শিশুর প্রথম পাঠ হোক মাতৃভাষায়
jugantor
শিশুর প্রথম পাঠ হোক মাতৃভাষায়

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার  

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুরমন মাটির মতো কোমল। তাকে যা শেখানো হবে তাই সে প্রথমে আয়ত্ত করবে। দেশভেদে সীমাভেদে রয়েছে ভাষার প্রভেদ। আর একই দেশেও রয়েছে নানান ভাষা। শাস্ত্র বলে শিশুর প্রথম পাঠ হওয়া উচিত তার মাতৃভাষায়। মাতৃভাষা পাঠের মধ্য দিয়ে তার মধ্যে শুধু তার ভাষা নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও ভেতরে প্রবেশ করে। আমরা বাঙালি, ভাষার জন্য আমরা প্রাণ দিয়েছি।

আমাদের ভাষার রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। মাতৃভাষায় প্রথম পাঠের মধ্য দিয়ে সেই ইতিহাস, ঐতিহ্য একটি শিশুর মধ্যে প্রথিত হয়। তাই বাঙালি শিশুদের প্রথম পাঠ হতে হবে বাংলায়। ঠিক এমনিভাবে একটি চাকমা বা মারমা শিশুর প্রথম পাঠ হওয়া উচিত তার নিজস্ব ভাষায়।

আমাদের অনেক অভিভাবকের একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, ইংরেজিটা কঠিন আর ওটা শিখতেই হবে। তাই শিশুর প্রথম পাঠ তারা ইংরেজিতে করান। এটি একটি ভুল ধারণা। বাংলা ভাষায় প্রথম পাঠের মধ্য দিয়ে শিশু তার মাতৃভাষার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হন। সেটি আয়ত্ত করার পর বা পাশাপাশি ইংরেজির পাঠ নিতে পারে। এটাই হওয়া উচিত।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, যেকোনো মানব শিশু মাতৃভাষার পরিমণ্ডলে জন্মগ্রহণ করে। তাই তার প্রথম পাঠ হওয়া উচিত তার মাতৃভাষায়। কারণ মাতৃভাষায় প্রথম পাঠের মধ্য দিয়ে তার মধ্যে নিজস্ব যে সংস্কৃতি রয়েছে সেটি প্রবেশ করে। ভাষা তো শুধু ভাষা নয় এর মধ্যে শব্দ, দ্যোতনা, নানা বিষয় থাকে। সেগুলোর মধ্য দিয়ে একজন মানুষ নিজেকে আত্মপ্রকাশে নিয়ে আসে। তার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের জন্ম নেয়। কারও মাতৃভাষা যদি ইংরেজি হয় তাহলে সে ইংরেজিতেই প্রথম পাঠ নেবে। অর্থাৎ মাতৃভাষাতেই প্রথম পাঠ নেয়া উচিত।

বাংলা ভাষা শেখার পরই আমাদের অন্যভাষা শেখা উচিত। ভাষার সঙ্গে যেহেতু সংস্কৃতি যুক্ত সেদিক থেকে বাংলা আমরা প্রথমে শিখব। সেটা না করে যদি প্রথমেই ইংরেজি বা অন্য ভাষার পাঠ নেয়া হয় তাহলে সেটা অনেকটা পোশাকি বা তোতা পাখির বলনের মতো হয়ে যায়। কারণ সেটার সংস্কৃতি আলাদা। আমাদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষাও শেখা উচিত। সেটারও একটি আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

শিশুর প্রথম পাঠ হোক মাতৃভাষায়

 সাংস্কৃতিক রিপোর্টার 
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুরমন মাটির মতো কোমল। তাকে যা শেখানো হবে তাই সে প্রথমে আয়ত্ত করবে। দেশভেদে সীমাভেদে রয়েছে ভাষার প্রভেদ। আর একই দেশেও রয়েছে নানান ভাষা। শাস্ত্র বলে শিশুর প্রথম পাঠ হওয়া উচিত তার মাতৃভাষায়। মাতৃভাষা পাঠের মধ্য দিয়ে তার মধ্যে শুধু তার ভাষা নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও ভেতরে প্রবেশ করে। আমরা বাঙালি, ভাষার জন্য আমরা প্রাণ দিয়েছি।

আমাদের ভাষার রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। মাতৃভাষায় প্রথম পাঠের মধ্য দিয়ে সেই ইতিহাস, ঐতিহ্য একটি শিশুর মধ্যে প্রথিত হয়। তাই বাঙালি শিশুদের প্রথম পাঠ হতে হবে বাংলায়। ঠিক এমনিভাবে একটি চাকমা বা মারমা শিশুর প্রথম পাঠ হওয়া উচিত তার নিজস্ব ভাষায়।

আমাদের অনেক অভিভাবকের একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, ইংরেজিটা কঠিন আর ওটা শিখতেই হবে। তাই শিশুর প্রথম পাঠ তারা ইংরেজিতে করান। এটি একটি ভুল ধারণা। বাংলা ভাষায় প্রথম পাঠের মধ্য দিয়ে শিশু তার মাতৃভাষার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হন। সেটি আয়ত্ত করার পর বা পাশাপাশি ইংরেজির পাঠ নিতে পারে। এটাই হওয়া উচিত।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, যেকোনো মানব শিশু মাতৃভাষার পরিমণ্ডলে জন্মগ্রহণ করে। তাই তার প্রথম পাঠ হওয়া উচিত তার মাতৃভাষায়। কারণ মাতৃভাষায় প্রথম পাঠের মধ্য দিয়ে তার মধ্যে নিজস্ব যে সংস্কৃতি রয়েছে সেটি প্রবেশ করে। ভাষা তো শুধু ভাষা নয় এর মধ্যে শব্দ, দ্যোতনা, নানা বিষয় থাকে। সেগুলোর মধ্য দিয়ে একজন মানুষ নিজেকে আত্মপ্রকাশে নিয়ে আসে। তার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের জন্ম নেয়। কারও মাতৃভাষা যদি ইংরেজি হয় তাহলে সে ইংরেজিতেই প্রথম পাঠ নেবে। অর্থাৎ মাতৃভাষাতেই প্রথম পাঠ নেয়া উচিত।

বাংলা ভাষা শেখার পরই আমাদের অন্যভাষা শেখা উচিত। ভাষার সঙ্গে যেহেতু সংস্কৃতি যুক্ত সেদিক থেকে বাংলা আমরা প্রথমে শিখব। সেটা না করে যদি প্রথমেই ইংরেজি বা অন্য ভাষার পাঠ নেয়া হয় তাহলে সেটা অনেকটা পোশাকি বা তোতা পাখির বলনের মতো হয়ে যায়। কারণ সেটার সংস্কৃতি আলাদা। আমাদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষাও শেখা উচিত। সেটারও একটি আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন