অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
jugantor
জয়ের শতকে ইতিহাস
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
নিউজিল্যান্ড ২১১/৮, ৫০ বাংলাদেশ ২১৫/৪, ৪৪.১ * ফল : বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী

  স্পোর্টস রিপোর্টার  

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ

যে কোনো প্রথমই আবেশ ছড়ায়। অনাবিল আনন্দে জড়ায়। বৃহস্পতিবার রংধনুর দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে তেমনই এক ‘প্রথম’ সুখানুভূতি ছড়াল এই বদ্বীপে। নেলসন ম্যান্ডেলার দেশে জয়ের ব্যাটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মধুর জয়। যে জয়ের হাত ধরে এই প্রথম ক্রিকেটের কোনো বৈশ্বিক আসরের ফাইনালে খেলার গরিমা অর্জন করল বাংলাদেশ।

ব্যাটে-বলে দামাল যুবাদের দুরন্ত নৈপুণ্য লাল-সবুজের দেশকে শিখরে নিয়ে গেল। নতুন ইতিহাস গড়ার পর রোববার বাংলাদেশ ফাইনালে খেলবে রেকর্ড চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

কাল পচেফস্ট্রুমে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মাহমুদুল হাসান জয়ের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ছয় উইকেটের বিশাল জয় পায় ৩৫ বল বাকি থাকতে। যুব ওডিআইতে এটি জয়ের চতুর্থ সেঞ্চুরি। ম্যাচসেরা তিনিই। নিউজিল্যান্ডকে ২১১/৮-এ সীমাবদ্ধ রেখে বাংলাদেশ ২১৫/৪ করে। শাহাদাত অপরাজিত থাকেন ৪০ রানে।

আগের রাতে বৃষ্টি হওয়ায় শুরুতে ব্যাট করাটা কঠিন ছিল। দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। পরে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামলে উইকেট বদলে যায়। ধীরগতিতে শুরু করেন দুই ওপেনার। দলের ২৩ রানে ব্যক্তিগত তিন করে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান। বেশিদূর এগোতে পরেননি পারভেজ হোসেনও।

দ্বিতীয় উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন মাহমুদুল ও তৌহিদ হৃদয়। হৃদয় ৪০ করে আউট হন। এরপর আর উইকেট হারাতে দেননি মাহমুদুল ও শাহাদাত হোসেন। চতুর্থ উইকেটে দু’জনের ১০১ রানের জুটিতে জয়ের কাছে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা মাহমুদুল পরের বলেই আউট হয়ে ফেরেন। পরে চার মেরে দলকে জয় এনে দেন শামীম।

এর আগে সেনওয়েস পার্কে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। অফ-স্পিনার শামীম হোসেনের অফ-স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করার চেষ্টায় স্লিপে তানজিদের হাতে ধরা পড়েন রিস মারিউ। প্রথম দুটি ওভার মেডেন নেন শরিফুল।

আক্রমণে এসে রাকিবুল শুরুতে টানা তিন ওভার মেডেন করেন। রানের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে কিউইদের। ওপেনার ওলি হোয়াইটকে কট বিহাইন্ড করেন রাকিবুল। শামীমের বলে ফার্গুস লেলম্যানের দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন মাহমুদুল হাসান। দারুণ এক ডেলিভারিতে জেস ট্যাশকফকে বোল্ড করেন মুরাদ। ৭৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া নিউজিল্যান্ডকে টানেন নিকোলাস লিডস্টোন ও হুইলান-গ্রিনল। তাদের ৬৭ রানের জুটি ভাঙেন শরিফুল। পরের ওভারে কুইন সানডেকে বোল্ড করেন মুরাদ।

লোয়ার অর্ডারদের ডানা মেলতে দেয়নি বাংলাদেশ। হুইলার-গ্রিনলের দৃঢ়তায় শেষ দশ ওভারে কিউইরা তোলে ৭২ রান। হুইলার ৮৩ বলে ৭৫* রান করেন।

এ নিয়ে টানা নবম জয় পেল বাংলাদেশ যুব দল। যুব ওয়ানডেতে এটাই তাদের সেরা সাফল্য। ২০০৫ সালে টানা আট ম্যাচ জিতেছিল তারা। এর আগে একবারই সেমিফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ আসরে দেশের মাটিতে তৃতীয় হওয়াটা এতদিন ছিল সেরা সাফল্য। এবার ফাইনালে ভারতকে হারাতে পারলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশ।

জয়ের শতকে ইতিহাস

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ড ২১১/৮, ৫০ বাংলাদেশ ২১৫/৪, ৪৪.১ * ফল : বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী
 স্পোর্টস রিপোর্টার 
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ
ছবি: সংগৃহীত

যে কোনো প্রথমই আবেশ ছড়ায়। অনাবিল আনন্দে জড়ায়। বৃহস্পতিবার রংধনুর দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে তেমনই এক ‘প্রথম’ সুখানুভূতি ছড়াল এই বদ্বীপে। নেলসন ম্যান্ডেলার দেশে জয়ের ব্যাটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মধুর জয়। যে জয়ের হাত ধরে এই প্রথম ক্রিকেটের কোনো বৈশ্বিক আসরের ফাইনালে খেলার গরিমা অর্জন করল বাংলাদেশ।

ব্যাটে-বলে দামাল যুবাদের দুরন্ত নৈপুণ্য লাল-সবুজের দেশকে শিখরে নিয়ে গেল। নতুন ইতিহাস গড়ার পর রোববার বাংলাদেশ ফাইনালে খেলবে রেকর্ড চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

কাল পচেফস্ট্রুমে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মাহমুদুল হাসান জয়ের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ছয় উইকেটের বিশাল জয় পায় ৩৫ বল বাকি থাকতে। যুব ওডিআইতে এটি জয়ের চতুর্থ সেঞ্চুরি। ম্যাচসেরা তিনিই। নিউজিল্যান্ডকে ২১১/৮-এ সীমাবদ্ধ রেখে বাংলাদেশ ২১৫/৪ করে। শাহাদাত অপরাজিত থাকেন ৪০ রানে।

আগের রাতে বৃষ্টি হওয়ায় শুরুতে ব্যাট করাটা কঠিন ছিল। দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। পরে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামলে উইকেট বদলে যায়। ধীরগতিতে শুরু করেন দুই ওপেনার। দলের ২৩ রানে ব্যক্তিগত তিন করে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান। বেশিদূর এগোতে পরেননি পারভেজ হোসেনও।

দ্বিতীয় উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন মাহমুদুল ও তৌহিদ হৃদয়। হৃদয় ৪০ করে আউট হন। এরপর আর উইকেট হারাতে দেননি মাহমুদুল ও শাহাদাত হোসেন। চতুর্থ উইকেটে দু’জনের ১০১ রানের জুটিতে জয়ের কাছে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা মাহমুদুল পরের বলেই আউট হয়ে ফেরেন। পরে চার মেরে দলকে জয় এনে দেন শামীম।

এর আগে সেনওয়েস পার্কে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। অফ-স্পিনার শামীম হোসেনের অফ-স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করার চেষ্টায় স্লিপে তানজিদের হাতে ধরা পড়েন রিস মারিউ। প্রথম দুটি ওভার মেডেন নেন শরিফুল।

আক্রমণে এসে রাকিবুল শুরুতে টানা তিন ওভার মেডেন করেন। রানের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে কিউইদের। ওপেনার ওলি হোয়াইটকে কট বিহাইন্ড করেন রাকিবুল। শামীমের বলে ফার্গুস লেলম্যানের দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন মাহমুদুল হাসান। দারুণ এক ডেলিভারিতে জেস ট্যাশকফকে বোল্ড করেন মুরাদ। ৭৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া নিউজিল্যান্ডকে টানেন নিকোলাস লিডস্টোন ও হুইলান-গ্রিনল। তাদের ৬৭ রানের জুটি ভাঙেন শরিফুল। পরের ওভারে কুইন সানডেকে বোল্ড করেন মুরাদ।

লোয়ার অর্ডারদের ডানা মেলতে দেয়নি বাংলাদেশ। হুইলার-গ্রিনলের দৃঢ়তায় শেষ দশ ওভারে কিউইরা তোলে ৭২ রান। হুইলার ৮৩ বলে ৭৫* রান করেন।

এ নিয়ে টানা নবম জয় পেল বাংলাদেশ যুব দল। যুব ওয়ানডেতে এটাই তাদের সেরা সাফল্য। ২০০৫ সালে টানা আট ম্যাচ জিতেছিল তারা। এর আগে একবারই সেমিফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ আসরে দেশের মাটিতে তৃতীয় হওয়াটা এতদিন ছিল সেরা সাফল্য। এবার ফাইনালে ভারতকে হারাতে পারলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশ।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন