শ্বাসরোধে হত্যা: দক্ষিণখানে ফ্ল্যাটে মা ও দুই সন্তানের অর্ধগলিত লাশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানী
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর দক্ষিণখানের প্রেমবাগান কেসি মডেল স্কুলের পাশে একটি বাড়ির চার তলার ফ্ল্যাটে এক নারী ও দুই শিশুর লাশ উদ্ধা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ওই বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে আত্মীয় ও স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। সন্ধ্যায় পুলিশ গিয়ে অর্ধগলিত অবস্থায় লাশ তিনটি উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, এ তিনজনকে ৩-৪ দিন আগে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে মাকে মাথায় আঘাত করে ও দুই শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। দক্ষিণখান থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক কেএম মনছুর আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- মুন্নী বেগম, তার ছেলে ফারহান উদ্দিন খান ও মেয়ে লাইভা ভূঁইয়া। ফারহান বাসার পাশে কেসি স্কুলে পড়ত। তারা কেসি স্কুলের পাশে ৮৩৮ নম্বর বাড়িতে সপরিবারে থাকতেন। ফারহানের বাবা টিঅ্যান্ডটির উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিব উদ্দিন ভূইয়া লিটন। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাতসালায়। ১৩-১৪ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন রাকিব ও মুন্নি।

পুলিশ জানায়, কয়েক দিন ধরে আত্মীয়দের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হচ্ছিল না। শুক্রবার বিকালে কয়েকজন আত্মীয় তাদের খোঁজ নিতে গিয়ে বাসাটি বন্ধ পান। তখন বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এ সময় আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা ঘটনাটি দক্ষিণখান থানায় জানায়। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরাও। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে ওই ওই ফ্ল্যাট থেকে মা ও তার দুই সন্তানের গলিত লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে ক্রাইম সিন ইউনিট। সুরতহাল ও হত্যার আলামত সংগ্রহ শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

পুলিশ বলছে, মুন্নীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। আঘাতে মাথায় ক্ষত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা মা ও দুই ছেলেমেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। মুন্নী ও তার মেয়ের লাশ খাটে আর ফারহানের লাশ মেঝেতে পড়েছিল। বাসা থেকে কোনো মালামাল খোয়া যাওয়ার আলামত পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীরা জানান, রাকিব পরিবারের সদস্যদের উঠতে নামতে দেখা গেলেও কয়েক দিন ধরেই তাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। রাকিব জুয়া খেলতেন বলে শুনেছেন। তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন।

ঘটনার পর পুলিশ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা ভবনটির ভেতর থেকে কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। ওই বাড়ির ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান জোনের এডিসি হাফিজুর রহমান রিয়েল বলেন, বাসাটির প্রধান দরজা বাইরে থেকে আটকানো দেখা গেছে। মুন্নির শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী রকিব পলাতক। তার খোঁজে অনুসন্ধান চলছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল সাংবাদিকদের জানান, ধারণা করা হচ্ছে তিনজনকেই ৩-৪ দিন আগে হত্যা করা হয়েছে। ঘরের ভেতরে তিনটি লাশই ডি কম্পোস্ট (অর্ধগলিত) অবস্থায় পাওয়া গেছে। মা ও ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ডিসি নাবিদ কামাল শৈবাল আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার করা দুই শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। উদ্ধার করা নারীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উত্তরা বিভাগের পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অপরাধ শনাক্তকরণে ঘটনা খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, যে বাসায় লাশ পাওয়া গেছে ওই বাসায় বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×