ছাত্রছাত্রীদের ঐক্যই আন্দোলনের শক্তি

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে প্রাণ জুগিয়েছে মূলত ছাত্রছাত্রীরা। পুরান ঢাকা ও তৎকালীন নতুন ঢাকার ছাত্রঐক্যের শক্তি ছিল ইস্পাতের মতো। আর এটা একদিনে ঘটেনি। ছাত্রছাত্রীরাই এই মেলবন্ধন ঘটিয়েছে দিনের পর দিন।

‘একুশের দিনলিপি’ গ্রন্থে ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক বলেন, ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে পুরান ঢাকার মতিগতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে ওঠে এবং তা জনাকয় মহল্লা সরদারের সহযোগিতার কারণে। অনুকূল হাওয়া বেশ জোরেশোরে বইছে।

আন্দোলনে সক্রিয় বা সংশ্লিষ্ট পুরান ঢাকার তরুণদের মধ্যে একুশে সময়পর্বের উল্লেখযোগ্য গোলাম মর্তুজা বা ফজলুল হক এবং নারিন্দার হালিম ও আশরাফের মতো একাধিক কর্মী। এরা সবাই প্রগতিশীল ঘরানার। একুশের বিস্ফোরক দিনটির পর মহল্লাবাসী, তরুণ-যুবকরাই তো আন্দোলনের বড় কারিগর হয়ে ওঠে।

এক্ষেত্রে ঢাকার বাইশ পঞ্চায়েতের প্রধান মীর্জা আবদুল কাদের তথা কাদের সরদারের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা না বলা অসঙ্গত হবে। একুশের আন্দোলনে তার ইতিবাচক ভূমিকার কারণে তরুণদের নিজ নিজ মহল্লায় কাজ করা সহজ হয়ে ওঠে।

বুড়িগঙ্গার তীরে মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা তখন সংক্ষিপ্ত কোর্সে ডিগ্রি শিক্ষার সুবিধাসহ নানা দাবিতে ধর্মঘট পালন করছে। তা সত্ত্বেও সেখানকার ছাত্র নেতানেত্রীরা একুশের ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত।

যেমন মাহবুব, মুজিবর, জাফর প্রমুখ ছাত্রনেতার পাশাপাশি একইভাবে সক্রিয় নার্গিস, বীথি, ফাতেমা চৌধুরী প্রমুখ বাম ঘরানার ছাত্রীরা। তাদের সঙ্গে সক্রিয় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হালিমা খাতুন প্রমুখ ছাত্রী।

এভাবে উত্তর থেকে দক্ষিণ অর্থাৎ নতুন ঢাকা ও পুরান ঢাকার ছাত্রছাত্রী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে কর্মতৎপরতার বন্ধন তৈরি হয়; যা একুশের সফল সমাপনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে ইডেন কলেজ ও কামরুন্নেছা গার্লস স্কুলের জ্যেষ্ঠ ছাত্রীরা নেতৃত্ব বিশেষভাবে সক্রিয় ছিল।

তাই বলতে হয়, একুশের প্রতিবাদী যাত্রায় ছাত্রীদের ভূমিকা কোনো অংশেই কম গুরুত্বের নয়।

ঢাকার উত্তর-দক্ষিণে মতাদর্শগত সেতুবন্ধন একুশে উপলক্ষে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যেমন গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের সঙ্গে ভাষার দাবিতে সাধারণ ছাত্রদের কর্মতৎপরতার মেলবন্ধন। উপেক্ষা করা ঠিক নয় ফজলুল হক হল, ঢাকা হল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, মিটফোর্ড স্কুল ও জগন্নাথ কলেজের একাধিক ছাত্রবাস বা শিক্ষায়তনের প্রগতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের একান্ত ঐক্য।

আগে উল্লিখিত নামগুলোর সঙ্গে যোগ করতে হয়- দেবপ্রিয় বড়ুয়া, হাবিবুর রহমান শেলী, শহীদ খান, ফরিদা বারী মালিকসহ একাধিক ছাত্রছাত্রীর নাম।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত