অস্ত্র-মাদক-জাল টাকা উদ্ধার মামলা

পাপিয়া দম্পতি ১৫ দিনের র‌্যাব হেফাজতে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন। ফাইল ছবি

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনকে তিন মামলায় ৫ দিন করে ১৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে ৩ মামলার তদন্তভার র‌্যাব পাওয়ার পর বুধবার শুনানি শেষে ঢাকার দুই হাকিম আদালত আসামিদের রিমান্ডে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

বিমানবন্দর থানায় জাল নোট মামলার রিমান্ডের অনুমতি দেন মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস এবং শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় রিমান্ডের আদেশ দেন মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী।

বুধবার ডিবি পুলিশের নেয়া ১৫ দিনের রিমান্ড শেষে র‌্যাব পাপিয়া ও সুমনকে আদালতে হাজির করে। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে তাদের আদালতে তোলা হয়। এ সময় সুমনের হাতে হাতকড়া থাকলেও পাপিয়ার হাতে ছিল না। এর পাঁচ মিনিট পরই বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস এজলাসে আসেন এবং প্রথমেই জাল টাকা উদ্ধারের মামলার শুনানি হয়।

এই মামলায় পাপিয়া দম্পতি ও তাদের দুই সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তাবিয়া নূরের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন আসামিদের রিমান্ডের এ আবেদন করেন। আদালতে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।

অপরদিকে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না। শুনানি শেষে দেবব্রত বিশ্বাস পাপিয়া দম্পতির ৫ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন এবং কারাগারে থাকা দুই সহযোগীর উপস্থিতিতে তাদের রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেন।

এরপর পাপিয়া দম্পতিকে অপর হাকিম আদালতে নেয়া হয়। সেখানে অস্ত্র ও মাদক মামলার রিমান্ড শুনানি হয়। অস্ত্র মামলায় পাপিয়া দম্পতির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১-এর এসআই আরিফুজ্জামান আসামিদের রিমান্ড আবেদন করেন।

এ ছাড়া মাদক মামলায়ও আসামিদের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১-এর এসআই খোরশেদ আলম আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা কীভাবে বিদেশ থেকে মদ এনেছে, কার কাছে বিক্রি করত, বিদেশি মদ চোরাচালানের রুট এবং সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের সদস্যদের শনাক্তকরণ ও গ্রেফতারসহ মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার মামলায় রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। অপরদিকে আসামিপক্ষে কোনো আইজীবী ছিলেন না। তবে আদালতের অনুমতি নিয়ে পাপিয়ার স্বামী সুমন বলেন, আমরা ৩ মামলায় ১৫ দিন রিমান্ড খেটে এসেছি।

আমরা যে কোর্টে এসেছি, তা আমাদের আইনজীবীরা জানেন কি না, তা জানি না। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী দুই মামলায় ৫ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড আদেশ দেন। দুপুর দেড়টার দিকে ৩ মামলায় আসামিদের রিমান্ড শুনানি শেষ হয়।

রিমান্ড শুনানিকালে সুমনকে স্বাভাবিক দেখা গেলেও পাপিয়ার মন খারাপ ছিল। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এই তিন মামলায় পাপিয়া দম্পতিকে ১৫ দিনের ও তাদের দুই সহযোগীকে জাল টাকা উদ্ধারের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ। ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

গ্রেফতার অন্যরা হলেন : পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি পাসপোর্ট, নগদ দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ ইউএস ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়।

পরে ফার্মগেটে ২৮ নম্বর ইন্দিরা রোডের রওশন’স ডমিনো রিলিভো নামক বিলাসবহুল ভবনে তাদের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ ও নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড জব্দ করে র‌্যাব।

ঘটনাপ্রবাহ : পাপের রাজ্যে পাপিয়া

আরও
আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত