সরকারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি : ফখরুল
jugantor
খালেদা জিয়ার মুক্তি
সরকারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি : ফখরুল
মিছিল করতে না পেরে প্রতিবাদ সমাবেশ * দমননীতিতে মুক্তির দাবি দমিয়ে রাখা যাবে না * চিকিৎসার জন্য মানবিক কারণে দ্রুত মুক্তি দিন * কর্মসূচির অনুমতি ছিল না -পুলিশ কর্তৃপক্ষ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। দেশনেত্রী খুবই অসুস্থ। আমরা বারবার তার মুক্তির দাবি করেছি, জামিন চেয়েছি এবং মুক্তির মধ্য দিয়ে তার চিকিৎসার দাবি জানিয়েছি। তাদের (সরকার) কাছ থেকে কোনো ধরনের সাড়া পাইনি। মানবিক কারণে অতি দ্রুত খালেদা জিয়াকে মুক্তির দাবি জানান তিনি।

শনিবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশের বাধার মুখে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল করতে না পেরে এই সমাবেশ করে দলটি। রাজধানীসহ সারা দেশে এই বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকার মনে করছে নির্যাতন-নিপীড়ন, গ্রেফতার-গুম করে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে দাবিয়ে রাখবে, দমিয়ে রাখবে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, এভাবে দমননীতি নিয়ে, নির্যাতন-নিপীড়ন করে জনগণের যে ন্যায্য দাবি, তা কখনও দমন করা যায় না। দুপুর ২টায় নয়াপল্টন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকেই নয়াপল্টনের প্রধান কার্যালয়ের প্রবেশমুখে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখে পুলিশ। কয়েকজন মহিলা দলের নেতাকর্মী ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। তবে দুপুরের দিকে একে একে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

এদিকে পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার জাহিদুর রহমান সোহাগ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি যে কর্মসূচি দিয়েছে, এর অনুমতি মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ থেকে নেয়া হয়নি। জনস্বার্থে আমরা নয়াপল্টনে অবস্থান নিই।

দুপুর পৌনে ২টার দিকে কার্যালয়ের ভেতর থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপরই নয়াপল্টনের অলিগলিতে অবস্থান করা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক, ছাত্রদল, মহিলা দলসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে মিছিল সহকারে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে যোগ দেন। প্রথমে পুলিশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও পরে তারা সরে যায়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিপুলসখ্যক নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ সরে গিয়ে হোটেল ভিক্টোরিয়ার সামনে অবস্থান নেয়।

বিকাল ৩টায় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে বিএনপি। দেড় ঘণ্টাব্যাপী সমাবেশে নেতারা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। রিকশার ওপরে দুইটি মাইক লাগিয়ে সমাবেশ হয়। এ সময়ে ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’- নেতাকর্মীদের এমন স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়।

বিএনপি মহাসচিব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতাকর্মীদের সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা কোনো সুযোগ দিতে চাই না। দয়া করে এখান থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে যাবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার একটা দখলদারি সরকার, বেআইনি সরকার। জনগণের কোনো ম্যান্ডেট তাদের নেই। ম্যান্ডেট ছাড়াই তারা জোর করে ক্ষমতায় একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করার জন্য সব নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে তারা গুম করেছে, খুন করেছে, নির্যাতন করেছে। আমাদের প্রায় ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করেছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন। তাকে আজ ২ বছর ৭ দিন ধরে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজ দেশনেত্রী কারাগারে নয়, আজ সারা দেশকে কারাগার করা হয়েছে। আজ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে, দেশের মানুষ নিপীড়িত-নির্যাতিত।

তিনি বলেন, আজ দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আজ আমরা কর্মীদের যে সাহস দেখেছি, এভাবে যদি আপনারা রাস্তায় থাকেন, ইনশাআল্লাহ অচিরেই দেশনেত্রীকে আমরা মুক্ত করতে পারব।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি যে ভালোবাসা, এটাকে বুকে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লাঠিপেঠা করুক, প্রতিবাদ থামবে না। জেলখানায় ভরুক, প্রতিবাদ থামবে না। আমাদের গুম করুক, প্রতিবাদ থামবে না- এই প্রতিবাদ চলতেই থাকবে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা মায়ের মুক্তির জন্য সমবেত হয়েছি। মায়ের মুক্তির সংগ্রাম কেউ থামাতে পারে না। কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না। মায়ের মুক্তি জনগণ, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও স্বাধীনতার মুক্তি। মায়ের মুক্তির আন্দোলনে আমাদের যোগ দিয়ে মাকে মুক্ত করতে হবে।

যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও মহানগরের কাজী আবুল বাশার ও আহসানউল্লাহ হাসানের পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড আবদুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, মহানগরের বজলুল বাসিত আনজু, যুব দলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, কৃষক দলে হাসান জাফির তুহিন, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।

সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কর্মীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনেন। তবে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন শামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সুপু, আমিনুল হক, শিরিন সুলতানা, আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী, শামীমুর রহমান শামীম, শহীদুল ইসলাম বাবুল, খন্দকার মাশুকুর রহমান, হারুনুর রশীদ, সেলিমুজ্জামান সেলিম, দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, খন্দকার আবু আশফাক, সাখাওয়াত হোসেন খান, মজিবুর রহমান, সদ্যসমাপ্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার মুক্তি

সরকারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি : ফখরুল

মিছিল করতে না পেরে প্রতিবাদ সমাবেশ * দমননীতিতে মুক্তির দাবি দমিয়ে রাখা যাবে না * চিকিৎসার জন্য মানবিক কারণে দ্রুত মুক্তি দিন * কর্মসূচির অনুমতি ছিল না -পুলিশ কর্তৃপক্ষ
 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। দেশনেত্রী খুবই অসুস্থ। আমরা বারবার তার মুক্তির দাবি করেছি, জামিন চেয়েছি এবং মুক্তির মধ্য দিয়ে তার চিকিৎসার দাবি জানিয়েছি। তাদের (সরকার) কাছ থেকে কোনো ধরনের সাড়া পাইনি। মানবিক কারণে অতি দ্রুত খালেদা জিয়াকে মুক্তির দাবি জানান তিনি।

শনিবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশের বাধার মুখে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল করতে না পেরে এই সমাবেশ করে দলটি। রাজধানীসহ সারা দেশে এই বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকার মনে করছে নির্যাতন-নিপীড়ন, গ্রেফতার-গুম করে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে দাবিয়ে রাখবে, দমিয়ে রাখবে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, এভাবে দমননীতি নিয়ে, নির্যাতন-নিপীড়ন করে জনগণের যে ন্যায্য দাবি, তা কখনও দমন করা যায় না। দুপুর ২টায় নয়াপল্টন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকেই নয়াপল্টনের প্রধান কার্যালয়ের প্রবেশমুখে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখে পুলিশ। কয়েকজন মহিলা দলের নেতাকর্মী ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। তবে দুপুরের দিকে একে একে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

এদিকে পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার জাহিদুর রহমান সোহাগ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি যে কর্মসূচি দিয়েছে, এর অনুমতি মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ থেকে নেয়া হয়নি। জনস্বার্থে আমরা নয়াপল্টনে অবস্থান নিই।

দুপুর পৌনে ২টার দিকে কার্যালয়ের ভেতর থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপরই নয়াপল্টনের অলিগলিতে অবস্থান করা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক, ছাত্রদল, মহিলা দলসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে মিছিল সহকারে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে যোগ দেন। প্রথমে পুলিশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও পরে তারা সরে যায়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিপুলসখ্যক নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ সরে গিয়ে হোটেল ভিক্টোরিয়ার সামনে অবস্থান নেয়।

বিকাল ৩টায় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে বিএনপি। দেড় ঘণ্টাব্যাপী সমাবেশে নেতারা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। রিকশার ওপরে দুইটি মাইক লাগিয়ে সমাবেশ হয়। এ সময়ে ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’- নেতাকর্মীদের এমন স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়।

বিএনপি মহাসচিব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতাকর্মীদের সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা কোনো সুযোগ দিতে চাই না। দয়া করে এখান থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে যাবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার একটা দখলদারি সরকার, বেআইনি সরকার। জনগণের কোনো ম্যান্ডেট তাদের নেই। ম্যান্ডেট ছাড়াই তারা জোর করে ক্ষমতায় একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করার জন্য সব নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে তারা গুম করেছে, খুন করেছে, নির্যাতন করেছে। আমাদের প্রায় ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করেছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন। তাকে আজ ২ বছর ৭ দিন ধরে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজ দেশনেত্রী কারাগারে নয়, আজ সারা দেশকে কারাগার করা হয়েছে। আজ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে, দেশের মানুষ নিপীড়িত-নির্যাতিত।

তিনি বলেন, আজ দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আজ আমরা কর্মীদের যে সাহস দেখেছি, এভাবে যদি আপনারা রাস্তায় থাকেন, ইনশাআল্লাহ অচিরেই দেশনেত্রীকে আমরা মুক্ত করতে পারব।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি যে ভালোবাসা, এটাকে বুকে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লাঠিপেঠা করুক, প্রতিবাদ থামবে না। জেলখানায় ভরুক, প্রতিবাদ থামবে না। আমাদের গুম করুক, প্রতিবাদ থামবে না- এই প্রতিবাদ চলতেই থাকবে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা মায়ের মুক্তির জন্য সমবেত হয়েছি। মায়ের মুক্তির সংগ্রাম কেউ থামাতে পারে না। কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না। মায়ের মুক্তি জনগণ, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও স্বাধীনতার মুক্তি। মায়ের মুক্তির আন্দোলনে আমাদের যোগ দিয়ে মাকে মুক্ত করতে হবে।

যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও মহানগরের কাজী আবুল বাশার ও আহসানউল্লাহ হাসানের পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড আবদুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, মহানগরের বজলুল বাসিত আনজু, যুব দলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, কৃষক দলে হাসান জাফির তুহিন, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।

সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কর্মীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনেন। তবে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন শামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সুপু, আমিনুল হক, শিরিন সুলতানা, আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী, শামীমুর রহমান শামীম, শহীদুল ইসলাম বাবুল, খন্দকার মাশুকুর রহমান, হারুনুর রশীদ, সেলিমুজ্জামান সেলিম, দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, খন্দকার আবু আশফাক, সাখাওয়াত হোসেন খান, মজিবুর রহমান, সদ্যসমাপ্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন