ক্যাসিনোকাণ্ড ও টেন্ডারবাজির হোতা: অস্ত্র ও মাদক মামলায় জি কে শামীমের জামিন
jugantor
ক্যাসিনোকাণ্ড ও টেন্ডারবাজির হোতা: অস্ত্র ও মাদক মামলায় জি কে শামীমের জামিন
জানেন না রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী * আদেশটি জাল কিনা খতিয়ে দেখা হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৮ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যাসিনোকাণ্ড ও টেন্ডারবাজির ঘটনায় গ্রেফতার আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীম হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। ৪ ও ৬ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র ও মাদক মামলায় অত্যন্ত গোপনে তিনি জামিন পান বলে জানা গেছে। আদেশের কপি শনিবার গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে পৌঁছেছে। তবে জামিনের বিষয়টি জানেন না বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এফআর খান জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আদেশটি জাল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি এসএম মুজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের আদেশের কপিতে দেখা গেছে- দিনের কার্যতালিকায় ১৩৫ নাম্বারে (ক্রিমিনাল আপিল ১৪১১৯/২০১৯) এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম (জি কে শামীম) বনাম রাষ্ট্র ছিল। আদেশে শামীমের বাবার নাম হাফেজ আফসার উদ্দিন মাস্টার ও মায়ের নাম আয়েশা আক্তার লেখা রয়েছে। বর্তমান ঠিকানা- বাড়ী নং ১১৩, রোড নং ৫, ব্লক নং ৫/বি, নিকেতন, গুলশান লেখা হয়েছে। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার দক্ষিণপাড়া লেখা হয়েছে।

জানা গেছে, ৬ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের জামিন পান জি কে শামীম। লিখিত আদেশ ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়।

আদেশে অ্যাডভোকেট শওকত ওসমানকে শামীমের আইনজীবী আর রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফজলুর রহমান খান (এফআর খান), সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মো. মাহমুদুল করিম রতন ও মো. শফিকুজ্জামান রানার নাম উল্লেখ রয়েছে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে জামিনের বিষয়টি জানেন না বলে যুগান্তরকে জানান এফআর খান।

তিনি বলেন, সাধারণত স্পর্শকাতর মামলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল সাবমিশন করেন। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জি কে শামীম জামিন পেলেন তা আমরা জানতে পারলাম না। ওইদিন আমি কোর্টে ছিলাম। আদেশটি জাল কিনা সেটা রোববার খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে, জি কে শামীমের আইনজীবী শওকত ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, অস্ত্র ও মাদক মামলায় জি কে শামীম হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। দুই মামলায় জামিননামা ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এ দুটি মামলায় জামিন পেলেও তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা আছে। এ দুটিতে তিনি জামিন পাননি। এ কারণে এখনই তার মুক্তি মিলছে না।

১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর জি কে শামীমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগেও মামলা রয়েছে। ২১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ করা মামলায় শামীমের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৯ লাখ টাকা জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ থাকার অভিযোগ আনা হয়।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানান, অস্ত্র ও মাদকের দুটি মামলায় জিকে শামীমের জামিন হয়েছে। কবে হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাসখানেক হবে, তারিখ এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। কাগজপত্র না দেখে বলা যাবে না। জামিনের কোনো নথি কারা কর্তৃপক্ষ পায়নি বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

ক্যাসিনোকাণ্ড ও টেন্ডারবাজির হোতা: অস্ত্র ও মাদক মামলায় জি কে শামীমের জামিন

জানেন না রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী * আদেশটি জাল কিনা খতিয়ে দেখা হবে
 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৮ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যাসিনোকাণ্ড ও টেন্ডারবাজির ঘটনায় গ্রেফতার আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীম হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। ৪ ও ৬ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র ও মাদক মামলায় অত্যন্ত গোপনে তিনি জামিন পান বলে জানা গেছে। আদেশের কপি শনিবার গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে পৌঁছেছে। তবে জামিনের বিষয়টি জানেন না বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এফআর খান জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আদেশটি জাল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি এসএম মুজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের আদেশের কপিতে দেখা গেছে- দিনের কার্যতালিকায় ১৩৫ নাম্বারে (ক্রিমিনাল আপিল ১৪১১৯/২০১৯) এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম (জি কে শামীম) বনাম রাষ্ট্র ছিল। আদেশে শামীমের বাবার নাম হাফেজ আফসার উদ্দিন মাস্টার ও মায়ের নাম আয়েশা আক্তার লেখা রয়েছে। বর্তমান ঠিকানা- বাড়ী নং ১১৩, রোড নং ৫, ব্লক নং ৫/বি, নিকেতন, গুলশান লেখা হয়েছে। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার দক্ষিণপাড়া লেখা হয়েছে।

জানা গেছে, ৬ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের জামিন পান জি কে শামীম। লিখিত আদেশ ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়।

আদেশে অ্যাডভোকেট শওকত ওসমানকে শামীমের আইনজীবী আর রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফজলুর রহমান খান (এফআর খান), সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মো. মাহমুদুল করিম রতন ও মো. শফিকুজ্জামান রানার নাম উল্লেখ রয়েছে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে জামিনের বিষয়টি জানেন না বলে যুগান্তরকে জানান এফআর খান।

তিনি বলেন, সাধারণত স্পর্শকাতর মামলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল সাবমিশন করেন। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জি কে শামীম জামিন পেলেন তা আমরা জানতে পারলাম না। ওইদিন আমি কোর্টে ছিলাম। আদেশটি জাল কিনা সেটা রোববার খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে, জি কে শামীমের আইনজীবী শওকত ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, অস্ত্র ও মাদক মামলায় জি কে শামীম হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। দুই মামলায় জামিননামা ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এ দুটি মামলায় জামিন পেলেও তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা আছে। এ দুটিতে তিনি জামিন পাননি। এ কারণে এখনই তার মুক্তি মিলছে না।

১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর জি কে শামীমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগেও মামলা রয়েছে। ২১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ করা মামলায় শামীমের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৯ লাখ টাকা জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ থাকার অভিযোগ আনা হয়।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানান, অস্ত্র ও মাদকের দুটি মামলায় জিকে শামীমের জামিন হয়েছে। কবে হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাসখানেক হবে, তারিখ এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। কাগজপত্র না দেখে বলা যাবে না। জামিনের কোনো নথি কারা কর্তৃপক্ষ পায়নি বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ক্যাসিনোয় অভিযান