ইভিএমে বিড়ম্বনার পাশাপাশি ছিল সন্তুষ্টিও
jugantor
ইভিএমে বিড়ম্বনার পাশাপাশি ছিল সন্তুষ্টিও

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিতে এবার অনেকেই বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। আঙুলের ছাপ না মেলায় কেউ কেউ ভোট দিতে পারেননি। আবার আঙুলের ছাপ দিয়ে মেশিনটি খোলা হলেও কোনো কোনো ভোটারকে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। ভোট দিতে গিয়ে খোদ বেগ পেতে হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাকেও। একাধিকবার চেষ্টা করে আঙুলের ছাপ মেলাতে হয়েছে তাকেও। তবে বিড়ম্বনার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন ভোটার দ্রুত ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন।

হাজারীবাগের গজমহল উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছিলেন ৮০-ঊর্ধ্ব বয়সী সেলিম খান। ভোটার তালিকার সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম ও ছবির মিল থাকলেও আঙুলের ছাপ মেলেনি। প্রায় বিশ মিনিট চেষ্টার পর বিফল হলে পাশের একটি বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

সকাল দশটার দিকে এ প্রতিবেদককে দেখে সেলিম খান বলেন, এ বয়সে কত কষ্ট করে এলাম ভোট দিতে। এখন আঙুলের ছাপ না মেলায় আমাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, পরে নাকি ভোটের ব্যবস্থা করে দেবেন। এভাবে কেন্দ্র আসা অন্তত অর্ধশতাধিক ভোটার ওই কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে আঙুলের ছাপ না মেলার কারণে ভোট না দিয়ে ফেরত যেতে দেখা গেছে। ওই কেন্দ্রে আসা গজমহলের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম (৫০), রহমত উল্লাহ (৬৫), নুরুল হক (৫২), সিরাজুল ইসলাম (৩৫), দ্বীন ইসলাম (২৫), রিয়াজ (৩২), আবু তাহের (৪০) ও ঝাউচরের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোটকেন্দ্র থেকে ফেরত গেছেন।

এ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন পঁচাত্তর বয়সী লুৎফুর রহমান। প্রথমে তার আঙুলের ছাপ মেলেনি। প্রায় পনের মিনিট চেষ্টার পর আঙুলের ছাপ মিলেছে। কিন্তু গোপন কক্ষে গিয়ে ইভিএম মেশিনে ভোট দিতে পারছিলেন না। পরে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মঞ্জুরুল আলম গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন। এ বিষয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রায়হান আহমেদ বলেন, আঙুলের ছাপ না মেলার বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটা কোনো বড় সমস্যা নয়। পানি দিয়ে হাত দেয়ার পর কারও কারও আঙুলের ছাপের সমস্যার সমাধান হচ্ছে। তিনি বলেন, ইভিএমে আঙুলের ছাপ না মিললে ১ শতাংশ ভোটারকে ভোট দেয়ার সুযোগ রাখা রয়েছে। তবে এরই মধ্যে ১ শতাংশের বেশি ভোট এভাবে দেয়া হয়ে গেছে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শনিবার দুপুর ১টার দিকে ভোট দিতে এসেছিলেন এক ব্যক্তি। কিছুক্ষণ পর বুথ থেকে বের হয়েই চিৎকার শুরু করেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে তাকে ঘিরে কিছু মানুষ জড়ো হয়। জানা যায়, ওই ব্যক্তি ভোট দেয়ার সব কাজ করেছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে আঙুলের ছাপও দিয়েছিলেন। তবে ভোট দেয়ার বাটনে চাপ দিতে পারেননি। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি বাটন চাপ দিয়ে তার ভোট দিয়ে দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি জানান, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন তার ভোট বাটন চেপে দিয়ে দিয়েছেন।

সংসদ ভবনের উল্টোদিকে রাজধানী স্কুলে প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানান দু’জন ভোটার। তাদের অভিযোগ, সব প্রক্রিয়া শেষ করার পর বাটন চাপার সময় অন্য ব্যক্তি এসে ভোটারদের একটি প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করেন। ওই দু’জন ভোটার জানান, এমন দৃশ্য দেখে তারা ভোট না দিয়েই চলে এসেছেন।

রাজাবাজারের নাজনীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নারীদের একটি কক্ষে এক নারী ভোটারকে ভোট দেয়ার উপায় বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন দায়িত্বরত পোলিং কর্মকর্তা। তার সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন নৌকা ও লাটিম মার্কার এক নারী এজেন্ট। তিনি প্রথমে ভোটারের সঙ্গে গোপন কক্ষে ঢুকতে গেলে আরেক এজেন্ট সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে ইশারায় নিষেধ করেন। পরে ভোটার ভোটকক্ষে ঢুকলে ওই নারী এজেন্ট ভেতরে যান।

এ বিষয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করলে বলেন, ভোটার সাহায্যের জন্য ডেকেছেন। কিন্তু সাহায্যের জন্য পোলিং এজেন্ট বা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা না গিয়ে প্রার্থীর এজেন্ট কেন ঢুকলেন, জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর দেননি। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি বলেন, কেউ এসে কোনো ব্যাপারে অভিযোগ করেনি।

মিরপুর উদয়ন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ইউসুফ আলী শনিবার সকাল ৮টায় ভোটকক্ষ ৫-এ ভোট দিতে আসেন। পেশায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা ইউসুফ কয়েকবার চেষ্টা করার পরও ভোট দিতে পারেননি। পরে আবার বেলা সাড়ে ১১টায় আসেন। তখনও আঙুলের ছাপ না মেলায় সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সহায়তায় ভোট দেন তিনি। এছাড়া আঙুলের ছাপ না মেলায় আরও চারজনকে হাত ধুয়ে আবার আসতে বলা হয়। এই কেন্দ্রের অন্য বুথেও একই দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে।

মিরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭৩ বছর বয়সী এক নারী আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিয়েই চলে গেছেন। তিনি বলেন, এত ভোট দিছি। কোনোদিন এমন হয়নি। বুড়ো বয়সে এসে ভোট দিতে পারলাম না।

ভোটকেন্দ্রের যে গোপন কক্ষে ভোটার তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন, সেখানে অবস্থান নিয়ে এক প্রার্থীর পক্ষে একজন নারী ভোটারকে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে দক্ষিণ সিটির কদমতলা পূর্ব বাসাবো স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের কেন্দ্রটি নারী ভোটারের। আমি ভোট কক্ষে ঢুকে দেখি দুই যুবক গোপন কক্ষ থেকে একজন নারী ভোটারকে নিয়ে বেরোচ্ছেন। এরপর আমার শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে গোপন কক্ষে ভোট দেয়ার জন্য যাই। সেখানে গিয়ে দেখি একজন মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে আমার ডিউটি। এরপর চল্লিশোর্ধ্ব ওই মহিলা মেয়র ও কাউন্সিলর পদে তার পছন্দমতো ভোট দিতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। এ বিষয়ে জানতে ঢাকা দক্ষিণের ২, ৩, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শানিয়াজ্জামান তালুকদার বলেন, গোপন কক্ষে এ ধরনের লোক বসে থাকার একটি অভিযোগ আমিও শুনেছি। কেন্দ্রের বাইরে এসে একজন ফোনে জানিয়েছে। গোপন কক্ষে এ ধরনের লোক বসে থাকা পুরোপুরি অনিয়ম। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলেছি।

এদিকে যাত্রাবাড়ী শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ নম্বর কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর ফল ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে (ইভিএম) ভোট দিলাম। খুব ভালো লাগল। এ পদ্ধতিই ভালো। বয়স হয়ে গেছে। এখন আর দেরি পছন্দ হয় না।

শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহিলা ভোটকেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা গৃহিণী মোমেনা বেগম বলেন, ভোট দিতে পেরে আমি আনন্দিত। আগেও ভোট দিয়েছি, তবে এমন দ্রুত হয়নি। ভোট দিতে কোনো ঝামেলা হয়নি। ইভিএমই ভালো।

ইভিএমে বিড়ম্বনার পাশাপাশি ছিল সন্তুষ্টিও

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিতে এবার অনেকেই বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। আঙুলের ছাপ না মেলায় কেউ কেউ ভোট দিতে পারেননি। আবার আঙুলের ছাপ দিয়ে মেশিনটি খোলা হলেও কোনো কোনো ভোটারকে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। ভোট দিতে গিয়ে খোদ বেগ পেতে হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাকেও। একাধিকবার চেষ্টা করে আঙুলের ছাপ মেলাতে হয়েছে তাকেও। তবে বিড়ম্বনার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন ভোটার দ্রুত ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন।

হাজারীবাগের গজমহল উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছিলেন ৮০-ঊর্ধ্ব বয়সী সেলিম খান। ভোটার তালিকার সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম ও ছবির মিল থাকলেও আঙুলের ছাপ মেলেনি। প্রায় বিশ মিনিট চেষ্টার পর বিফল হলে পাশের একটি বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

সকাল দশটার দিকে এ প্রতিবেদককে দেখে সেলিম খান বলেন, এ বয়সে কত কষ্ট করে এলাম ভোট দিতে। এখন আঙুলের ছাপ না মেলায় আমাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, পরে নাকি ভোটের ব্যবস্থা করে দেবেন। এভাবে কেন্দ্র আসা অন্তত অর্ধশতাধিক ভোটার ওই কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে আঙুলের ছাপ না মেলার কারণে ভোট না দিয়ে ফেরত যেতে দেখা গেছে। ওই কেন্দ্রে আসা গজমহলের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম (৫০), রহমত উল্লাহ (৬৫), নুরুল হক (৫২), সিরাজুল ইসলাম (৩৫), দ্বীন ইসলাম (২৫), রিয়াজ (৩২), আবু তাহের (৪০) ও ঝাউচরের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোটকেন্দ্র থেকে ফেরত গেছেন।

এ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন পঁচাত্তর বয়সী লুৎফুর রহমান। প্রথমে তার আঙুলের ছাপ মেলেনি। প্রায় পনের মিনিট চেষ্টার পর আঙুলের ছাপ মিলেছে। কিন্তু গোপন কক্ষে গিয়ে ইভিএম মেশিনে ভোট দিতে পারছিলেন না। পরে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মঞ্জুরুল আলম গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন। এ বিষয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রায়হান আহমেদ বলেন, আঙুলের ছাপ না মেলার বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটা কোনো বড় সমস্যা নয়। পানি দিয়ে হাত দেয়ার পর কারও কারও আঙুলের ছাপের সমস্যার সমাধান হচ্ছে। তিনি বলেন, ইভিএমে আঙুলের ছাপ না মিললে ১ শতাংশ ভোটারকে ভোট দেয়ার সুযোগ রাখা রয়েছে। তবে এরই মধ্যে ১ শতাংশের বেশি ভোট এভাবে দেয়া হয়ে গেছে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শনিবার দুপুর ১টার দিকে ভোট দিতে এসেছিলেন এক ব্যক্তি। কিছুক্ষণ পর বুথ থেকে বের হয়েই চিৎকার শুরু করেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে তাকে ঘিরে কিছু মানুষ জড়ো হয়। জানা যায়, ওই ব্যক্তি ভোট দেয়ার সব কাজ করেছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে আঙুলের ছাপও দিয়েছিলেন। তবে ভোট দেয়ার বাটনে চাপ দিতে পারেননি। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি বাটন চাপ দিয়ে তার ভোট দিয়ে দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি জানান, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন তার ভোট বাটন চেপে দিয়ে দিয়েছেন।

সংসদ ভবনের উল্টোদিকে রাজধানী স্কুলে প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানান দু’জন ভোটার। তাদের অভিযোগ, সব প্রক্রিয়া শেষ করার পর বাটন চাপার সময় অন্য ব্যক্তি এসে ভোটারদের একটি প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করেন। ওই দু’জন ভোটার জানান, এমন দৃশ্য দেখে তারা ভোট না দিয়েই চলে এসেছেন।

রাজাবাজারের নাজনীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নারীদের একটি কক্ষে এক নারী ভোটারকে ভোট দেয়ার উপায় বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন দায়িত্বরত পোলিং কর্মকর্তা। তার সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন নৌকা ও লাটিম মার্কার এক নারী এজেন্ট। তিনি প্রথমে ভোটারের সঙ্গে গোপন কক্ষে ঢুকতে গেলে আরেক এজেন্ট সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে ইশারায় নিষেধ করেন। পরে ভোটার ভোটকক্ষে ঢুকলে ওই নারী এজেন্ট ভেতরে যান।

এ বিষয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করলে বলেন, ভোটার সাহায্যের জন্য ডেকেছেন। কিন্তু সাহায্যের জন্য পোলিং এজেন্ট বা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা না গিয়ে প্রার্থীর এজেন্ট কেন ঢুকলেন, জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর দেননি। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি বলেন, কেউ এসে কোনো ব্যাপারে অভিযোগ করেনি।

মিরপুর উদয়ন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ইউসুফ আলী শনিবার সকাল ৮টায় ভোটকক্ষ ৫-এ ভোট দিতে আসেন। পেশায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা ইউসুফ কয়েকবার চেষ্টা করার পরও ভোট দিতে পারেননি। পরে আবার বেলা সাড়ে ১১টায় আসেন। তখনও আঙুলের ছাপ না মেলায় সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সহায়তায় ভোট দেন তিনি। এছাড়া আঙুলের ছাপ না মেলায় আরও চারজনকে হাত ধুয়ে আবার আসতে বলা হয়। এই কেন্দ্রের অন্য বুথেও একই দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে।

মিরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭৩ বছর বয়সী এক নারী আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিয়েই চলে গেছেন। তিনি বলেন, এত ভোট দিছি। কোনোদিন এমন হয়নি। বুড়ো বয়সে এসে ভোট দিতে পারলাম না।

ভোটকেন্দ্রের যে গোপন কক্ষে ভোটার তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন, সেখানে অবস্থান নিয়ে এক প্রার্থীর পক্ষে একজন নারী ভোটারকে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে দক্ষিণ সিটির কদমতলা পূর্ব বাসাবো স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের কেন্দ্রটি নারী ভোটারের। আমি ভোট কক্ষে ঢুকে দেখি দুই যুবক গোপন কক্ষ থেকে একজন নারী ভোটারকে নিয়ে বেরোচ্ছেন। এরপর আমার শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে গোপন কক্ষে ভোট দেয়ার জন্য যাই। সেখানে গিয়ে দেখি একজন মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে আমার ডিউটি। এরপর চল্লিশোর্ধ্ব ওই মহিলা মেয়র ও কাউন্সিলর পদে তার পছন্দমতো ভোট দিতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। এ বিষয়ে জানতে ঢাকা দক্ষিণের ২, ৩, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শানিয়াজ্জামান তালুকদার বলেন, গোপন কক্ষে এ ধরনের লোক বসে থাকার একটি অভিযোগ আমিও শুনেছি। কেন্দ্রের বাইরে এসে একজন ফোনে জানিয়েছে। গোপন কক্ষে এ ধরনের লোক বসে থাকা পুরোপুরি অনিয়ম। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলেছি।

এদিকে যাত্রাবাড়ী শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ নম্বর কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর ফল ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে (ইভিএম) ভোট দিলাম। খুব ভালো লাগল। এ পদ্ধতিই ভালো। বয়স হয়ে গেছে। এখন আর দেরি পছন্দ হয় না।

শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহিলা ভোটকেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা গৃহিণী মোমেনা বেগম বলেন, ভোট দিতে পেরে আমি আনন্দিত। আগেও ভোট দিয়েছি, তবে এমন দ্রুত হয়নি। ভোট দিতে কোনো ঝামেলা হয়নি। ইভিএমই ভালো।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন-২০২০

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০