নন-রেসপন্সিভ কোম্পানিকে নোয়া দিল ডিপিডিসি
jugantor
১৪শ’ কোটি টাকার দুই প্রকল্পে অনিয়ম
নন-রেসপন্সিভ কোম্পানিকে নোয়া দিল ডিপিডিসি
গচ্চা যাবে ৩৭৭ কোটি টাকা * প্যাকেজ ২-এ ব্যয় বাড়ছে ২৬৫ কোটি টাকা। জায়েজ করতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দারস্থ

  মুজিব মাসুদ  

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কারিগরি কমিটি কোম্পানিকে নন-রেসপন্সিভ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) বোর্ড সভা রেসপন্সিভ ঘোষণা করে।

এ নিয়ে ব্যাখ্যাও চায় মন্ত্রণালয়। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই নন-রেসপন্সিভ ওই কোম্পানিকে তড়িঘড়ি করে নোয়া (নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড) দিয়েছে ডিপিডিসি।

প্রায় ১১শ’ কোটি টাকার এ প্রকল্পে (প্যাকেজ-১) এভাবে নোয়া ইস্যু করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ।

নোয়া হচ্ছে কার্যাদেশ দেয়ার প্রথম ধাপ। তবে নোয়া একটি কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তপত্র। সূত্র বলছে, দরপত্রে ভুল স্পেসিফিকেশন এবং নন-রেসপন্সিভ কোম্পানিকে রেসপন্সিভ ঘোষণা করে নোয়া দেয়ায় এ প্রকল্পে সরকারের ৩৩৭ কোটি টাকা গচ্চা যাবে।

ডিপিডিসির একই প্রকল্পের প্যাকেজ-২ নিয়েও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ প্রকল্পের সর্বনিু দরদাতা হিসেবে যে কোম্পানিকে রেসপন্সিভ করা হয়েছে, তার দেয়া দর প্রাক্কলিত বাজেটের চেয়ে ২৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এতে ২৫৪ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় ২৬৫ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশ থেকে মালামাল কেনা বাবদ অতিরিক্ত ১৮৬ কোটি টাকা শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হবে।

সূত্র মতে, সম্প্রতি ১১শ’ কোটি টাকার প্রকল্পটির দরপত্রের বেশ কয়েকটি ধাপে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। এ নিয়ে ১৬ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিডিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ২ কর্মদিবসের মধ্যে তা বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠাতে বলা হয়।

ডিপিডিসি ১৯ জানুয়ারি ব্যাখ্যাসহ মন্ত্রণালয়কে চিঠির জবাব দেয়। বিদ্যুৎ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ডিপিডিসির ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনও এ বিষয়ে ডিপিডিসিকে কোনো জবাব দেয়া হয়নি। তার আগেই তড়িঘড়ি করে নোয়া ইস্যু করা ঠিক হয়নি।

তবে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পরই নোয়া ইস্যু করা হয়েছে।

কারিগরিভাবে নন-রেসপন্সিভ কোম্পানিকে নোয়া ইস্যু করা প্রসঙ্গে ডিপিডিসির কোম্পানি সচিব আসাদুজ্জামান মন্ত্রণালয়কে দেয়া ব্যাখ্যায় বলেন, দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ৩ দরদাতাকে কারিগরিভাবে রেসপন্সিভ করেছিল।

সর্বনিম্ম দরদাতা হলেও সেখানে জেভি অব চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল এমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএনটিআইসি) ও সিচুয়ান ইলেকট্রিক পাওয়ার ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন কন্সট্রাকশনের (এসপিটিটিসি) নাম ছিল না।

কোম্পানির ২৭০তম বোর্ড সভায় সিএনটিআইসি ও এসপিটিটিসিকে রেসপন্সিভ অনুমোদন করে মোট ৪টি প্রতিষ্ঠানকে কারিগরিভাবে রেসপন্সিভ করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

২৭১তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কারিগরি দরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে। এরপর ২৭২তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের আলোকে প্যাকেজ ১-এর জন্য নন-রেসপন্সিভ ওই কোম্পানিকে রেসপন্সিভ ঘোষণা করা হয়।

প্রকল্পটি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ডিপিডিসির ব্যাখ্যায় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। কারণ ডিপিপি (প্রকল্পপত্র) বানানোর দায়িত্ব ছিল ডিপিডিসির। দরপত্রে উল্লিখিত অধিকাংশ মালামাল দেশে উৎপাদিত হয়। মূল্যের দিক থেকে বিবেচনা করলেও প্রায় ২২ শতাংশ কম দামে দেশে পাওয়া যাবে। এসব বিবেচনা করেই ডিপিডিসির উচিত ছিল দরপত্র তৈরি করা। সেভাবে দরপত্র আহবান করলে এই ৩৩৭ কোটি টাকা গচ্চা যেত না।

প্যাকেজ-২ প্রসঙ্গে সূত্র জানায়, ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী ক্রয় বাজেটের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দাম গ্রহণযোগ্য। কোনো দরদাতা প্রতিষ্ঠান ক্রয় বাজেটের ১৫ শতাংশের বেশি দর প্রস্তাব করলে নীতিমালা অনুযায়ী বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে হবে।

তবে ডিপিডিস সূত্র বলছে, বিষয়টি বৈধ করানোর জন্য এরই মধ্যে বাজেটের যৌক্তিকতা দেখিয়ে ফাইল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সূত্র মতে, গত অর্থবছরে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কো¤পানি জিওবি ও নিজস্ব অর্থায়নে ৩৩/১১ কেভিসাব-স্টেশন নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ এবং ৩৩ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড সোর্স লাইন স্থাপনের জন্য টার্ন-কী পদ্ধতিতে একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল প্রায় ২৫৪ কোটি টাকা। দরপত্রটির কারিগরি প্রস্তাব গত বছর ১৭ জুলাই খোলা হয়। দরপত্রে মোট ৬টি দেশি-বিদেশি দরদাতা অংশ নেয়।

সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের একটি বড় অংশ হচ্ছে ভূগর্ভস্থ ক্যাবল সরবরাহ। বাংলাদেশে এ ধরনের ক্যাবল উৎপাদনকারী ৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ডিপিডিসিসহ বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব কোম্পানির ক্যাবল দিয়ে তাদের চাহিদা পূরণ করে আসছে। অথচ অভিযোগ, শুধু বাংলাদেশের তৈরি ক্যাবল প্রস্তাব করার দায়ে দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়নে শ্রীলংকান একটি কোম্পানিকে বাদ দেয়া হয়।

পিপিআরএর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি মূল্যায়নে বাদ দেয়ার আগে কারিগরি ব্যাখ্যা চাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু শ্রীলংকান কোম্পানির কাছে কোনো কারিগরি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়নি।

মাত্র দুটি কোম্পানি এনার্জিপ্যাক ও সিসিই, চায়নার কাছে কারিগরি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ওই দুটি দরদাতা তাদের দরপত্রে সম্পূর্ণ বিদেশি পণ্য প্রস্তাব করেছিল। ৬ জানুয়ারি ফাইন্যান্সিয়াল দরপত্র খোলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ সেক্টরের একজন বিশেষজ্ঞ যুগান্তরকে জানান, মূলত এসব প্রকল্প হাতিয়ে নেয়ার জন্য ডিপিডিসি ও মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।

ওই সিন্ডিকেট বিভিন্ন সময় দরপত্রে এমন সব কঠিন শর্তজুড়ে দেয় যাতে কোনো দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে না পারে।

১৪শ’ কোটি টাকার দুই প্রকল্পে অনিয়ম

নন-রেসপন্সিভ কোম্পানিকে নোয়া দিল ডিপিডিসি

গচ্চা যাবে ৩৭৭ কোটি টাকা * প্যাকেজ ২-এ ব্যয় বাড়ছে ২৬৫ কোটি টাকা। জায়েজ করতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দারস্থ
 মুজিব মাসুদ 
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কারিগরি কমিটি কোম্পানিকে নন-রেসপন্সিভ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) বোর্ড সভা রেসপন্সিভ ঘোষণা করে।

এ নিয়ে ব্যাখ্যাও চায় মন্ত্রণালয়। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই নন-রেসপন্সিভ ওই কোম্পানিকে তড়িঘড়ি করে নোয়া (নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড) দিয়েছে ডিপিডিসি।

প্রায় ১১শ’ কোটি টাকার এ প্রকল্পে (প্যাকেজ-১) এভাবে নোয়া ইস্যু করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ।

নোয়া হচ্ছে কার্যাদেশ দেয়ার প্রথম ধাপ। তবে নোয়া একটি কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তপত্র। সূত্র বলছে, দরপত্রে ভুল স্পেসিফিকেশন এবং নন-রেসপন্সিভ কোম্পানিকে রেসপন্সিভ ঘোষণা করে নোয়া দেয়ায় এ প্রকল্পে সরকারের ৩৩৭ কোটি টাকা গচ্চা যাবে।

ডিপিডিসির একই প্রকল্পের প্যাকেজ-২ নিয়েও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ প্রকল্পের সর্বনিু দরদাতা হিসেবে যে কোম্পানিকে রেসপন্সিভ করা হয়েছে, তার দেয়া দর প্রাক্কলিত বাজেটের চেয়ে ২৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এতে ২৫৪ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় ২৬৫ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশ থেকে মালামাল কেনা বাবদ অতিরিক্ত ১৮৬ কোটি টাকা শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হবে।

সূত্র মতে, সম্প্রতি ১১শ’ কোটি টাকার প্রকল্পটির দরপত্রের বেশ কয়েকটি ধাপে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। এ নিয়ে ১৬ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিডিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ২ কর্মদিবসের মধ্যে তা বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠাতে বলা হয়।

ডিপিডিসি ১৯ জানুয়ারি ব্যাখ্যাসহ মন্ত্রণালয়কে চিঠির জবাব দেয়। বিদ্যুৎ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ডিপিডিসির ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনও এ বিষয়ে ডিপিডিসিকে কোনো জবাব দেয়া হয়নি। তার আগেই তড়িঘড়ি করে নোয়া ইস্যু করা ঠিক হয়নি।

তবে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পরই নোয়া ইস্যু করা হয়েছে।

কারিগরিভাবে নন-রেসপন্সিভ কোম্পানিকে নোয়া ইস্যু করা প্রসঙ্গে ডিপিডিসির কোম্পানি সচিব আসাদুজ্জামান মন্ত্রণালয়কে দেয়া ব্যাখ্যায় বলেন, দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ৩ দরদাতাকে কারিগরিভাবে রেসপন্সিভ করেছিল।

সর্বনিম্ম  দরদাতা হলেও সেখানে জেভি অব চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল এমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএনটিআইসি) ও সিচুয়ান ইলেকট্রিক পাওয়ার ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন কন্সট্রাকশনের (এসপিটিটিসি) নাম ছিল না।

কোম্পানির ২৭০তম বোর্ড সভায় সিএনটিআইসি ও এসপিটিটিসিকে রেসপন্সিভ অনুমোদন করে মোট ৪টি প্রতিষ্ঠানকে কারিগরিভাবে রেসপন্সিভ করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

২৭১তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কারিগরি দরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে। এরপর ২৭২তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের আলোকে প্যাকেজ ১-এর জন্য নন-রেসপন্সিভ ওই কোম্পানিকে রেসপন্সিভ ঘোষণা করা হয়।

প্রকল্পটি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ডিপিডিসির ব্যাখ্যায় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। কারণ ডিপিপি (প্রকল্পপত্র) বানানোর দায়িত্ব ছিল ডিপিডিসির। দরপত্রে উল্লিখিত অধিকাংশ মালামাল দেশে উৎপাদিত হয়। মূল্যের দিক থেকে বিবেচনা করলেও প্রায় ২২ শতাংশ কম দামে দেশে পাওয়া যাবে। এসব বিবেচনা করেই ডিপিডিসির উচিত ছিল দরপত্র তৈরি করা। সেভাবে দরপত্র আহবান করলে এই ৩৩৭ কোটি টাকা গচ্চা যেত না।

প্যাকেজ-২ প্রসঙ্গে সূত্র জানায়, ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী ক্রয় বাজেটের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দাম গ্রহণযোগ্য। কোনো দরদাতা প্রতিষ্ঠান ক্রয় বাজেটের ১৫ শতাংশের বেশি দর প্রস্তাব করলে নীতিমালা অনুযায়ী বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে হবে।

তবে ডিপিডিস সূত্র বলছে, বিষয়টি বৈধ করানোর জন্য এরই মধ্যে বাজেটের যৌক্তিকতা দেখিয়ে ফাইল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সূত্র মতে, গত অর্থবছরে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কো¤পানি জিওবি ও নিজস্ব অর্থায়নে ৩৩/১১ কেভিসাব-স্টেশন নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ এবং ৩৩ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড সোর্স লাইন স্থাপনের জন্য টার্ন-কী পদ্ধতিতে একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল প্রায় ২৫৪ কোটি টাকা। দরপত্রটির কারিগরি প্রস্তাব গত বছর ১৭ জুলাই খোলা হয়। দরপত্রে মোট ৬টি দেশি-বিদেশি দরদাতা অংশ নেয়।

সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের একটি বড় অংশ হচ্ছে ভূগর্ভস্থ ক্যাবল সরবরাহ। বাংলাদেশে এ ধরনের ক্যাবল উৎপাদনকারী ৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ডিপিডিসিসহ বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব কোম্পানির ক্যাবল দিয়ে তাদের চাহিদা পূরণ করে আসছে। অথচ অভিযোগ, শুধু বাংলাদেশের তৈরি ক্যাবল প্রস্তাব করার দায়ে দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়নে শ্রীলংকান একটি কোম্পানিকে বাদ দেয়া হয়।

পিপিআরএর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি মূল্যায়নে বাদ দেয়ার আগে কারিগরি ব্যাখ্যা চাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু শ্রীলংকান কোম্পানির কাছে কোনো কারিগরি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়নি।

মাত্র দুটি কোম্পানি এনার্জিপ্যাক ও সিসিই, চায়নার কাছে কারিগরি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ওই দুটি দরদাতা তাদের দরপত্রে সম্পূর্ণ বিদেশি পণ্য প্রস্তাব করেছিল। ৬ জানুয়ারি ফাইন্যান্সিয়াল দরপত্র খোলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ সেক্টরের একজন বিশেষজ্ঞ যুগান্তরকে জানান, মূলত এসব প্রকল্প হাতিয়ে নেয়ার জন্য ডিপিডিসি ও মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।

ওই সিন্ডিকেট বিভিন্ন সময় দরপত্রে এমন সব কঠিন শর্তজুড়ে দেয় যাতে কোনো দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে না পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন