দুই বছর এ দলকে নিবিড় পরিচর্যা করা হবে: পাপন
jugantor
দুই বছর এ দলকে নিবিড় পরিচর্যা করা হবে: পাপন
সামনে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে-আকবর

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলকে আরও পরিণত করতে ও জাতীয় দলের পাইপলাইনে রাখতে আগামী ২ বছর নিবিড় পরিচর্যা করা হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বুধবার যুবা টাইগারদের সংবর্ধনা দেয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানান বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন।

তিনি বলেন, ‘একটি অনূর্ধ্ব-২১ দল গঠন করা হবে। এ দলটির জন্য ওদের প্রস্তুত করা হবে। তাদের আলাদা কোচিং স্টাফ ও সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়া হবে। আগামী ২ বছর তাদের জন্য স্পেশাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে এবং এ পরবর্তী ২ বছর প্রতিটি ক্রিকেটারকে মাসে এক লাখ টাকা করে পারিশ্রমিক দেয়া হবে। আর পরের ২ বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

এদিকে যুব দলের অধিনায়ক আকবর আলী বলেন, এ বিশ্বকাপ পাওয়া মানে এই না যে, সব কিছু জিতে ফেলেছি। সামনে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। সেগুলো পূরণ করার জন্য এটা একটা ধাপ মাত্র।

এর আগে বুধবার দেশে ফেরে বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বিশ্বজয়ীরা মিরপুর শেরেবাংলা হোম অব ক্রিকেটে চলে যান। আর সেখানে আকবরবাহিনী লাল গালিচায় মাঠে প্রবেশ করেন। পরে জুনিয়র ক্রিকেটারদের কেক খাইয়ে সংবর্ধনা দেন বিসিবি সভাপতি পাপন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে এ দলটিকে পরিচর্যার দাবি উঠেছিল। পাপনের এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আপাতত সে প্রতিশ্র“তি মিলল। এখন ক্রিকেটভক্তরা প্রত্যাশায় রইলেন প্রতিশ্র“তি পূরণের মধ্য দিয়ে দেশের ক্রিকেটের আরও উন্নতির।

বিশ্বকাপ জয়ের পর বিসিবির কাছে চাওয়া কী জানতে চাইলে অধিনায়ক আকবর আলী বলেন, ‘আমরা কিছু পাওয়ার জন্য বিশ্বকাপে যাইনি। যাওয়ার আগেই বলেছিলাম, আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। বিশ্বকাপ জয় করলে আমরা বাড়ি-গাড়ি পেয়ে যাব, এটা মাথায় নিয়ে যাইনি। নিজেদের লক্ষ্য ঠিক রেখেছি, সবাই চেষ্টা করেছে বাংলাদেশকে ট্রফি দিতে। সেটা পেরেছি। এতেই আমরা খুশি।’

একদিনেই জীবনটা বদলে গেল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকতে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম আমাদের জন্য কিছু একটা হচ্ছে। কিন্তু এত বিশাল আয়োজন হবে কল্পনা করতে পারিনি। কিন্তু এ বিশ্বকাপ পাওয়া মানে এই না যে, সব কিছু জিতে ফেলেছি। সামনে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। সেগুলো পূরণ করার জন্য এটা একটা ধাপ মাত্র।’

ভবিষ্যতে নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে যুব দলের অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা যেটা অর্জন করেছি সেটা আমাদের কাছে অবশ্যই অনেক বড় প্রাপ্তি। কিন্তু এ নিয়ে পড়ে থাকলে পেছাতে হবে। এখান থেকে মানসিকতা তৈরি করতে হবে আমরা কতদূর যাব। নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সাকিব-তামিম-মুশফিক ভাই বাংলাদেশ দলটাকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। এখান থেকে আরও সামনে এগিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখতে পারি আমরা।’

আকবর বলেন, ‘যুব দল ও আন্তর্জাতিক দলের মধ্যে অনেক পার্থক্য। এখনই আমরা তাদের সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারি না। আমাদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। এরপরই পরের ধাপের কথা মাথায় আনতে হবে।’

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘এর আগে আমরা অনেক সিরিজ জিতেছি। অনেক সাফল্য পেয়েছি। কিন্তু সব কিছুর চেয়ে বিশ্বকাপই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।’

দলের প্রধান কোচ নাভিদ নওয়াজ বলেন, ‘এ দলটা নিয়ে আমরা সব সময় একটি পরিকল্পনায় এগিয়েছি। দলের সবাই একটা পরিবারের মতো। তারা নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে জানে। নিজেদের প্রয়োগ করার সাহস রাখে। সবকিছু মিলেই এ দলটা সাফল্য পেয়েছে।’

দুই বছর এ দলকে নিবিড় পরিচর্যা করা হবে: পাপন

সামনে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে-আকবর
 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলকে আরও পরিণত করতে ও জাতীয় দলের পাইপলাইনে রাখতে আগামী ২ বছর নিবিড় পরিচর্যা করা হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বুধবার যুবা টাইগারদের সংবর্ধনা দেয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানান বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন।

তিনি বলেন, ‘একটি অনূর্ধ্ব-২১ দল গঠন করা হবে। এ দলটির জন্য ওদের প্রস্তুত করা হবে। তাদের আলাদা কোচিং স্টাফ ও সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়া হবে। আগামী ২ বছর তাদের জন্য স্পেশাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে এবং এ পরবর্তী ২ বছর প্রতিটি ক্রিকেটারকে মাসে এক লাখ টাকা করে পারিশ্রমিক দেয়া হবে। আর পরের ২ বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

এদিকে যুব দলের অধিনায়ক আকবর আলী বলেন, এ বিশ্বকাপ পাওয়া মানে এই না যে, সব কিছু জিতে ফেলেছি। সামনে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। সেগুলো পূরণ করার জন্য এটা একটা ধাপ মাত্র।

এর আগে বুধবার দেশে ফেরে বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বিশ্বজয়ীরা মিরপুর শেরেবাংলা হোম অব ক্রিকেটে চলে যান। আর সেখানে আকবরবাহিনী লাল গালিচায় মাঠে প্রবেশ করেন। পরে জুনিয়র ক্রিকেটারদের কেক খাইয়ে সংবর্ধনা দেন বিসিবি সভাপতি পাপন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে এ দলটিকে পরিচর্যার দাবি উঠেছিল। পাপনের এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আপাতত সে প্রতিশ্র“তি মিলল। এখন ক্রিকেটভক্তরা প্রত্যাশায় রইলেন প্রতিশ্র“তি পূরণের মধ্য দিয়ে দেশের ক্রিকেটের আরও উন্নতির।

বিশ্বকাপ জয়ের পর বিসিবির কাছে চাওয়া কী জানতে চাইলে অধিনায়ক আকবর আলী বলেন, ‘আমরা কিছু পাওয়ার জন্য বিশ্বকাপে যাইনি। যাওয়ার আগেই বলেছিলাম, আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। বিশ্বকাপ জয় করলে আমরা বাড়ি-গাড়ি পেয়ে যাব, এটা মাথায় নিয়ে যাইনি। নিজেদের লক্ষ্য ঠিক রেখেছি, সবাই চেষ্টা করেছে বাংলাদেশকে ট্রফি দিতে। সেটা পেরেছি। এতেই আমরা খুশি।’ 

একদিনেই জীবনটা বদলে গেল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকতে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম আমাদের জন্য কিছু একটা হচ্ছে। কিন্তু এত বিশাল আয়োজন হবে কল্পনা করতে পারিনি। কিন্তু এ বিশ্বকাপ পাওয়া মানে এই না যে, সব কিছু জিতে ফেলেছি। সামনে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। সেগুলো পূরণ করার জন্য এটা একটা ধাপ মাত্র।’

ভবিষ্যতে নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে যুব দলের অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা যেটা অর্জন করেছি সেটা আমাদের কাছে অবশ্যই অনেক বড় প্রাপ্তি। কিন্তু এ নিয়ে পড়ে থাকলে পেছাতে হবে। এখান থেকে মানসিকতা তৈরি করতে হবে আমরা কতদূর যাব। নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সাকিব-তামিম-মুশফিক ভাই বাংলাদেশ দলটাকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। এখান থেকে আরও সামনে এগিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখতে পারি আমরা।’ 

আকবর বলেন, ‘যুব দল ও আন্তর্জাতিক দলের মধ্যে অনেক পার্থক্য। এখনই আমরা তাদের সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারি না। আমাদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। এরপরই পরের ধাপের কথা মাথায় আনতে হবে।’ 

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘এর আগে আমরা অনেক সিরিজ জিতেছি। অনেক সাফল্য পেয়েছি। কিন্তু সব কিছুর চেয়ে বিশ্বকাপই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।’ 

দলের প্রধান কোচ নাভিদ নওয়াজ বলেন, ‘এ দলটা নিয়ে আমরা সব সময় একটি পরিকল্পনায় এগিয়েছি। দলের সবাই একটা পরিবারের মতো। তারা নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে জানে। নিজেদের প্রয়োগ করার সাহস রাখে। সবকিছু মিলেই এ দলটা সাফল্য পেয়েছে।’

 

 

ঘটনাপ্রবাহ : অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ-২০২০