রমবাজার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, জননিরাপত্তা, সামাজিক বৈষম্য নিরসনসহ প্রায় সব সূচকেই পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ।

বিশেষ করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে এশিয়া, আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশকে পেছনে ফেলে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। মানুষের গড় আয়ু, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মাথাপিছু আয়ে যেসব দেশ বিশ্বে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। ইতিমধ্যে নিুমধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ।

উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক স্বীকৃতিও মিলেছে। এখন তা আলোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট জাতীয় বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। বর্তমানে তা প্রায় পাঁচ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

এর মধ্যে রাজস্ব আয় তিন লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা। গড় আয়ু ৪৭ বছর থেকে ৭২ দশমিক ৮ বছরে উন্নীত হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছানোর সব রকম প্রস্তুতি রয়েছে।

১৯৭২ সালে দারিদ্র্যের হার যেখানে ছিল ৮৮ শতাংশ, সেখানে আজ এ হার কমে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আগে শতভাগ অর্থ বরাদ্দ করা হতো বৈদেশিক অনুদান থেকে। এখন প্রায় ৬৬ শতাংশ বরাদ্দ করা হয় দেশীয় সম্পদের উৎস থেকে।

জানা গেছে, বতর্মানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার যে রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে অন্তত সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটির রিজার্ভের অর্থ দিয়ে মাত্র দুই মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে এগিয়ে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারে শীর্ষ দশে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই প্রথম চালু হল ই-পাসপোর্ট।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ১২৯ ডলার। বর্তমানে তা এক হাজার ৯০৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ৫০১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি আজ দুই লাখ দুই হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির বিবেচনায় বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। ৪০০ মেগাওয়াট থেকে ২৩ হাজার মেঘাওয়াটে উন্নীত হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। স্বাধীনতার পর সারা দেশে পাকা সড়ক ছিল তিন হাজার ৬১০ কিলোমিটার। বর্তমানে তা ২১ হাজার ৫৯৬ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে।

২২ শতাংশ থেকে ৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে শিক্ষার হার। ১৯৭১ সালে ১০ হাজার ৪৯০ জন মানুষের জন্য একজন রেজিস্টার চিকিৎসক ছিল। বর্তমানে দুই হাজার ৫৮১ জনে একজন চিকিৎসক। যদিও চিকিৎসার এই অর্জন যথেষ্ট নয়। কিন্তু রয়েছে বিশাল সম্ভাবনার হাতছানি।

এগিয়ে গেছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সব সূচকে। বাংলাদেশের এ উন্নয়ন দেখতে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, শুধু বলার জন্য নয়, দারিদ্র্য বিমোচনে সত্যিই আজ বিশ্বে রোল মডেল।

বিশ্বের অন্য দেশগুলোয় বাংলাদেশের উদাহরণ তুলে ধরছে বিশ্বব্যাংক। মহাকাশে রয়েছে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট। বিশ্বশান্তি নোবেল এসেছে বাংলাদেশে। এগিয়ে চলছে গর্বের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, নদীর তলদেশ দিয়ে ট্যানেল এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দে র কাজ।

ক্রিকেটেও বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে বাংলাদেশিরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের দুটি কারণ। প্রথমত পাকিস্তান থেকে রাজনৈতিক মুক্তি, দ্বিতীয় অর্থনৈতিক মুক্তি। পাকিস্তান আমলে উন্নয়ন থেকে আমরা ছিলাম বঞ্চিত। কিন্তু স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণেই আজ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ৪৮ বছরে দেশের সামাজিক খাত ও অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে সামষ্টিক অর্থনীতির আকার বহুগুণে বেড়েছে।

শিক্ষার হার, চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মাথাপিছু আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক বেড়েছে।

এ ছাড়াও অর্থনীতিতে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল আমাদের কর্মক্ষম জনশক্তি বেশি। অর্থনীতির পরিভাষায় একে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট বা জনশক্তির বোনা সকাল বলে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উদ্যোগ নিতে হবে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ কম নয়। বর্তমানে দেশের অন্যতম সমস্যা অর্থনৈতিক বৈষম্য। এখনও দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সীমাহীন দূরত্ব।

এ ছাড়াও দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট অনুসারে বর্তমানে বিশ্বে ১৩মত দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ। দেশ থেকে প্রতি বছরই টাকা পাচার বাড়ছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে আমাদের স্থিতিশীলতা সন্তোষজনক।

বিখ্যাত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস ১১টি উদীয়মান দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশ রয়েছে এ তালিকায়। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাচ্ছে।

১৯৯১ থেকে ২০২০ সালে দেশ পরিচালনায় থাকা সরকারের ধারাবাহিক অবদান রয়েছে। স্বাধীনতার মাত্র চার দশকেই বাংলাদেশ অবিশ্বাস্যভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বিস্ময়করভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালে শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এখনও বাংলাদেশে প্রধান সমস্যা দুর্নীতি। এ দুর্নীতি রোধ করতে হবে। পাশাপাশি সর্বজনীন সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ দুটি বিষয় সফলভাবে করতে পারলে বিশ্বে সবক্ষেত্রে রোল মডেল হবে বাংলাদেশ।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত