জেনেক্সপার্ট কার্যকর করোনা শনাক্তে

দিনে কমপক্ষে ৫ হাজার নির্ভুল পরীক্ষা করা সম্ভব * জেলা ও উপজেলায় আছে ২৫০টি, স্টকে আরও ৫০ মেশিন * সময় এবং অর্থ দুই সাশ্রয়

  রাশেদ রাব্বি ০৫ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নভেল করোনাভাইরাস শনাক্তে সবচেয়ে দ্রুত এবং নির্ভুল পরীক্ষায় জেনেক্সপার্ট (রিয়েল টাইম পিসিআর) মেশিন খুবই কার্যকর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ মেশিনেই করোনার বেশিরভাগ পরীক্ষা হচ্ছে। মেশিনটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অনুমোদিত।

বাংলাদেশের সব বিভাগের জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৫০টি জেনেক্সপার্ট মেশিন আছে। এগুলো ব্যবহারে মাত্র ৪৫ মিনিটে সারা দেশে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার পরীক্ষা নির্ভুলভাবে করা সম্ভব। টেস্ট কিট পেলেই প্রাণঘাতী এ ভাইরাস পরীক্ষায় এসব মেশিন কাজে লাগানো সম্ভব।

সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল ফান্ড এবং ইউএসএআইডিকে বাংলাদেশের জন্য ৩০ হাজার টেস্ট কিট বিনামূল্যে সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে দেশে নতুন পিসিআর (পলিমেরেজ চেইন রিঅ্যাকশন) মেশিন কিনে বিভিন্ন স্থানে বসানো হচ্ছে। কিন্তু এটি একই সঙ্গে সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। একটি মেশিন স্থাপন এবং বায়োসেফটি ল্যাব প্রস্তুত করতে অনেক সময় প্রয়োজন।

তাছাড়া এসব মেশিন ব্যবহারের জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তিও দরকার। অথচ সরকারের বর্তমানে অবকাঠামোতে শুধু জেনেক্সপার্ট (রিয়েল টাইম পিসিআর) মেশিন ব্যবহার করে এ সংক্রান্ত সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুলভে করা সম্ভব। যা সময়োপযোগী এবং সাশ্রয়ী। এক্ষেত্রে শুধু পর্যাপ্তসংখ্যক টেস্ট কিট সরবরাহ করতে হবে। এ মেশিন ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষিত জনবলও প্রস্তুত আছে।

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এমবিডিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ বছর ধরে বাংলাদেশে জেলা, উপজেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলো স্থাপিত জেনেক্সপার্ট মেশিন দিয়ে ২৫ লাখের বেশি যক্ষ্মার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে নতুন করে ৩ লাখ রোগী শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

অত্যন্ত সহজেই একটি নির্দিষ্ট কাঠি ব্যবহার করে মানুষের লালা সংগ্রহের মাধ্যমে টেস্ট কিটে বা কার্টিজে স্থাপন করলেই হল। এরপর কার্টিজটি মেশিনে দিয়ে দিলে মাত্র ৪৫ মিনিটেই পরীক্ষা শেষ করে ফলাফল পাওয়া যাবে। এখানে কোনো ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। ফলে এ মেশিন ব্যবহারের জন্য কোনো বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন নেই।

এ প্রসঙ্গে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম শামছুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, স্বল্প সময়ে পরীক্ষার জন্য জেনেক্সপার্ট (রিয়েল টাইম পিসিআর) মেশিনটি খুবই কার্যকর। এছাড়া যেহেতু সারা দেশে প্রায় ২৫০টি মেশিন বসানোই আছে সেগুলো কাজ করছে।

সেক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার যুক্তিযুক্ত হতো। তবে একসঙ্গে অনেক বেশি পরীক্ষা করতে হলে পিসিআর (পলিমেরেজ চেইন রিঅ্যাকশন) বেশি কার্যকর। পিসিআর দিনে একবার ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু জেনেক্সপার্ট মেশিন দিনে অনেক বার ব্যবহার করা যায়। সেক্ষেত্রে এ মেশিন দিয়েও এক দিনে অনেকের পরীক্ষা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, জেনেক্সপার্ট মেশিন ব্যবহার করে করোনাভাইরাস পরীক্ষার অনুমোদন ইতোমধ্যে এফডিএ দিয়েছে। কিন্তু ওই দেশে কোভিড-১৯ মহামারী রূপ ধারণ করায় তারা এ ধরনের পণ্য রফতানি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। যেহেতু নির্ধারিত কার্টিজ ছাড়া জেনেক্সপার্ট মেশিনে পরীক্ষা করা সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা।

‘জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এমবিডিসি) এক কর্মকর্তা জানান, গত এক মাস আগে বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জেনেক্সপার্ট মেশিন ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়। এমনকি তখন আমেরিকা থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জেনেক্সপার্ট টেস্ট কিট কার্টিজ আনা সম্ভব ছিল।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট অনেকেই তখন এ বিষয়ে একমত না হওয়ায় এ প্রক্রিয়া চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে অধিদফতরের মহাপরিচালকের অনুমিত সাপেক্ষে এমবিডিসির পক্ষ থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল ফান্ড এবং ইউএসএআইডিকে বাংলাদেশের জন্য ৩০ হাজার টেস্ট কিট বিনামূল্যে সরবরাহ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ‘জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, জেনেক্সপার্ট (রিয়েল টাইম পিসিআর) মেশিনে খুব সহজেই কোভিড-১৯ ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব। আমেরিকায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করেই পরীক্ষা হচ্ছে। তছাড়া এটি ব্যবহার অত্যন্ত সহজসাধ্য হওয়ায়, পিসিআর মেশিনের মতো এক্সপার্ট (বিশেষজ্ঞ) প্রয়োজন হয় না।

অধ্যাপক শামিউল বলেন, বর্তমান সময়ে করোনা মহামারী প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশি করে পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও অধিকতর পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সেক্ষেত্রে এ মেশিন ব্যবহারে খুব সহজেই সারা দেশে সব জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা সম্ভব হতো। এক্ষেত্রে অর্থ এবং সময় দুই সাশ্রয়ী হতো।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত