‘খালি হাতে’ ফেরেননি সাকিবরা

  স্পোর্টস রিপোর্টার ২০ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাকিব,

মোস্তাফিজের যদি আর এক ওভার থাকত। রুবেল যদি অমন ছন্নছাড়া বোলিং না করতেন। কার্তিক করলেনটা কী। শেষ বলে দরকার পাঁচ রান। আর তিনি কিনা ছয় মেরে জাভেদ মিয়াঁদাদ হয়ে গেলেন!

এমন আরও টুকরো টুকরো সংলাপ কাল ঘুরেছে মানুষের মুখে মুখে। যেন রোববার রাতে হানা দিয়েছিল দুঃস্বপ্ন। কলম্বোর প্রেমাদাসায় শেষ বলে দিনেশ কার্তিকের ছক্কায় হারার যন্ত্রণা নিয়ে সাকিব আল হাসানরা ফিরলেন সোমবার। শুধু কী তীরে এসে তরী ডোবার বেদনা নিয়ে ফেরা?

মুশফিকুর রহিম তা মানতে নারাজ। দলের মুখপাত্র হয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে আসা মুশফিক বললেন, ‘আমরা এক ধাপ এগিয়েছি সঠিক পথে। দেখিয়েছি যে, টি ২০-তেও ধারাবাহিক হতে পারি আমরা। এখনও উন্নতির অনেক জায়গা বাকি। যেমন, আমাদের টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের খেলাটা শেষ করে আসতে হবে। পাওয়ারপ্লে’র ওভারগুলোতে বেশি উইকেট নিতে হবে আমাদের বোলারদের। ডেথ ওভারে বোলিং নিয়ে কাজ করতে হবে।’ মুশফিকের কথার সারাংশ হল এই যে, একেবারে খালি হাতে শ্রীলংকা থেকে ফেরেননি তারা। নিদাহাস ট্রফির আগে নিজেদের আঙিনায় তিন ফরম্যাটের সিরিজে মাহমুদউল্লাহরা যতটা ম্লান ছিলেন, রানাতুঙ্গা-জয়সুরিয়াদের দেশে ততটাই অফুরান শক্তি-সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন তারা। ফাইনালের জয়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মা তাই দ্বিধাহীন চিত্তে বাংলাদেশের অকুতোভয় খেলার প্রশংসা করেছেন। কুর্নিশ জানিয়েছেন প্রতিপক্ষের ক্রিকেট-সামর্থ্যকে। রোহিতের স্তুতিও বাংলাদেশের অর্জনের ভাণ্ডার ঋদ্ধ করেছে।

তবু কিঞ্চিৎ আফসোস, শেষ বলে যদি ছয় না হতো। সৌম্যকে দড়ির ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে কার্তিক অসম্ভব এক জয় এনে দিলেন ভারতকে। আমজনতা যতই সৌম্যকে এজন্য দোষারোপ করুক না কেন, মুশফিক এজন্য সৌম্যের ওপর দায় চাপাতে নারাজ। ‘খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। তবে শেষ বলে হেরে যাওয়ার জন্য কোনো একজনকে দায়ী করাটা অযৌক্তিক। আমাদের বোলাররা যদি দু’এক রান করে কম দিত, ব্যাটসম্যানরা যদি আরও ১০ রান বেশি করত, তাহলে হয়তো ফলটা অন্যরকমও হতে পারত।’

ক্রিকেটের ক্ষুদে সংস্করণে এতদিন নিজেদের পুষ্পিত করে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। টি ২০ ক্রিকেটেই তাদের কমজোরি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে এর আগে। শ্রীলংকার স্বাধীনতার ৭০ বছর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ত্রিদেশীয় টি ২০ টুর্নামেন্টে দেখা গেল বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের ক্ষুদে ফরম্যাট। যে ব্র্যান্ডে মোহিত রোহিত। অকপটে স্বীকার করে নিলেন, বাংলাদেশ সত্যিই ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলেছে এই আসরে। তিন কাঠির খেলায় এগিয়ে যেতে হলে এমন অবিশ্বাস্য, অকুতোভয় ক্রিকেটই হতে পারে চালিকাশক্তি, সেই সনদও দিলেন তিনি মাহমুদউল্লাহদের। ১২ বলে ৩৪ রানের সমীকরণ মিলিয়ে দেয়ার জন্য ফাইনালের ম্যাচসেরা কার্তিকের প্রতি যেমন তার কৃতজ্ঞতা ঝরেছে, তেমনি বাংলাদেশকেও তাদের প্রাপ্য প্রশংসা দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি রোহিত।

দিনশেষে ক্রিকেট একটা খেলাই। হার-জিত দুই সহোদরের মতো। পাশাপাশি চলে হাত ধরাধরি করে। কখনও জয়ের হাত ছেড়ে দেয় পরাজয়। কখনও পরাজয়ের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যায় জয়। গত পরশু রাতে কলম্বোয় শেষ বলে আশাভঙ্গের আখ্যানের পর ক্রিকেটবোদ্ধা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ- সবাই আক্ষেপে পুড়েছেন। ‘যদি’, ‘কিন্তু’র ধাঁধায় ঘাম ঝরিয়েছেন। নিরেট বাস্তবতা হল, জয় বেরিয়ে গেছে মুঠো থেকে। এটাই ক্রিকেট।

এদিকে জয় হাতছাড়া করার যন্ত্রণা বুকে চাপা দিয়ে মুশফিক যখন আগামীর স্বপ্নে বিভোর, রুবেল হোসেন তখন ক্ষমা চেয়েছেন এক ওভারে ২২ রান দেয়ার জন্য। তিনি মনে করেন, তার জন্যই দল হেরেছে। সেটি ছিল ১৯তম ওভার। মোস্তাফিজের স্বপ্নের ওভারের পর যেটি দুঃস্বপ্ন হয়ে আসে। শেষ বলে ছক্কা হজম করা সৌম্যও দুঃখপ্রকাশ করেছেন দেশবাসীর কাছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ত্রিদেশীয় সিরিজ শ্রীলংকা ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter