দেশে নতুন রোগী শনাক্ত হয়নি

ছুটি বাড়ানোর প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী * ৩০ হাজার টেস্ট কিট দিলেন জ্যাক মা

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এ নিয়ে পরপর দুই দিন তিনটি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে বাংলাদেশে নতুন রোগী পাওয়া যায়নি। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪৮ জনে স্থির রয়েছে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের।

রোববার দুপুরে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)। জ্যাক মা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৩০ হাজার টেস্ট কিট, দুই লাখ ৭০ হাজার ফেসমাস্ক এবং ৩০ হাজার এন-৯৫ মাস্ক পাওয়া গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআর, জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এবং বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশন ডিজিজ (বিআইটিআইডি)-এ পরীক্ষাগুলো করা হয়েছে।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইইডিসিআরের হটলাইনে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত দুই হাজার ৭২৬টি ফোন কল এসেছে।

অনলাইন ব্রিফিংয়ে একপর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক সংযুক্ত হয়ে করোনাভাইরাসের কারণে জরুরিভিত্তিতে ঘোষিত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হবে কিনা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেন, ছুটি বাড়ানোর প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি বুঝে প্রধানমন্ত্রী সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আমরা পর্যবেক্ষণ করব, আপনারাও পর্যবেক্ষণ করবেন, দেশবাসী করবেন, প্রধানমন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করবেন।

যদি ১০ দিনে দেশের ও পৃথিবীর পরিস্থিতি একটা সহনশীল অবস্থায় চলে আসে তখন এক ধরনের চিন্তা হবে। তবে যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তাহলে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেব, তিনি যেন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী যদি পরিস্থিতি দেখে ছুটি বাড়াতে চান তো বাড়াবেন, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সবাইকে বুঝতে হবে, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন ছুটি, আর আমরা ট্রেনে-বাসে-লঞ্চে গ্রামের বাড়ি ফিরলাম। এটা মোটেও ঠিক হয়নি। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে বলব এটা একটা সংক্রামক ব্যাধি।

ওইভাবে বাড়ি ফেরায় সংক্রমণের পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। আমি মনে করি ছুটি শেষে ফেরার সিদ্ধান্ত হলে করোনার ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে ব্যক্তিগত সুরক্ষার, শিষ্টাচার ও দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম বলেছে সেটা মেনে ঢাকায় ফেরা উচিত।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে কোভিড-১৯ আক্রান্ত কিনা এবং তিনি হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আক্রান্ত নই, পরীক্ষা করেই নিশ্চিত হয়েছি। তবে অন্য সবাই যেভাবে ঘরবন্দি হয়ে আছেন, তিনিও তাই করছেন। আমি সেইভাবে কোনো রকমের আক্রান্ত নই বিধায় আমি কোয়ারেন্টিনের কথা বলব না, বাট আমি আছি। যেভাবে অন্যরা আছে সেভাবেই আমি আছি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনেক বড় মন্ত্রণালয়। ওখানে অনেক মানুষ আসা-যাওয়া করে। ডাক্তার আসা-যাওয়া করে। বাইরের লোক আসা-যাওয়া করে। এক্ষেত্রে দু’একজন আক্রান্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্য ভবনে স্থাপিত করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সমন্বিত কন্ট্রোল রুমের তথ্য দেখা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে দেশে ৬ লাখ ৬৫ হাজার ২৯৬ জন প্রবেশ করেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রবেশ করেছেন ১৫১ জন।

দেশে এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৫৮৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। যার মধ্যে ২৯ হাজার ৫৬০ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে দুই হাজার ৭৯০ জন। যার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আছে ১০২ জন।

বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৫৮ জন। সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫শ’ পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুপমেন্ট- পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া জ্যাক মা ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে ৩০ হাজার টেস্ট কিট, দুই লাখ ৭০ হাজার ফেসমাস্ক এবং ৩০ হাজার এন-৯৫ মাস্ক পাওয়া গেছে।

ইউনাইটেড হসপিটালে টেলি-মেডিসিন সেবা : করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমান অনিশ্চয়তায় হাসপাতালে এসে চিকিৎসাসেবা নেয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় জরুরি রোগের ধারাবাহিক চিকিৎসা পরামর্শে টেলি-মেডিসিন সেবার ব্যবস্থা করেছে ইউনাইটেড হসপিটাল।

এছাড়া স্কাইপের মাধ্যমে কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে ইউনাইটেড হসপিটালের টেলি-মেডিসিন সেবায় অভিজ্ঞ কনসালটেন্টদের চিকিৎসা পরামর্শ নিতে ১০৬৬৬ অথবা ০২-৯৮৫২৪৬৬ নম্বরে ফোন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাবে।

নির্ধারিত সময়ে স্কাইপের সাহায্যে সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কনসালটেশন নেয়া যাবে। টেলি-মেডিসিন সেবার আগেই রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসাপত্র ও রিপোর্ট ই-মেইল বা ছবি তুলে স্কাইপের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়া যাবে।

ইউনাইটেড হসপিটালের ইন্টার্নাল মেডিসিন, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, জেনারেল এন্ড ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি, নিওনেটোলজি ও পেডিয়াট্রিক্স, অবস্ অ্যান্ড গাইনি, ডায়াবেটিস ও এন্ডোক্রাইনোলজি, ইএনটি, রেসপিরেটরি মেডিসিন, অর্থোপেডিক্স, নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি, ক্যান্সার এবং অপথ্যালমোলজি (চক্ষু) রোগের অভিজ্ঞ কনসালটেন্টগণ রোগীদের টেলি-মেডিসিন সহায়তা দেবেন।

জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদ : জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডা. ফয়জুল হাকিম এক বিবৃতিতে দেশে জরুরি ভিত্তিতে করোনাভাইরাস টেস্ট করার দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, টেস্ট ছাড়া করোনাভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব নয়। রোগীকে পৃথক বা আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া ও চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব নয়। কোভিড-১৯ মোকাবেলার এটাই পথ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মী দিয়ে মাঠ পর্যায়ে সন্দেহভাজন রোগী খুঁজে বের করাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে কোভিড-১৯ পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন এবং হাসপাতাল প্রস্তুতকরণ অত্যন্ত জরুরি।

করোনা পরিস্থিতিতে একসঙ্গে হেলো ও বাটা : হেলদি হার্ট হেপি লাইফ অর্গানাইজেশন (হেলো) এবং বাটা সু কোম্পানি বাংলাদেশ একসঙ্গে সম্মিলিতভাবে করোনা পরিস্থিতিতে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে রোববার বাটা সু কোম্পানির পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের জন্য পিপিই, মাস্ক, গ্লাভস আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেলোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ডা. মহসীন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক ড. আসিফুর রহমান এবং বাটার সু কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার জলিল আহমেদ চৌধুরী ও মালিক মেহেদী কবীর।

ডা. মহসীন আহমদ জানান, এগুলো সোমবার কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতালে (করোনার জন্য প্রস্তুতকৃত নতুন হাসপাতাল) চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দেয়া হবে। এরপর হেলোর চিকিৎসক সদস্যরা ঘুরে ঘুরে যেসব হাসপাতালে ফ্রন্ট লাইন স্বাস্থ্য কর্মীরা পাচ্ছে না তাদের বিতরণ করবে। এছাড়া রাস্তার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে মাস্ক ও গ্লাভস বিতরণ করা হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত