২৫ মাস পর কারামুক্তি, গুলশানের বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া

আপাতত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন * বাসায় থেকেই নেবেন চিকিৎসা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদা জিয়া

কারামুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় ফিরলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বুধবার বিকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর ভিড় আর স্লোগানের মধ্যে বাসায় পৌঁছেন তিনি। আপাতত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী- এমন তথ্য জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ৭৯ নম্বর সড়কের ওই বাসা থেকে বকশিবাজারের বিশেষ আদালতে দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ওইদিনই সেই আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ড দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠান। দুর্নীতির দায়ে ২ বছর ১ মাস ১৭ দিন সাজা ভোগের পর ‘মানবিক বিবেচনায়’ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের জন্য মুক্তি পেলেন খালেদা জিয়া।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার বিকাল সোয়া ৪টায় হাসপাতাল থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা হন খালেদা জিয়া। সোয়া ৫টায় বাসায় পৌঁছেন তিনি। এ সময় তার পরনে ছিল ‘ট্রেডমার্ক’ হয়ে ওঠা গোলাপি শাড়ি, চোখে সানগ্লাস, আর মুখে মাস্ক। ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার নিজে গাড়ি চালিয়ে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেন।

শামীমের স্ত্রী কানিজ ফাতেমাও ছিলেন ওই গাড়িতে। পেছনের গাড়িতে ছিলেন স্বেচ্ছায় কারাভোগকারী গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। তবে করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিয়ে সিনিয়র নেতাসহ সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। এদিকে ফিরোজায় গাড়িটি পৌঁছার পর সেজো বোন সেলিমা ইসলাম, স্বামী রফিকুল ইসলাম, প্রয়াত সাইদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইস্কান্দার, জোবায়দা রহমানের বোন শাহিনা খান জামান বিন্দুসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে ফুলের স্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

সেজ বোন ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর হাতে ভর করে তিনি গাড়ি থেকে নেমে হুইলচেয়ারে বসেন। এরপর তাকে শয়নকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। লন্ডনে অবস্থানরত ছেলে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও নাতনি জাইমা রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন খালেদা জিয়া।

এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ একজন যুগান্তরকে জানান। বাসায় পৌঁছার পর খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পরিবারের সদস্য এবং সিনিয়র কয়েক নেতা ছাড়া কাউকে বাসায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। আপাতত তিনি নিজ বাসায় থাকবেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির খবরে বিএনপির নেতাকর্মীরা বেশ স্বস্তি প্রকাশ করেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করেই এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মানবিক দিক বিবেচনায় সরকার দুই শর্তে তাকে মুক্তি দেয়ার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শর্ত দুটি হচ্ছে- খালেদা জিয়া বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না।

এরপর বিএনপি নেত্রীর দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে মুক্তির আদেশের নথি মঙ্গলবারই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত ফাইল প্রস্তুত করে তা বুধবার গণভবনে পাঠায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিজেও সকালে গণভবনে যান। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসে।

মন্ত্রণালয় তখন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে তা কারাগারে পাঠায়। এরপর খালেদা জিয়ার মুক্তির কাগজ নিয়ে একজন কারা কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান। বেলা ৩টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অর্ডার পাওয়ার পর বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকের ৬ তলায় ৬২১ ও ৬২২নং কক্ষে পাহারাত কারারক্ষী প্রত্যাহার করে নিলে আনুষ্ঠানিকভাবে খালেদা জিয়া মুক্ত হন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক বলেন, উনাকে আমরা ৩টার দিকে ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দিয়েছি। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে উনি বিকাল সোয়া ৪টার দিকে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। খালেদা জিয়াকে তার গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ নিয়ে যেতে আগেই হাসপাতালের বাইরে এনে রাখা হয় গাড়ি।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ খালেদা জিয়ার পরিবারের কয়েকজন সদস্য তার কেবিনে যান। কেবিন ব্লকে খালেদা জিয়ার মুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন একটি হুইলচেয়ার নিয়ে যাওয়া হয় ছয় তলার ৬২১ নম্বর কেবিনে। সূত্র জানায়, মুক্তি দেয়ার আগে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এর একটি কপি খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদেরও দেয়া হয়। বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে প্রিজন সেল (৬২১ নম্বর কেবিন) থেকে খালেদা জিয়া হুইলচেয়ারে চেপে জনসম্মুখে এলে উপস্থিত নেতাকর্মী স্লোগান দিতে থাকেন। ‘খালেদা’, ‘খালেদা’, ‘জিয়া, ‘জিয়া’ মুহুর্মুহু স্লোগান ধরেন তারা। স্লোগানে স্লোগানে কম্পিত হয় বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনের এলাকা।

এদিকে করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ও জমায়েত না করার বিষয়ে বারবার হুশিয়ারির পরও বিএনপির নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করলে পরিস্থিতি কিছুটা বেসামাল হয়ে পড়ে। পুলিশ ও বিএনপির মহাসচিব হ্যান্ডমাইকে বারবার নেতাকর্মীদের হাসপাতাল চত্বর থেকে সরে যেতে অনুরোধ জানান।

কিন্তু নেতাকর্মীরা কারও কথায় কর্ণপাত না করে সেখানে ভিড় করেন। খালেদা জিয়াকে নিয়ে তার গাড়িবহর বিকাল সোয়া ৪টায় হাসপাতাল থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা হয়। তার গাড়িবহরে অনেক নেতাকর্মীর গাড়িও দেখা যায়। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সামনে ও পেছনে অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

নেতাকর্মীর ভিড়ের কারণে গাড়ি আস্তে চালাতে হয়। কারওয়ান বাজারে এলে আশপাশের নেতাকর্মীরা বহরে যুক্ত হন। এ সময় নেতাকর্মীদের ভিড় সামলাতে পুলিশ মারমুখী হয়ে ওঠে। ফার্মগেট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এলাকাসহ কয়েকটি জায়গায় নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বিজয় সরণি এসে গাড়িবহরে থাকা মোটরসাইকেলকে ঘুরিয়ে দেয় পুলিশ। রাস্তা ফাঁকা থাকলেও শাহবাগ থেকে গুলশানের বাসায় পৌঁছতে ১ ঘণ্টা সময় লাগে।

এদিকে গুলশানের বাসার সামনে দুপুরের পর নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। খালেদা জিয়া বিকাল সোয়া ৫টায় বাসায় পৌঁছেন। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, গত সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, তাবিথ আউয়াল, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহসহ কয়েকশ’ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তারা নানা স্লোগান দেন। ফিরোজায় খালেদা জিয়া প্রবেশের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ম্যাডাম অসুস্থ। চিকিৎসক ও তার সঙ্গে কথা বলে আমরা তাকে বাসায় নিয়ে এলাম। তিনি আপাতত বাসায় থাকবেন। চিকিৎসার জন্য তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা থাকবেন।

আশা করি, চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তার সুস্থতার বিষয়ে চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’ খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এত নেতাকর্মী এসেছেন আবেগের কারণে। আমরা কিন্তু করোনার জন্য নেতাকর্মীদের ভিড় না করার জন্য বলেছিলাম। এটা না বললে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসত।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত খবর পাওয়ার পর করোনাভাইরাস আতঙ্ক উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা ছুটে যান হাসপাতালে। গুলশানের বাসার সামনেও ভিড় করেন তারা। দল থেকে হাসপাতাল ও বাসার সামনে ভিড় না করার আহ্বান জানালেও তা পাত্তাই দেননি তারা।

এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ব্যাপক সমালোচনা করেন। ক্ষুব্ধ হন সিনিয়র নেতারাও। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, যারা চেয়ারপারসনকে দেখার অজুহাতে হাসপাতাল ও বাসার সামনে ভিড় করেছেন, তারা তার ভালো চান কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

কোয়ারেন্টিনে থাকবেন : আপাতত খালেদা জিয়া কোয়ারেন্টিনে থাকবেন, নেতাকর্মীদেরও তিনি কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলেছেন বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার রাতে ফিরোজায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলীয় প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিএনপি মহাসচিব একথা জানান।

তিনি বলেন, আমরা শুধু ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। তিনি খুব অসুস্থ। চিকিৎসকরা তাকে দেখছেন। তার চিকিৎসার ব্যাপারটা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে এবং কিছুদিন অন্তত ম্যাডামকে যেন কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। অর্থাৎ অন্য কেউ যেন দেখা-সাক্ষাৎ না করে সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

এ সময়ে আমরা রাজনৈতিক কোনো আলোচনা করিনি। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ও আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, শুকরিয়া আদায় করেছেন যে, তিনি বাসায় ফিরে এসেছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনারা দেখেছেন যে, চেয়ারপারসন খুব অসুস্থ। তারপরেও তিনি সব নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং সবাইকে ভালো থাকতে বলেছেন। ভয়াবহ যে মহামারী হচ্ছে সেজন্য সবাই যেন আমরা সচেতনভাবে ভালো চলি ও নিজেকে বাঁচিয়ে চলি সে কথা তিনি বলেছেন। ক’দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন খালেদা জিয়া এরকম প্রশ্নের উত্তরে ফখরুল বলেন, সেটা চিকিৎসকরা ঠিক করবেন।

সরব ফিরোজা : গুলশান-২ নম্বরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’ আগেই ধুয়ে-মুছে সাফ করা হয়েছে। আনা হয় ফুলের টব। সকালে চাল-ডাল, কাঁচাবাজারও আনা হয়। মঙ্গলবার খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন সরকারের তরফ থেকে এ ঘোষণা আসার পরপরই তার স্বজনরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

বেলা ৩টার দিকে শামীম ইস্কান্দার তার বাসা থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে আসেন। তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা ছিলেন তারাও সকালেই বাসায় আসেন। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে গত ২ বছর একরকম খালিই পড়েছিল ফিরোজা। দু’বার তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সন্তানদের নিয়ে থেকে গেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন : খালেদা জিয়ার মুক্তির আগে বুধবার দুপুরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড ৬ মাস স্থগিত করে মুক্তির ফাইল প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২ বছর ২ মাস ধরে কারাগারে বন্দি অবস্থায় আছেন। তিনি দুটি মামলায় দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের ব্যক্তিগত রিকোয়েস্ট এবং তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এটা কনসিডার করা যায় কিনা, সেটা আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং হয়ে যখন আসে তখন আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নির্দেশনা চাই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার (খালেদা জিয়া) ছোট ভাই এবং বোনের স্বামী ব্যক্তিগতভাবে তার জন্য আবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী যে মানবতার নেতা, তাকে যে মাদার অব হিউম্যানিটি বলা হয়, সেটা তিনি আবার প্রমাণ করলেন। সবকিছু উপেক্ষা করে আজ দণ্ড স্থগিত করে তাকে বের করার নির্দেশনা (এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন) আমাদের দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা কিছুক্ষণের মধ্যে কার্যকর হতে যাচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসনের পুত্র যখন মৃত্যুবরণ করেন, তাকে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন খালেদা জিয়া তার গেটটিও খোলার প্রয়োজন মনে করেননি। যেখানে তার (শেখ হাসিনা) সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষরণ সেই ১৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারপারসন তার জন্মদিন পালন করতেন। এই সবকিছু ভুলে গিয়ে তার ভাই, বোন, বোনের স্বামীর আবেদন-নিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছেন।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আইনের কিছু জটিলতা আছে তাই দুটি শর্তে তাকে চিকিৎসাসেবার জন্য তার ছোট ভাইয়ের জিম্মায় ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেয়া হল।’ এ সময় তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখুন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তিনি করবেন কেন? তিনি তো এখনও সাজাপ্রাপ্ত, দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি। ৬ মাসের জন্য তার দণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। দুটি শর্ত ভঙ্গ করলে তাকে আবার জেলে যেতে হবে কিনা- জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।’

শর্ত ভঙ্গ করলে মুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিল : শর্ত ভঙ্গ করলে খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বুধবার সুপ্রিমকোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এমন মন্তব্য করে বলেন, সরকার চাইলে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করতে পারে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মাহবুবে আলম বলেন, সাজা স্থগিত মানে এই না যে, তিনি অন্যান্য সব মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তার আপিল পেন্ডিং আছে, অন্যান্য সব মামলার কার্যক্রমও অব্যাহত আছে, সেগুলো চলবে। খালেদা জিয়ার সাজাটা শুধু স্থগিত করা হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা(১) অনুযায়ী খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ স্থগিত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ব্যবস্থা সারা বিশ্বে রয়েছে। আমাদের দেশে ব্রিটিশ আমল থেকেই আছে।’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সাজা স্থগিত করা হয়েছে ৬ মাসের জন্য। সেই সময় শেষ হলে তিনি আগের অবস্থায় ফিরে যাবেন, যদি না সরকার এটা বর্ধিত করে। এ ৬ মাসের শর্ত ভঙ্গ করলে যে কোনো সময় সরকার তা রিকল (প্রত্যাহার) করতে পারে।’

রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি আইনমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে, সেটা হল শারীরিক অবস্থা ভয়ানক খারাপ বলে আবেদন করায় খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। এরপরও যদি তিনি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেন, এটা আমার অভিমত, পরোক্ষভাবে যে উনার শারীরিক অবস্থা খারাপ আবেদনের এ যুক্তিটির শর্ত ভঙ্গ হয়ে যাবে।’

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের স্বাগতম : মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক টুইট বার্তায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারীর সময় এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশটির জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে।

ঘটনাপ্রবাহ : খালেদা জিয়ার মুক্তি

আরও
আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫৬ ২৬
বিশ্ব ১০,০০,১৬৮২,১০,১৯১৫১,৩৫৪
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×