ঢাকা দক্ষিণে মশার ওষুধ মিক্সিং: কাজ পাচ্ছে কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান

ভেজাল ওষুধ সরবরাহের দায়ে ডিএনসিসির নিষিদ্ধ দি লিমিট এগ্রো প্রডাক্টকে কাজ দিচ্ছে ডিএসসিসি

  মতিন আব্দুল্লাহ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা দক্ষিণে মশার ওষুধ মিক্সিং: কাজ পাচ্ছে কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান

ভেজাল ওষুধ সরবরাহের দায়ে কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান- দ্য লিমিট এগ্রো প্রডাক্টকে মশার ওষুধ মিক্সিংয়ের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

ইতিমধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় লিমিট এগ্রো প্রডাক্টকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বাছাই করেছে ডিএসসিসি। এখন ওই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়ার তোড়জোড় চলছে। উড়ন্ত মশক নিধনে ব্যবহৃত ‘মেলাথিয়ন’ ওষুধ চীন থেকে ডিএসসিসি আমদানি করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন যুগান্তরকে বলেন, ‘দ্য লিমিট এগ্রো প্রডাক্টকে মশার ওষুধ ক্রয় বা মিক্সিংয়ের জন্য কোনো কাজ দেয়া হচ্ছে কিনা, সেটা আমার জানা নেই। এটা স্বাস্থ্য বিভাগ ভালো বলতে পারবে। আমি এতটুকু জানি যে, এখন থেকে ডিএসসিসি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মশার ওষুধ আমদানি করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘লিমিট এগ্রোকে কাজ দেয়া সংক্রান্ত কোনো ফাইল আমার কাছে আসেনি। আর কেউ এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে কথাও বলেনি।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভেজাল ওষুধ সরবরাহ করার দায়ে গত বছরের ৭ জানুয়ারি দ্য লিমিট এগ্রো প্রডাক্টকে কালো তালিকাভুক্ত করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। এ ঘটনা জানার পরও ওই বছর ডিএসসিসি কালো তালিকাভুক্ত ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মশার ওষুধ ক্রয় করে। গত বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে এ ঘটনার কঠোর সমালোচনা হয়।

এরপরও গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে লিমিট এগ্রো প্রডাক্টের স্বত্বাধিকারীদের অন্য প্রতিষ্ঠান ফরওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে মশার ওষুধ ক্রয় করে ডিএসসিসি। ওই ওষুধ ফরওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনালকে মিক্সিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। মিক্সিং বাবদ ডিএসসিসি ফরওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনালকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিল দেয়।

আরও জানা যায়, ২৭ জানুয়ারি এক দরপত্রে উড়ন্ত মশা মারতে ৬ লাখ ৪০ হাজার লিটার মেলাথিয়ন ওষুধ মিক্সিংয়ের জন্য দরপত্র আহবান করে। এ দরপত্রে লিমিট এগ্রো প্রতি লিটার মিক্সিং করতে ১৭২ টাকা দর দিয়েছে। এ দরে প্রতিষ্ঠানটি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ইতিমধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় ওই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হতে পারে। এ কাজ বাবদ সারা বছরে লিমিট এগ্রো প্রডাক্ট বিল পাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা।

দি লিমিট এগ্রো প্রডাক্টের পরিচালক মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘ডিএসসিসি মশার ওষুধ মিক্সিং কাজের দরপত্রে অংশ নিয়ে আমরা সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছি। ডিএনসিসি আমাদের কালো তালিকাভুক্ত করলেও ডিএসসিসি কখনও আমাদের কালো তালিকাভুক্ত করেনি; এ কারণে ডিএসসিসিতে আমাদের কাজ পেতে বা দরপত্রে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।’

ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা জানান, ‘দি লিমিট এগ্রো প্রডাক্টে’র ভেজাল ওষুধ সরবরাহের দায়ে ডিএনসিসি কালো তালিকাভুক্ত করেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডিএসসিসির সখ্য বরাবরের মতো অব্যাহত রয়েছে। এটা রহস্যজনক।’

তিনি বলেন, ‘ডিএসসিসির ভাণ্ডারসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি চক্র গড়ে উঠেছে। তারা নানা কলাকৌশলে এগ্রোকে কাজ পাইয়ে দিচ্ছেন। আর এখান থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। মশক নিয়ন্ত্রণ বা নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব তাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়; পকেট ভারি করাই তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।’

ডিএসসিসির আরেক কর্মকর্তা জানান, ডিএসসিসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা আখের গুছিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন। এই মেয়রের বাকি সময়ে তারা নানা কলাকৌশলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে প্রাণান্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ চক্রের লাগাম টেনে না ধরলে এবারও বর্ষার মৌসুমে নগরবাসীকে চরম খেসারত দিতে হবে।’

সার্বিক বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. ইমদাদুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘ডিএনসিসি লিমিট এগ্রোকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। ডিএসসিসি কখনও ওই প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেনি; সেহেতু আমরা ওই প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবে দরপত্রে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখতে পারি না।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×