ঢাকার দুই মহানগর কমিটি: বিতর্কিতদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন আ’লীগ নেতারা
jugantor
ঢাকার দুই মহানগর কমিটি: বিতর্কিতদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন আ’লীগ নেতারা
কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশের স্তূপ * কমিটি গঠনে সমন্বয়হীনতা, পৃথক তালিকা নেতাদের

  রেজাউল করিম প্লাবন  

২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার দুই মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ চার নেতা। বিতর্কিত ও সমালোচিত- কিছু সাবেক মহানগর নেতাকে কমিটিতে রাখতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকজনের সুপারিশের কারণে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। নেতাদের কেউ কেউ আবার চাপও দিচ্ছেন। ফোন অথবা সরাসরি সাক্ষাতে কেউ কেউ তাগাদাও দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে দলীয় সভানেত্রীর (শেখ হাসিনা) দ্বারস্থ হয়েছেন মহানগর নেতারা। সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে ওঠে ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশ সব সময় থাকে এবং এটা অস্বাভাবিক নয়- এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, তবে দেখতে হবে সেসব সুপারিশে বিতর্কিত কেউ পদ পাচ্ছে কিনা। আমরা সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছি, পর্যালোচনা করছি। তিনি বলেন, অনেকের আদর্শচ্যুতি ঘটে। কমিটিতে থেকে কেউ বিতর্কিত হলে তাকে এবার বাদ দেয়া হবে। শুধু মহানগর নয়, কোনো পর্যায়ের কমিটিতে তাদের রাখার সুযোগ নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক খান বলেন, মহানগর ছাড়া থানা অথবা ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিরা যোগ্যতা অনুসারে মূল্যায়িত হবেন।

গত বছর ৩০ নভেম্বর ক্যাসিনোকাণ্ড পরবর্তী দলে শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে ঢাকার দুই মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তর মহানগরে শেখ বজলুর রহমান সভাপতি ও এসএম মান্নান কচি সাধারণ সম্পাদক এবং দক্ষিণে আবু আহমেদ মন্নাফী সভাপতি ও হুমায়ুন কবীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জানা গেছে, দুই মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এসব নির্দেশনার মধ্যে অন্যতম হল- ক্যাসিনোকাণ্ড, কমিটি বাণিজ্য, টেন্ডার-চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দলে বলয় সৃষ্টিকারী এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করতে গিয়ে দল ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলা কোনো নেতাকে কমিটিতে রাখা যাবে না। কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে গিয়ে এখানেই বিপত্তি সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কমপক্ষে হাফ ডজন নেতা আগের কমিটির বিতর্কিতদের স্থান দিতে সুপারিশ করছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সূত্র যুগান্তরকে জানায়, বিতর্কিত নেতারা সুপারিশকারী কেন্দ্রীয় নেতাদের আস্থাভাজন ও অনুগত। ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন সমালোচিত ঘটনা কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে আগেই জানতেন। ক্যাসিনো এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়া গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তাদের প্রশ্রয়ে স্থান পেয়েছিল। এতকিছুর পরও নিজেদের বলয় ঠিক রাখতে ফের চিহ্নিত বিতর্কিতদের কমিটিতে রাখতে ওঠেপড়ে লেগেছেন তারা। কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশ আর নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় কমিটি গঠনের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে পারেননি দুই মহানগরের চার শীর্ষ নেতা। তবে তারা পৃথক তালিকা তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। নিজেদের বলয়ের লোকদের প্রাধান্য দিয়ে তৈরি তালিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বারবার নির্দেশনা দিয়েও সমন্বিত তালিকা প্রণয়ন করাতে পারেননি।

সূত্র আরও জানায়, বিতর্কিত নেতাদের কমিটিতে রাখতে যারা সুপারিশ করছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের সাবেক সমন্বয়ক কমিটির নেতা। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও রয়েছেন। আছেন দুই মহানগর কমিটি গঠনে দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত নেতাও। যে কোনো উপায়ে কমিটিতে নিজের স্থান ঠিক রাখতে কিংবা নতুন করে কমিটিতে জায়গা করতে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও ভিড়ছেন অনেক স্থানীয় নেতা। অর্থের প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগও উঠেছে কারও কারও বিরুদ্ধে।

পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রায় অভিন্ন সূরে যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের একজন পরিবহন নেতা জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতির পদ বাগাতে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করছেন। মহানগরের এক শীর্ষ নেতার পরিবারের সদস্যদের দিয়ে পদ বগলদাবা করার চেষ্টা করছেন তিনি। ক্যাসিনোকাণ্ড, এনু-রুপনের পদায়নকারী ও তাদের সুবিধাভোগী, কমিটি বাণিজ্য-জি কে শামীমের সঙ্গে লেনদেনকারী, স্কুল-কলেজে ভর্তি বাণিজ্য ও অনিয়মকারীদের একটি বড় অংশ মহানগরের শীর্ষ নেতাদের পেছনে ঘুরছেন। এক নেতার প্রশ্রয় না পেলে ছুটছেন অন্যজনের কাছে। সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশ তো আছেই। কমিটি গঠনে বিলম্বের পেছনে এসব কারণও উল্লেখ করছেন অনেকে।

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী যুগান্তরকে বলেন, অনেকে সুপারিশ করছেন। সবার সুপারিশ শুনতে হবে এমনটি না। আবার কিছু সুপারিশ নিয়ে তো বিব্রত হচ্ছি। তবে নেত্রী (শেখ হাসিনা) নির্দেশিত একটি ভালো কমিটি দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। সেখানে ক্যাসিনোসহ সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে যাদের কারণে দলে দাগ লেগেছে তারা কেউই কমিটিতে স্থান পাচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, আওয়ামী লীগ নেতা ছাড়াও যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগসহ অন্যসব সহযোগী সংগঠনের বেশ কিছু নেতা স্থান পাবেন। আশা করি দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ের কথা জানিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে অনেকের সুপারিশ আছে। কিছু কিছু সুপারিশের বিষয় আমরা দলীয় সভানেত্রীকে (শেখ হাসিনা) জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীকে কমিটি বিষয়ে অবহিত করার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা একটি খসড়া কমিটি করেছি। সেখানে নেত্রীর পরামর্শে কাউন্সিলরদের রাখা সম্ভব হয়নি। তবে তারা বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ডে পদ পাবেন। ওয়ান-ইলেভেনসহ দলের দুর্দিনে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ঢাকার দুই মহানগর কমিটি: বিতর্কিতদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন আ’লীগ নেতারা

কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশের স্তূপ * কমিটি গঠনে সমন্বয়হীনতা, পৃথক তালিকা নেতাদের
 রেজাউল করিম প্লাবন 
২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার দুই মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ চার নেতা। বিতর্কিত ও সমালোচিত- কিছু সাবেক মহানগর নেতাকে কমিটিতে রাখতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকজনের সুপারিশের কারণে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। নেতাদের কেউ কেউ আবার চাপও দিচ্ছেন। ফোন অথবা সরাসরি সাক্ষাতে কেউ কেউ তাগাদাও দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে দলীয় সভানেত্রীর (শেখ হাসিনা) দ্বারস্থ হয়েছেন মহানগর নেতারা। সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে ওঠে ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশ সব সময় থাকে এবং এটা অস্বাভাবিক নয়- এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, তবে দেখতে হবে সেসব সুপারিশে বিতর্কিত কেউ পদ পাচ্ছে কিনা। আমরা সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছি, পর্যালোচনা করছি। তিনি বলেন, অনেকের আদর্শচ্যুতি ঘটে। কমিটিতে থেকে কেউ বিতর্কিত হলে তাকে এবার বাদ দেয়া হবে। শুধু মহানগর নয়, কোনো পর্যায়ের কমিটিতে তাদের রাখার সুযোগ নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক খান বলেন, মহানগর ছাড়া থানা অথবা ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিরা যোগ্যতা অনুসারে মূল্যায়িত হবেন।

গত বছর ৩০ নভেম্বর ক্যাসিনোকাণ্ড পরবর্তী দলে শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে ঢাকার দুই মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তর মহানগরে শেখ বজলুর রহমান সভাপতি ও এসএম মান্নান কচি সাধারণ সম্পাদক এবং দক্ষিণে আবু আহমেদ মন্নাফী সভাপতি ও হুমায়ুন কবীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জানা গেছে, দুই মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এসব নির্দেশনার মধ্যে অন্যতম হল- ক্যাসিনোকাণ্ড, কমিটি বাণিজ্য, টেন্ডার-চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দলে বলয় সৃষ্টিকারী এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করতে গিয়ে দল ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলা কোনো নেতাকে কমিটিতে রাখা যাবে না। কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে গিয়ে এখানেই বিপত্তি সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কমপক্ষে হাফ ডজন নেতা আগের কমিটির বিতর্কিতদের স্থান দিতে সুপারিশ করছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সূত্র যুগান্তরকে জানায়, বিতর্কিত নেতারা সুপারিশকারী কেন্দ্রীয় নেতাদের আস্থাভাজন ও অনুগত। ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন সমালোচিত ঘটনা কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে আগেই জানতেন। ক্যাসিনো এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়া গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তাদের প্রশ্রয়ে স্থান পেয়েছিল। এতকিছুর পরও নিজেদের বলয় ঠিক রাখতে ফের চিহ্নিত বিতর্কিতদের কমিটিতে রাখতে ওঠেপড়ে লেগেছেন তারা। কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশ আর নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় কমিটি গঠনের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে পারেননি দুই মহানগরের চার শীর্ষ নেতা। তবে তারা পৃথক তালিকা তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। নিজেদের বলয়ের লোকদের প্রাধান্য দিয়ে তৈরি তালিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বারবার নির্দেশনা দিয়েও সমন্বিত তালিকা প্রণয়ন করাতে পারেননি।

সূত্র আরও জানায়, বিতর্কিত নেতাদের কমিটিতে রাখতে যারা সুপারিশ করছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের সাবেক সমন্বয়ক কমিটির নেতা। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও রয়েছেন। আছেন দুই মহানগর কমিটি গঠনে দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত নেতাও। যে কোনো উপায়ে কমিটিতে নিজের স্থান ঠিক রাখতে কিংবা নতুন করে কমিটিতে জায়গা করতে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও ভিড়ছেন অনেক স্থানীয় নেতা। অর্থের প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগও উঠেছে কারও কারও বিরুদ্ধে।

পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রায় অভিন্ন সূরে যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের একজন পরিবহন নেতা জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতির পদ বাগাতে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করছেন। মহানগরের এক শীর্ষ নেতার পরিবারের সদস্যদের দিয়ে পদ বগলদাবা করার চেষ্টা করছেন তিনি। ক্যাসিনোকাণ্ড, এনু-রুপনের পদায়নকারী ও তাদের সুবিধাভোগী, কমিটি বাণিজ্য-জি কে শামীমের সঙ্গে লেনদেনকারী, স্কুল-কলেজে ভর্তি বাণিজ্য ও অনিয়মকারীদের একটি বড় অংশ মহানগরের শীর্ষ নেতাদের পেছনে ঘুরছেন। এক নেতার প্রশ্রয় না পেলে ছুটছেন অন্যজনের কাছে। সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশ তো আছেই। কমিটি গঠনে বিলম্বের পেছনে এসব কারণও উল্লেখ করছেন অনেকে।

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী যুগান্তরকে বলেন, অনেকে সুপারিশ করছেন। সবার সুপারিশ শুনতে হবে এমনটি না। আবার কিছু সুপারিশ নিয়ে তো বিব্রত হচ্ছি। তবে নেত্রী (শেখ হাসিনা) নির্দেশিত একটি ভালো কমিটি দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। সেখানে ক্যাসিনোসহ সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে যাদের কারণে দলে দাগ লেগেছে তারা কেউই কমিটিতে স্থান পাচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, আওয়ামী লীগ নেতা ছাড়াও যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগসহ অন্যসব সহযোগী সংগঠনের বেশ কিছু নেতা স্থান পাবেন। আশা করি দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ের কথা জানিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে অনেকের সুপারিশ আছে। কিছু কিছু সুপারিশের বিষয় আমরা দলীয় সভানেত্রীকে (শেখ হাসিনা) জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীকে কমিটি বিষয়ে অবহিত করার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা একটি খসড়া কমিটি করেছি। সেখানে নেত্রীর পরামর্শে কাউন্সিলরদের রাখা সম্ভব হয়নি। তবে তারা বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ডে পদ পাবেন। ওয়ান-ইলেভেনসহ দলের দুর্দিনে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন