একুশ মানে মাথা নত না করা
jugantor
একুশ মানে মাথা নত না করা

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একুশ মানে মাথা নত না করা

একুশ মানে মাথা নত না করা, একুশ মানে এগিয়ে যাওয়া। আর এই শক্তি আমাদের দিয়েছে অমর একুশ এবং আমাদের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন।

একুশের এই শক্তির বলে বলীয়ান হয়েই আমরা এগিয়ে যাই। শুধু ভাষার এ মাসে নয়, একুশ আমাদের শক্তি জোগায় সারা বছর। বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষাকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়।

বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। আর উন্নতির এই সোপানে এগিয়ে যেতে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন প্রেরণা জোগায়, ঠিক একইভাবে প্রেরণা দেয় আমাদের ভাষা। কারণ আমরাই সেই জাতি, যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছি।

আর তার স্বীকৃতিস্বরূপ সারা বিশ্বে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। এটি আমাদের গর্ব, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের গর্ব।

মাতৃভাষার প্রতি আমাদের এই দরদ ফেব্রুয়ারি মাসে এসে আরও বেড়ে যায়। কারণ আমরা তখন ১৯৫২ সালের একুশের স্মৃতি স্মরণ করি। স্মরণ করি আমাদের সেই সব অকুতোভয় সংগ্রামীকে, যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন।

বাংলা ভাষার প্রতিও আমাদের তৈরি হয় অন্যরকম এক মমত্ববোধ। যার প্রকাশ ঘটে ফেব্রুয়ারির নানা আয়োজনে। যার অন্যতম ভাষা আন্দোলনের চেতনায় ঋদ্ধ আমাদের অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এই সময় এলে আমরা অনুধাবন করতে পারি বাংলা ভাষায় কত মানুষ সাহিত্যচর্চা করছেন।

লেখকরা যেমন তাদের লেখায় ভাষার প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে কবিতা, গল্প, উপন্যাস রচনা করে তাদের ভাবের প্রকাশ করেন। ঠিক একইভাবে পাঠক বই কিনে, বই উপহার দিয়ে, বই পড়ে আমাদের জানান দেন মাতৃভাষা তাদের কাছে কতটা প্রিয়।

আমরা এখন প্রযুক্তির বিশ্বে বসবাস করছি। ইন্টারনেট, ফেসবুক ছাড়া আমাদের চলে না। এই সময়ে এসে আমরা কি ইংরেজির প্রতি আরও অনুরক্ত হয়ে পড়ছি? মোটেই না। বরং দিনে দিনে আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলা চর্চায় আরও নিবেদিতপ্রাণ হয়ে উঠছি।

এর উদাহরণ পাওয়া যায় ফেসবুকে লাখো লাখো বাঙালির নানা পোস্ট ও স্ট্যাটাস দেখেই। লক্ষ করলে দেখতে পাই, বছর কয়েক আগেও যেখানে ইংরেজিতে মানুষ মনের ভাব ফেসবুকে প্রকাশ করত, এখন বেশির ভাগ মানুষ বাংলা অক্ষর ও বাংলা ভাষা ব্যবহার করেই তার দুঃখ-সুখের প্রকাশ করছেন।

এটা যে শুধু বাংলাদেশে বসবাসকারীরা করছেন, তা কিন্তু নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেখানেই বাংলা ভাষী মানুষ রয়েছেন, তারাও এখন বাংলায় লিখে তাদের ভাবের প্রকাশ ঘটাচ্ছেন, বিনিময় করছেন।

তাই দিকে দিকে এখন বাংলা ভাষার জয়যাত্রা শুরু হয়েছে। দাফতরিক অনেক কাজ এখন বাংলায় হয়। সর্বস্তরে বাংলার যে প্রচলন, তা কিছুটা হলেও এগিয়েছে। বাংলা ভাষার এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাবে বাংলা ভাষা।

একুশ মানে মাথা নত না করা

 সাংস্কৃতিক রিপোর্টার 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
একুশ মানে মাথা নত না করা
ফাইল ছবি

একুশ মানে মাথা নত না করা, একুশ মানে এগিয়ে যাওয়া। আর এই শক্তি আমাদের দিয়েছে অমর একুশ এবং আমাদের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন।

একুশের এই শক্তির বলে বলীয়ান হয়েই আমরা এগিয়ে যাই। শুধু ভাষার এ মাসে নয়, একুশ আমাদের শক্তি জোগায় সারা বছর। বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষাকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়।

বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। আর উন্নতির এই সোপানে এগিয়ে যেতে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন প্রেরণা জোগায়, ঠিক একইভাবে প্রেরণা দেয় আমাদের ভাষা। কারণ আমরাই সেই জাতি, যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছি।

আর তার স্বীকৃতিস্বরূপ সারা বিশ্বে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। এটি আমাদের গর্ব, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের গর্ব।

মাতৃভাষার প্রতি আমাদের এই দরদ ফেব্রুয়ারি মাসে এসে আরও বেড়ে যায়। কারণ আমরা তখন ১৯৫২ সালের একুশের স্মৃতি স্মরণ করি। স্মরণ করি আমাদের সেই সব অকুতোভয় সংগ্রামীকে, যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন।

বাংলা ভাষার প্রতিও আমাদের তৈরি হয় অন্যরকম এক মমত্ববোধ। যার প্রকাশ ঘটে ফেব্রুয়ারির নানা আয়োজনে। যার অন্যতম ভাষা আন্দোলনের চেতনায় ঋদ্ধ আমাদের অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এই সময় এলে আমরা অনুধাবন করতে পারি বাংলা ভাষায় কত মানুষ সাহিত্যচর্চা করছেন।

লেখকরা যেমন তাদের লেখায় ভাষার প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে কবিতা, গল্প, উপন্যাস রচনা করে তাদের ভাবের প্রকাশ করেন। ঠিক একইভাবে পাঠক বই কিনে, বই উপহার দিয়ে, বই পড়ে আমাদের জানান দেন মাতৃভাষা তাদের কাছে কতটা প্রিয়।

আমরা এখন প্রযুক্তির বিশ্বে বসবাস করছি। ইন্টারনেট, ফেসবুক ছাড়া আমাদের চলে না। এই সময়ে এসে আমরা কি ইংরেজির প্রতি আরও অনুরক্ত হয়ে পড়ছি? মোটেই না। বরং দিনে দিনে আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলা চর্চায় আরও নিবেদিতপ্রাণ হয়ে উঠছি।

এর উদাহরণ পাওয়া যায় ফেসবুকে লাখো লাখো বাঙালির নানা পোস্ট ও স্ট্যাটাস দেখেই। লক্ষ করলে দেখতে পাই, বছর কয়েক আগেও যেখানে ইংরেজিতে মানুষ মনের ভাব ফেসবুকে প্রকাশ করত, এখন বেশির ভাগ মানুষ বাংলা অক্ষর ও বাংলা ভাষা ব্যবহার করেই তার দুঃখ-সুখের প্রকাশ করছেন।

এটা যে শুধু বাংলাদেশে বসবাসকারীরা করছেন, তা কিন্তু নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেখানেই বাংলা ভাষী মানুষ রয়েছেন, তারাও এখন বাংলায় লিখে তাদের ভাবের প্রকাশ ঘটাচ্ছেন, বিনিময় করছেন।

তাই দিকে দিকে এখন বাংলা ভাষার জয়যাত্রা শুরু হয়েছে। দাফতরিক অনেক কাজ এখন বাংলায় হয়। সর্বস্তরে বাংলার যে প্রচলন, তা কিছুটা হলেও এগিয়েছে। বাংলা ভাষার এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাবে বাংলা ভাষা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন