ঢাকায় ভর্তি ৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস নেই
jugantor
চীনে আক্রান্ত ১৪ হাজার, মৃত্যু ৩০৪ জন
ঢাকায় ভর্তি ৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস নেই
চীনা নাগরিকদের ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা স্থগিত * অভিযোগ- হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে না

  রাশেদ রাব্বি  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকায় ভর্তি ৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস নেই

উচ্চ তাপমাত্রা নিয়ে উহান থেকে আসা ৮ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও সিএমএইচে ভর্তি এই ৮ রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার সকালেই তাদের দুই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে চীনসহ বিশ্বের ১৬ দেশে ১৪ হাজারের বেশি এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

মৃত্যু হয়েছে ৩০৪ জনের। মৃতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে চীন। পরিস্থিতি বিবেচনায় চীনা নাগরিকদের ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা সুবিধা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোয়।

হজ ক্যাম্পে অবস্থানরত চীন থেকে আসা ৩০২ জনের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যেককে দেয়া হয়েছে পৃথক টয়লেট্রিজ সামগ্রী। তারা অভিযোগ করেছেন- হজ ক্যাম্পে যথাযথ কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করোনাভাইরাস পৃথিবীকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্ববাসী ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছে। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান সিটিতে নতুন করোনাভাইরাসের (2019-nCoV) প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমান বিশ্বে মানুষ বিপদাপন্ন সময় পার করছে বলে মন্তব্য করা হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রটেও সায়েন্স সেন্টারের চিকিৎসাবিজ্ঞানী ড. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর। ‘মলিকিউল এপিডেমিওলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি অব নবেল করোনাভাইরাস হাইপস অ্যান্ড হোপস’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে তিনি বলেন, এই ভাইরাসের বর্তমানে ‘সুপার স্পেড’ হচ্ছে। এই সময় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে ‘সুপার স্পেড’র রহস্য উন্মোচন করতে হবে। এ ভাইরাসের ভয়াবহতা নিরূপণে পৃথিবীর চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করেছেন।

ইতিমধ্যে সায়েন্স, ন্যাচার ও ল্যানস্যাটের মতো জার্নালে ১৩০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

ড. আকবর বলেন, চীন থেকে আসা ৩০২ জন বাংলাদেশিকে যেভাবে হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে সেটা কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নয়। কোয়ারেন্টাইনে প্রত্যেককে আলাদাভাবে রাখতে হয়। একজন আরেক জনের সংস্পর্শে না এসে যেন প্রত্যেকেই নিরাপদে থাকতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়।

ঢাকার মতো শহরে এ ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক আইইডিসিআরের সাবেক একজন পরিচালক ড. আকবরের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকার হজ ক্যাম্পে যেটা করেছে সেটা কোনোভাবেই কোয়ারেন্টাইন নয়।

এখানে একসঙ্গে অনেককে রাখা হয়েছে। এদের একজন অসুস্থ হলে অন্যরাও ঝুঁকিতে পড়বে। তাছাড়া তারা সবাই একসঙ্গে খাবার খাচ্ছে। এমনকি একই বাথরুম ব্যবহার করছে। এসব ক্ষেত্রে যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা যে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা করেছি, সেটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী। দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করেই এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অর্থাৎ আমেরিকা বা ইউরোপের কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা আর আফ্রিকার ব্যবস্থা এক হবে না।

হজ ক্যাম্পে অবস্থানরত ৩০২ জনের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা ভালো আছেন। তাদের প্রত্যেককে আলাদা স্যান্ডেল, ব্রাশ-পেস্টসহ টয়লেট্রিজ সামগ্রী দেয়া হয়েছে। সেখানে থাকতে তারা যেন বিরক্ত না হয়, সে জন্য ক্যাবল লাইনসহ টিভি এবং ওয়াই-ফাইর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা হয়তো চীনে আরও ভালো পরিবেশে ছিলেন।

কিন্তু যেহেতু তারা দেশে আসতে চেয়েছেন, তাই সরকার তাদের এনেছে। তারা সবাই বাড়ি যেত পারত। শুধু নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের এখানে রাখা হয়েছে।

সিএমএইচে ভর্তি রোগীর প্রসঙ্গে অধ্যাপক আজাদ বলেন, তিনি একজন নার্স। তিনি সুস্থ আছেন, তার শরীরে সামান্য জ্বর ছিল। তিনি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তাকে অন্যদের সঙ্গে না রেখে সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুটি পরিবার হজ ক্যাম্পে রয়েছে, যাদের বাচ্চার বয়স দুই বছরের নিচে।

তাদেরও সিএমএইচে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আশার কথা হল- কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও সিএমএইচে যে ৮ জন রোগী রয়েছেন তদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কারও শরীরে এ ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাদের সবাইকে হাসপাতাল থেকে হজ ক্যাম্পে সরিয়ে নেয়া হবে।

ড. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয়েছে বলে সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য ফ্রান্সের পাস্তুর ইন্সটিটিউট ভ্যাক্সিন তৈরিতে কাজ শুরু করেছে। তবে ২০২১ সালের আগে সেটি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তাই এ ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে সবাইকে ভাইরাল প্রটেক্টেড মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মাস্ক ব্যবহারে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নিরাপদ থাকা সম্ভব। এ ছাড়া হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাবান লাগিয়ে ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটি : স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) জনাব হাবিবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মঈনুল আহসানকে সদস্য-সচিব করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করা হবে।

তিনশ’ ছাড়াল করোনাভাইরাসে মৃত্যু : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৩০৫ জনে পৌঁছেছে। এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্তের মধ্য দিয়ে চীনে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও গণপরিবহন বন্ধ করেও এ ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না।

চীনের বাইরে প্রথম এ ভাইরাসে মৃত্যুর খবর এসেছে ফিলিপিন্স থেকে। তিনি চীনেরই একজন নাগরিক। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার একদিনেই নতুন করে ২ হাজার ৫৯০ জনের শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে চীনে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩৮০ জনে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চীনা নাগরিকদের ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা স্থগিত : করোনাভাইরাসের কারণে চীনা নাগরিকদের ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা সুবিধা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে ‘বৈশ্বিক সতর্কতা জারি’ করায় বাংলাদেশ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনা রাষ্ট্রদূতকে এ ব্যাপারে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এই বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা থাকাকালে, বিশেষ করে, আগামী এক মাসের মধ্যে ঢাকায় থাকা কোনো চীনা নাগরিক যেন ছুটিতে দেশে না যান। বাংলাদেশে চলামান চীনের বিভিন্ন প্রজেক্টে চীন থেকে নতুন করে যেন কোনো লোক না আনা হয়।

‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা সুবিধার আওতায় চীনা নাগরিকরা এতদিন বাংলাদেশের কোনো বিমানবন্দরে নেমেই ভিসা নিতে পারতেন। সেই সুবিধা স্থগিত করা হলেও চীনা নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ হচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তারা ভিসার জন্য সেখান থেকে নিয়মমাফিক আবেদন করতে পারবেন, তারা ফিট আছেন- এমন মেডিকেল সার্টিফিকেট আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে। যদিও গত সপ্তাহে বৈশ্বিক সতর্কতা জারির সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাণিজ্য বা ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছিল।

সতর্ক অবস্থায় সমুদ্র ও স্থলবন্দর : ‘করোনাভাইরাস’ নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা বন্দর এবং বেনাপোল স্থলবন্দরসহ অন্যান্য স্থলবন্দর। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরে দু’স্তরের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

থার্মাল ও কোয়ারেন্টাইন টেস্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রবেশ প্রতিরোধে জাহাজের ক্যাপ্টেন এবং এজেন্ট কর্তৃক জাহাজ বহির্নোঙরে আসার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ ঘোষণা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

নয়টি ফ্লাইটে আসছে চীনের যাত্রী : গত ২১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা পর্যন্ত চীন থেকে মোট পাঁচ হাজার ৫৪৬ চীনা নাগরিক ও বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। সরকারি হিসাবে চায়না ইস্টার্ন, চায়না সাউদার্ন, ড্রাগন এয়ার ও ইউএস-বাংলা- এ চার ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের হিসাব করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্যানার ও হ্যান্ড স্ক্যানারে শুধু এ চার ফ্লাইটের যাত্রীদের স্ক্যানিং ও নিবিড়ভাবে স্ক্যানিং করা হচ্ছে।

কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ চারটি ফ্লাইট ছাড়াও আরও কমপক্ষে পাঁচটি ফ্লাইটে চীন থেকে যাত্রী পরিবহনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। শনিবার নেপালের হিমালিয়ান ফ্লাইটে চীনে অধ্যয়নরত কমপক্ষে ১৬ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশে ফেরেন। তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের থাইল্যান্ড হয়ে দেশে ফেরার কথা জানান।

শাহজালাল বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ৯টি ফ্লাইটে চীন থেকে যাত্রী আসার তথ্য পাওয়া গেছে।

চীনে থাকাটাই ভালো ছিল : চীন থকে আসার জন্য উদ্গ্রীব ছিলাম আমাদের বাচ্চাদের জন্য। কিন্তু এখানে এসে দেখি হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইনে বাচ্চাদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এর চেয়ে চীনে থাকাটাই ভালো ছিল।

অনেকটা আক্ষেপের সুরে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন আশকোনায় হজ ক্যাম্পে থাকা দুই সন্তানের মা ফারজানা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, হজ ক্যাম্পে আসার পর ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে।

কিন্তু এখানে নিজের দুই বাচ্চা নিয়ে বেকায়দাতেই তাকে পড়তে হয়েছে। বড়রা সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকতে পারে কিন্তু বাচ্চারা তো পারে না। পিএইচডি করতে স্বামী আর সন্তানদের সঙ্গে চীনে গিয়েছিলেন ফারজানা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, তারা সুরক্ষার জন্য দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চান। যাতে এ ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে।

কিন্তু হজ ক্যাম্পের পরিবেশ কোয়ারেন্টাইনের উপযুক্ত কি না সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ইয়াসমিন জানান, কোয়ারেন্টাইন তো করা হয় আলাদা আলাদাভাবে। এখন লোকের সংস্পর্শে এসেই যদি এরা কোয়ারেন্টাইন করে তাহলে এটা কি হলো। একই রুমের মধ্যে আমরা গ্যাদারিং করে পড়ে আছি। আমাদের রুমেই ৪০-৫০ জন হবে। এই রুমেই আছে ৮টা পরিবার। এদের মধ্যে বাচ্চারাও আছে। আবার ব্যাচেলরও আছে। গরম পানির ব্যবস্থা নেই। বাচ্চাকে দুধটা খাওয়ানোর মতোও পানি নেই।

চীনে আক্রান্ত ১৪ হাজার, মৃত্যু ৩০৪ জন

ঢাকায় ভর্তি ৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস নেই

চীনা নাগরিকদের ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা স্থগিত * অভিযোগ- হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে না
 রাশেদ রাব্বি 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকায় ভর্তি ৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস নেই
ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ তাপমাত্রা নিয়ে উহান থেকে আসা ৮ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও সিএমএইচে ভর্তি এই ৮ রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার সকালেই তাদের দুই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে চীনসহ বিশ্বের ১৬ দেশে ১৪ হাজারের বেশি এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

মৃত্যু হয়েছে ৩০৪ জনের। মৃতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে চীন। পরিস্থিতি বিবেচনায় চীনা নাগরিকদের ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা সুবিধা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোয়।

হজ ক্যাম্পে অবস্থানরত চীন থেকে আসা ৩০২ জনের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যেককে দেয়া হয়েছে পৃথক টয়লেট্রিজ সামগ্রী। তারা অভিযোগ করেছেন- হজ ক্যাম্পে যথাযথ কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করোনাভাইরাস পৃথিবীকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্ববাসী ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছে। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান সিটিতে নতুন করোনাভাইরাসের (2019-nCoV) প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমান বিশ্বে মানুষ বিপদাপন্ন সময় পার করছে বলে মন্তব্য করা হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রটেও সায়েন্স সেন্টারের চিকিৎসাবিজ্ঞানী ড. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর। ‘মলিকিউল এপিডেমিওলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি অব নবেল করোনাভাইরাস হাইপস অ্যান্ড হোপস’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে তিনি বলেন, এই ভাইরাসের বর্তমানে ‘সুপার স্পেড’ হচ্ছে। এই সময় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে ‘সুপার স্পেড’র রহস্য উন্মোচন করতে হবে। এ ভাইরাসের ভয়াবহতা নিরূপণে পৃথিবীর চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করেছেন।

ইতিমধ্যে সায়েন্স, ন্যাচার ও ল্যানস্যাটের মতো জার্নালে ১৩০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

ড. আকবর বলেন, চীন থেকে আসা ৩০২ জন বাংলাদেশিকে যেভাবে হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে সেটা কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নয়। কোয়ারেন্টাইনে প্রত্যেককে আলাদাভাবে রাখতে হয়। একজন আরেক জনের সংস্পর্শে না এসে যেন প্রত্যেকেই নিরাপদে থাকতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়।

ঢাকার মতো শহরে এ ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক আইইডিসিআরের সাবেক একজন পরিচালক ড. আকবরের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকার হজ ক্যাম্পে যেটা করেছে সেটা কোনোভাবেই কোয়ারেন্টাইন নয়।

এখানে একসঙ্গে অনেককে রাখা হয়েছে। এদের একজন অসুস্থ হলে অন্যরাও ঝুঁকিতে পড়বে। তাছাড়া তারা সবাই একসঙ্গে খাবার খাচ্ছে। এমনকি একই বাথরুম ব্যবহার করছে। এসব ক্ষেত্রে যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা যে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা করেছি, সেটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী। দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করেই এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অর্থাৎ আমেরিকা বা ইউরোপের কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা আর আফ্রিকার ব্যবস্থা এক হবে না।

হজ ক্যাম্পে অবস্থানরত ৩০২ জনের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা ভালো আছেন। তাদের প্রত্যেককে আলাদা স্যান্ডেল, ব্রাশ-পেস্টসহ টয়লেট্রিজ সামগ্রী দেয়া হয়েছে। সেখানে থাকতে তারা যেন বিরক্ত না হয়, সে জন্য ক্যাবল লাইনসহ টিভি এবং ওয়াই-ফাইর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা হয়তো চীনে আরও ভালো পরিবেশে ছিলেন।

কিন্তু যেহেতু তারা দেশে আসতে চেয়েছেন, তাই সরকার তাদের এনেছে। তারা সবাই বাড়ি যেত পারত। শুধু নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের এখানে রাখা হয়েছে।

সিএমএইচে ভর্তি রোগীর প্রসঙ্গে অধ্যাপক আজাদ বলেন, তিনি একজন নার্স। তিনি সুস্থ আছেন, তার শরীরে সামান্য জ্বর ছিল। তিনি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তাকে অন্যদের সঙ্গে না রেখে সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুটি পরিবার হজ ক্যাম্পে রয়েছে, যাদের বাচ্চার বয়স দুই বছরের নিচে।

তাদেরও সিএমএইচে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আশার কথা হল- কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও সিএমএইচে যে ৮ জন রোগী রয়েছেন তদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কারও শরীরে এ ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাদের সবাইকে হাসপাতাল থেকে হজ ক্যাম্পে সরিয়ে নেয়া হবে।

ড. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয়েছে বলে সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য ফ্রান্সের পাস্তুর ইন্সটিটিউট ভ্যাক্সিন তৈরিতে কাজ শুরু করেছে। তবে ২০২১ সালের আগে সেটি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তাই এ ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে সবাইকে ভাইরাল প্রটেক্টেড মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মাস্ক ব্যবহারে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নিরাপদ থাকা সম্ভব। এ ছাড়া হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাবান লাগিয়ে ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটি : স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) জনাব হাবিবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মঈনুল আহসানকে সদস্য-সচিব করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করা হবে।

তিনশ’ ছাড়াল করোনাভাইরাসে মৃত্যু : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৩০৫ জনে পৌঁছেছে। এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্তের মধ্য দিয়ে চীনে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও গণপরিবহন বন্ধ করেও এ ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না।

চীনের বাইরে প্রথম এ ভাইরাসে মৃত্যুর খবর এসেছে ফিলিপিন্স থেকে। তিনি চীনেরই একজন নাগরিক। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার একদিনেই নতুন করে ২ হাজার ৫৯০ জনের শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে চীনে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩৮০ জনে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চীনা নাগরিকদের ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা স্থগিত : করোনাভাইরাসের কারণে চীনা নাগরিকদের ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা সুবিধা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে ‘বৈশ্বিক সতর্কতা জারি’ করায় বাংলাদেশ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনা রাষ্ট্রদূতকে এ ব্যাপারে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এই বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা থাকাকালে, বিশেষ করে, আগামী এক মাসের মধ্যে ঢাকায় থাকা কোনো চীনা নাগরিক যেন ছুটিতে দেশে না যান। বাংলাদেশে চলামান চীনের বিভিন্ন প্রজেক্টে চীন থেকে নতুন করে যেন কোনো লোক না আনা হয়।

‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা সুবিধার আওতায় চীনা নাগরিকরা এতদিন বাংলাদেশের কোনো বিমানবন্দরে নেমেই ভিসা নিতে পারতেন। সেই সুবিধা স্থগিত করা হলেও চীনা নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ হচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তারা ভিসার জন্য সেখান থেকে নিয়মমাফিক আবেদন করতে পারবেন, তারা ফিট আছেন- এমন মেডিকেল সার্টিফিকেট আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে। যদিও গত সপ্তাহে বৈশ্বিক সতর্কতা জারির সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাণিজ্য বা ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছিল।

সতর্ক অবস্থায় সমুদ্র ও স্থলবন্দর : ‘করোনাভাইরাস’ নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা বন্দর এবং বেনাপোল স্থলবন্দরসহ অন্যান্য স্থলবন্দর। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরে দু’স্তরের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

থার্মাল ও কোয়ারেন্টাইন টেস্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রবেশ প্রতিরোধে জাহাজের ক্যাপ্টেন এবং এজেন্ট কর্তৃক জাহাজ বহির্নোঙরে আসার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ ঘোষণা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

নয়টি ফ্লাইটে আসছে চীনের যাত্রী : গত ২১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা পর্যন্ত চীন থেকে মোট পাঁচ হাজার ৫৪৬ চীনা নাগরিক ও বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। সরকারি হিসাবে চায়না ইস্টার্ন, চায়না সাউদার্ন, ড্রাগন এয়ার ও ইউএস-বাংলা- এ চার ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের হিসাব করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্যানার ও হ্যান্ড স্ক্যানারে শুধু এ চার ফ্লাইটের যাত্রীদের স্ক্যানিং ও নিবিড়ভাবে স্ক্যানিং করা হচ্ছে।

কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ চারটি ফ্লাইট ছাড়াও আরও কমপক্ষে পাঁচটি ফ্লাইটে চীন থেকে যাত্রী পরিবহনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। শনিবার নেপালের হিমালিয়ান ফ্লাইটে চীনে অধ্যয়নরত কমপক্ষে ১৬ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশে ফেরেন। তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের থাইল্যান্ড হয়ে দেশে ফেরার কথা জানান।

শাহজালাল বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ৯টি ফ্লাইটে চীন থেকে যাত্রী আসার তথ্য পাওয়া গেছে।

চীনে থাকাটাই ভালো ছিল : চীন থকে আসার জন্য উদ্গ্রীব ছিলাম আমাদের বাচ্চাদের জন্য। কিন্তু এখানে এসে দেখি হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইনে বাচ্চাদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এর চেয়ে চীনে থাকাটাই ভালো ছিল।

অনেকটা আক্ষেপের সুরে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন আশকোনায় হজ ক্যাম্পে থাকা দুই সন্তানের মা ফারজানা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, হজ ক্যাম্পে আসার পর ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে।

কিন্তু এখানে নিজের দুই বাচ্চা নিয়ে বেকায়দাতেই তাকে পড়তে হয়েছে। বড়রা সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকতে পারে কিন্তু বাচ্চারা তো পারে না। পিএইচডি করতে স্বামী আর সন্তানদের সঙ্গে চীনে গিয়েছিলেন ফারজানা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, তারা সুরক্ষার জন্য দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে চান। যাতে এ ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে।

কিন্তু হজ ক্যাম্পের পরিবেশ কোয়ারেন্টাইনের উপযুক্ত কি না সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ইয়াসমিন জানান, কোয়ারেন্টাইন তো করা হয় আলাদা আলাদাভাবে। এখন লোকের সংস্পর্শে এসেই যদি এরা কোয়ারেন্টাইন করে তাহলে এটা কি হলো। একই রুমের মধ্যে আমরা গ্যাদারিং করে পড়ে আছি। আমাদের রুমেই ৪০-৫০ জন হবে। এই রুমেই আছে ৮টা পরিবার। এদের মধ্যে বাচ্চারাও আছে। আবার ব্যাচেলরও আছে। গরম পানির ব্যবস্থা নেই। বাচ্চাকে দুধটা খাওয়ানোর মতোও পানি নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস