২৫ ও ৩১ ধারা কেন অসাংবিধানিক নয়: হাইকোর্ট
jugantor
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন
২৫ ও ৩১ ধারা কেন অসাংবিধানিক নয়: হাইকোর্ট

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হাইকোর্ট

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ও ৩১ ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সাংবাদিক, আইনজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ ৯ ব্যক্তির করা রিটের শুনানি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রুল জারি করেন।

আইন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক ও আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাঘমার। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে ৯ ব্যক্তি এ রিট আবেদনটি করেন।

তারা হলেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশের) মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আসাদ উদ্দিন, মো. আসাদুজ্জামান, জোবাইদুর রহমান, মহিউদ্দিন মোল্লা ও মুজাহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল, ড. মো. কামরুজ্জামান ও ড. রফিকুল ইসলাম।

২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ব্যাপক সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হলেও পুরনো আইনের বাতিল হওয়া ধারাগুলো নতুন আইনে রয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ থেকেই গিয়েছিল।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ও ৩১ ধারায় যে অপরাধের কথা বলা আছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত নয়। যেমন ২৫ ধারায় বলা আছে, কেউ যদি ‘ভীতিকর’, ‘অসত্য’ অথবা ‘বিরক্তিকর’, ‘আক্রমণাত্মক’ তথ্য প্রকাশ করে। এখন কোনটা ভীতিকর, কোনটা আক্রমাণাত্মক, কোনটা বিরক্তিকর, তা সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা নেই। ৩১ ধারার ক্ষেত্রেও তাই। ৩১ ধারায় বলা আছে, ‘যদি আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে’ অথবা যদি ‘অস্থিরতা তৈরি হয়’।

এখন প্রশ্ন হল- অস্থিরতাটা কি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি বলতে কী বোঝায়- এগুলোর কোনোটার সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট করা নেই এই আইনে। এই অস্পষ্টতার কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যাকে ইচ্ছা তাকেই ধরতে পারবে।

শিশির আরও বলেন, এটাকে বলে ‘ডকট্রিন অব ভেগনেস’, অর্থাৎ যেসব আইনে দণ্ড উল্লেখ থাকে সেসব আইন এরকম অস্পষ্ট থাকতে পারবে না। তাছাড়া সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা দেয়া আছে তার সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ও ৩১ ধারা সাংঘর্ষিক। এ দুই যুক্তিতে ২৫ ও ৩১ ধারার বিষয়ে রুল জারি করেছেন।

আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক বলেন, আইনটির ২৫ ধারায় আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ-প্রকাশ ইত্যাদি বিষয়ে বলা আছে। ৩১ ধারায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো ইত্যাদি অপরাধের দণ্ডের বিষয় বলা আছে। ধারা দুটিতে যে অপরাধের কথা বলা হয়েছে, তা সুস্পষ্ট নয়। ধারা দুটি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই যুক্তিতে রিটটি করা হলে আদালত রুল দেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

২৫ ও ৩১ ধারা কেন অসাংবিধানিক নয়: হাইকোর্ট

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
হাইকোর্ট
হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ও ৩১ ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সাংবাদিক, আইনজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ ৯ ব্যক্তির করা রিটের শুনানি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রুল জারি করেন।

আইন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক ও আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাঘমার। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে ৯ ব্যক্তি এ রিট আবেদনটি করেন।

তারা হলেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশের) মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আসাদ উদ্দিন, মো. আসাদুজ্জামান, জোবাইদুর রহমান, মহিউদ্দিন মোল্লা ও মুজাহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল, ড. মো. কামরুজ্জামান ও ড. রফিকুল ইসলাম।

২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ব্যাপক সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হলেও পুরনো আইনের বাতিল হওয়া ধারাগুলো নতুন আইনে রয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ থেকেই গিয়েছিল।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ও ৩১ ধারায় যে অপরাধের কথা বলা আছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত নয়। যেমন ২৫ ধারায় বলা আছে, কেউ যদি ‘ভীতিকর’, ‘অসত্য’ অথবা ‘বিরক্তিকর’, ‘আক্রমণাত্মক’ তথ্য প্রকাশ করে। এখন কোনটা ভীতিকর, কোনটা আক্রমাণাত্মক, কোনটা বিরক্তিকর, তা সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা নেই। ৩১ ধারার ক্ষেত্রেও তাই। ৩১ ধারায় বলা আছে, ‘যদি আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে’ অথবা যদি ‘অস্থিরতা তৈরি হয়’।

এখন প্রশ্ন হল- অস্থিরতাটা কি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি বলতে কী বোঝায়- এগুলোর কোনোটার সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট করা নেই এই আইনে। এই অস্পষ্টতার কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যাকে ইচ্ছা তাকেই ধরতে পারবে।

শিশির আরও বলেন, এটাকে বলে ‘ডকট্রিন অব ভেগনেস’, অর্থাৎ যেসব আইনে দণ্ড উল্লেখ থাকে সেসব আইন এরকম অস্পষ্ট থাকতে পারবে না। তাছাড়া সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা দেয়া আছে তার সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ও ৩১ ধারা সাংঘর্ষিক। এ দুই যুক্তিতে ২৫ ও ৩১ ধারার বিষয়ে রুল জারি করেছেন।

আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক বলেন, আইনটির ২৫ ধারায় আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ-প্রকাশ ইত্যাদি বিষয়ে বলা আছে। ৩১ ধারায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো ইত্যাদি অপরাধের দণ্ডের বিষয় বলা আছে। ধারা দুটিতে যে অপরাধের কথা বলা হয়েছে, তা সুস্পষ্ট নয়। ধারা দুটি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই যুক্তিতে রিটটি করা হলে আদালত রুল দেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন