আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া: অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে
jugantor
আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া: অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে
ছুটি, যানবাহনের অপ্রতুলতা ও অসুস্থতায় ভোটার উপস্থিতি কম * ইভিএম মেশিনই পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেছে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ১০০ বছরের ইতিহাসে এত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়নি বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। তারা বলেছেন, নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়েছে। ইভিএম মেশিনই পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেছে। একই সঙ্গে ভোট পদ্ধতির পরিবর্তন, দীর্ঘ ছুটির কারণে ঢাকার ভোটারদের বাড়ি যাওয়া, যানবাহনের অপ্রতুলতা এবং অসুস্থতার কারণে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল।

শনিবার ভোট শুরুর পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দলীয় সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং বনানীর অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা এসব কথা বলেন। বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকায় তাদের ধন্যবাদও জানান নেতারা। তবে বিএনপি জিততে নয়, ভোটকে বিতর্কিত করতেই মাঠে ছিল বলেও দাবি তাদের।

বিকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্রে না থাকা নিয়ে বলেন, বিএনপি প্রার্থীরা বলেছিলেন, তারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন, সব দেখবেন। কিন্তু আজ তাদের দেখা যায়নি। ভরাডুবি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই তারা সরে গেছেন।

ইভিএম প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ইভিএম নিয়ে যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছিল ভোটাররা কেন্দ্রে এসে তা দূর করেছেন। বুঝিয়ে দিলেন ইভিএমে ভোট দেয়া যায়, এটা আজ প্রমাণিত। ইভিএমে যে ভোট চুরির সুযোগ নেই সেটাও প্রমাণিত। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক ও আবদর রহমান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন মায়া ও অ্যাড. কামরুল ইসলাম, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যায় উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য উত্তরের দলীয় প্রার্থীর সমন্বয়ক তোফায়েল আহমেদ বনানীর অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ে বলেন, আগে জাল ভোট হতো। ইভিএমে সেই সুযোগ ছিল না। বিদেশি পর্যবেক্ষক বিশেষ করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার, মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা ঘুরে দেখে বলেছেন, ‘নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়েছে।’

তোফায়েল বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে বিএনপি নানা অপপ্রচার করে আসছিল। এখন বলছে, এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। এ রকম কোনো ঘটনা ঘটার কথা নয়। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ছিল। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও ছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘নির্বাচন প্রশ্নবোধক হলে আমাদেরও কৈফিয়ত দিতে হবে।’

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আমাদের নেতাকর্মীরা যেভাবে কাজ করেছে- আমি তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে আনিসুল হক বিজয়ী হন, তখন তাবিথ আউয়াল বেলা ১১টার মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। এবার শেষ পর্যন্ত ছিল।

এদিকে সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির কার্যালয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ দাবি করেন, এত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গত ১০০ বছরে হয়নি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, মির্জা ফখরুল যেসব অভিযোগ করেছেন সেগুলো আগেই লিখে রেখেছিলেন। সব অভিযোগ নির্লজ্জ মিথ্যাচার। ‘ইভিএমে ধানের শীষ প্রতীক ছিল না’- বিএনপির এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, কোথাও এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপি শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকায় তাদের ধন্যবাদও জানান হানিফ।

ভোট কম পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে হানিফ বলেন, সরকারি ছুটি এবং গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনেক ভোটার আগ্রহ প্রকাশ করেনি, প্রত্যাশার চেয়ে কম ভোট হয়েছে। ভোট দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়াকে আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিএনপির দাবির জবাবে হানিফ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি।

এর আগে সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগের উত্তরের প্রার্থী আতিকুল ইসলামের বনানীর নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা নিয়ে রাজনীতি করতে চাই, জনগণকে জিম্মি করে নয়। আমাদের নেত্রী তো বলেছেন- ‘যার ভোট সে দেবে, যাকে খুশি তাকে দেবে।’ আমরা এই নীতিতেই বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে কারচুপির সুযোগ নেই। মিডিয়া থেকে শুরু করে সবাই মনিটরিং করছে। আমরা কারচুপির নির্বাচনে বিশ্বাস করি না। তিনি বলেন, তারা যদি কোথাও এজেন্ট না দেয় এর দায়িত্ব কে নেবে? এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম প্রমুখ।

দুপুর ১২টায় দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক দাবি করেন, নির্বাচনে সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোট হচ্ছে। ভোটার উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, শীতের সকাল, তিন দিনের ছুটি হওয়ার কারণে ভোটারদেরও এক ধরনের অলসতা কাজ করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। এজন্যই সব কেন্দ্রে হয়তো এজেন্ট দিতে পারেনি। তিনি বলেন, ইভিএম মেশিন থাকলে কোনো পোলিং এজেন্টের দরকার নেই। কারণ ইভিএম মেশিন নিজেই পাহারা দেয়। বুড়ো আঙুলের ছাপ না দেয়া পর্যন্ত কেউই ভোট দিতে পারবে না।

এ সময় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন, ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান, সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে ধানমণ্ডির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ৫৪ লাখ ভোটারের মহানগর ঢাকা। এই নির্বাচন অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠুভাবে হয়েছে।

বিএনপির দাবি নতুন নয় : নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হিসেবে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম বলে তিনি স্বীকার করেন। কিছু কেন্দ্রে সংঘর্ষ ও বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির এই দাবি নতুন কিছু নয়।’ শনিবার রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে কোনো নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তার পরও যদি কেউ অভিযোগ করেন তদন্ত করে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে মন্ত্রী বলেন।

হরতালে মাঠে থাকবে আ’লীগ : দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে ডাকা বিএনপির সকাল-সন্ধ্যা হরতাল প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে শনিবার রাতে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, প্রতিটি এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থেকে হরতাল প্রতিহত করবে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ সবাই বলেছেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।’ নির্বাচনে কারচুপির কথা প্রার্থীরা নিজেরাও কিন্তু বলতে পারেননি। এরপরও শুধু পরাজয়ের আশঙ্কায় বা নিশ্চিত পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে তড়িঘড়ি করে হরতাল ডেকে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ দিয়েছে। আমরা এ ধরনের কর্মসূচির কঠোর নিন্দা জানাই। তিনি বলেন, হরতালের মতো কর্মসূচি ঢাকাবাসী মেনে নেবে না। আওয়ামী লীগের এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ জনগণ প্রস্তুত আছে।

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া: অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে

ছুটি, যানবাহনের অপ্রতুলতা ও অসুস্থতায় ভোটার উপস্থিতি কম * ইভিএম মেশিনই পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেছে
 যুগান্তর রিপোর্ট 
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ১০০ বছরের ইতিহাসে এত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়নি বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। তারা বলেছেন, নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়েছে। ইভিএম মেশিনই পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেছে। একই সঙ্গে ভোট পদ্ধতির পরিবর্তন, দীর্ঘ ছুটির কারণে ঢাকার ভোটারদের বাড়ি যাওয়া, যানবাহনের অপ্রতুলতা এবং অসুস্থতার কারণে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল।

শনিবার ভোট শুরুর পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দলীয় সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং বনানীর অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা এসব কথা বলেন। বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকায় তাদের ধন্যবাদও জানান নেতারা। তবে বিএনপি জিততে নয়, ভোটকে বিতর্কিত করতেই মাঠে ছিল বলেও দাবি তাদের।

বিকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্রে না থাকা নিয়ে বলেন, বিএনপি প্রার্থীরা বলেছিলেন, তারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন, সব দেখবেন। কিন্তু আজ তাদের দেখা যায়নি। ভরাডুবি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই তারা সরে গেছেন।

ইভিএম প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ইভিএম নিয়ে যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছিল ভোটাররা কেন্দ্রে এসে তা দূর করেছেন। বুঝিয়ে দিলেন ইভিএমে ভোট দেয়া যায়, এটা আজ প্রমাণিত। ইভিএমে যে ভোট চুরির সুযোগ নেই সেটাও প্রমাণিত। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক ও আবদর রহমান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন মায়া ও অ্যাড. কামরুল ইসলাম, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যায় উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য উত্তরের দলীয় প্রার্থীর সমন্বয়ক তোফায়েল আহমেদ বনানীর অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ে বলেন, আগে জাল ভোট হতো। ইভিএমে সেই সুযোগ ছিল না। বিদেশি পর্যবেক্ষক বিশেষ করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার, মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা ঘুরে দেখে বলেছেন, ‘নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়েছে।’

তোফায়েল বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে বিএনপি নানা অপপ্রচার করে আসছিল। এখন বলছে, এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। এ রকম কোনো ঘটনা ঘটার কথা নয়। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ছিল। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও ছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘নির্বাচন প্রশ্নবোধক হলে আমাদেরও কৈফিয়ত দিতে হবে।’

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আমাদের নেতাকর্মীরা যেভাবে কাজ করেছে- আমি তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে আনিসুল হক বিজয়ী হন, তখন তাবিথ আউয়াল বেলা ১১টার মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। এবার শেষ পর্যন্ত ছিল।

এদিকে সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির কার্যালয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ দাবি করেন, এত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গত ১০০ বছরে হয়নি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, মির্জা ফখরুল যেসব অভিযোগ করেছেন সেগুলো আগেই লিখে রেখেছিলেন। সব অভিযোগ নির্লজ্জ মিথ্যাচার। ‘ইভিএমে ধানের শীষ প্রতীক ছিল না’- বিএনপির এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, কোথাও এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপি শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকায় তাদের ধন্যবাদও জানান হানিফ।

ভোট কম পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে হানিফ বলেন, সরকারি ছুটি এবং গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনেক ভোটার আগ্রহ প্রকাশ করেনি, প্রত্যাশার চেয়ে কম ভোট হয়েছে। ভোট দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়াকে আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিএনপির দাবির জবাবে হানিফ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি।

এর আগে সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগের উত্তরের প্রার্থী আতিকুল ইসলামের বনানীর নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা নিয়ে রাজনীতি করতে চাই, জনগণকে জিম্মি করে নয়। আমাদের নেত্রী তো বলেছেন- ‘যার ভোট সে দেবে, যাকে খুশি তাকে দেবে।’ আমরা এই নীতিতেই বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে কারচুপির সুযোগ নেই। মিডিয়া থেকে শুরু করে সবাই মনিটরিং করছে। আমরা কারচুপির নির্বাচনে বিশ্বাস করি না। তিনি বলেন, তারা যদি কোথাও এজেন্ট না দেয় এর দায়িত্ব কে নেবে? এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম প্রমুখ।

দুপুর ১২টায় দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক দাবি করেন, নির্বাচনে সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোট হচ্ছে। ভোটার উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, শীতের সকাল, তিন দিনের ছুটি হওয়ার কারণে ভোটারদেরও এক ধরনের অলসতা কাজ করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। এজন্যই সব কেন্দ্রে হয়তো এজেন্ট দিতে পারেনি। তিনি বলেন, ইভিএম মেশিন থাকলে কোনো পোলিং এজেন্টের দরকার নেই। কারণ ইভিএম মেশিন নিজেই পাহারা দেয়। বুড়ো আঙুলের ছাপ না দেয়া পর্যন্ত কেউই ভোট দিতে পারবে না।

এ সময় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন, ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান, সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে ধানমণ্ডির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ৫৪ লাখ ভোটারের মহানগর ঢাকা। এই নির্বাচন অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠুভাবে হয়েছে।

বিএনপির দাবি নতুন নয় : নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হিসেবে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম বলে তিনি স্বীকার করেন। কিছু কেন্দ্রে সংঘর্ষ ও বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির এই দাবি নতুন কিছু নয়।’ শনিবার রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে কোনো নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তার পরও যদি কেউ অভিযোগ করেন তদন্ত করে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে মন্ত্রী বলেন।

হরতালে মাঠে থাকবে আ’লীগ : দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে ডাকা বিএনপির সকাল-সন্ধ্যা হরতাল প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে শনিবার রাতে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, প্রতিটি এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থেকে হরতাল প্রতিহত করবে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ সবাই বলেছেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।’ নির্বাচনে কারচুপির কথা প্রার্থীরা নিজেরাও কিন্তু বলতে পারেননি। এরপরও শুধু পরাজয়ের আশঙ্কায় বা নিশ্চিত পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে তড়িঘড়ি করে হরতাল ডেকে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ দিয়েছে। আমরা এ ধরনের কর্মসূচির কঠোর নিন্দা জানাই। তিনি বলেন, হরতালের মতো কর্মসূচি ঢাকাবাসী মেনে নেবে না। আওয়ামী লীগের এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ জনগণ প্রস্তুত আছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন