মার্কিন সার্জনের হুশিয়ারি: করোনায় পার্ল হারবারের ভয়াবহতা দেখবে যুক্তরাষ্ট্র

আগামী সপ্তাহ হবে সবচেয়ে ভয়াবহ * আক্রান্ত ৩,৩৬,৮৫১ মৃত্যু ৯৬২০

  যুগান্তর ডেস্ক ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কঠিন একটি সপ্তাহ অপেক্ষা করছে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন সার্জন জেনারেল জেরোমি অ্যাডামস। এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে আমেরিকানদের জন্য আবারও ‘পার্ল হারবার’ ও ‘নাইন-ইলেভেন’র মতো ভয়ঙ্কর সময় আসতে পারে। লাফিয়ে বাড়তে পারে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

জেরোমি অ্যাডামস বলেন, করোনা মোকাবেলায় আমেরিকার জনগণের জন্য সপ্তাহটি হবে সবচেয়ে জটিল এবং দুঃখজনক। জীবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, মৃত্যু শুধু এক জায়গায় হবে এমন নয়, পুরো আমেরিকায় হবে। আগামী এক মাস যদি আমেরিকার জনগণ তাদের অংশের দায়িত্ব পালন করে তাহলে আমাদের সামনে আশা আছে এবং আমরা সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে আশার আলো দেখতে পাব।

এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এই সপ্তাহ ও আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী সময়টি সবচেয়ে কঠিন সময় হতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ সময়ে অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, আমাদের সামনে এমন সময় আসছে যা খুব ভয়ংকর হতে পারে। আমরা কখনও এত বেশিসংখ্যক মৃত্যু দেখিনি। সম্ভবত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা এ ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও নয়। যদিও রোববার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আশার কথা শোনান ট্রাম্প, বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের হটস্পটগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে। শিগগিরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তিনি সুড়ঙ্গের শেষে উঁকি দেয়া আলোর ঝলক দেখতে পাচ্ছেন বলেও জানান।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। সেখানে এরই মধ্যে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে এসেছে। ইতোমধ্যে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় সেই চীনকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ সময় সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্য অনুযায়ী- বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে দেশটি। আমেরিকায় রোববার পর্যন্ত ১৬ লাখ মানুষের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন তিন লাখ ৩৬ হাজার ৮৫১ জন, মারা গেছেন ৯ হাজার ৬২০ জন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১২০০ জনের। দেশটির নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অবস্থাই সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট প্রাণহানির ৪০ ভাগেরও বেশি। লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যেকেও করোনার হটস্পট বলা হচ্ছে, সেখানেও প্রায় ৫০০-এর মতো মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

দেশটিতে এখনও কয়েক লাখ মানুষের ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়নি। আতঙ্ক ছড়িয়েছে হাসপাতালগুলোতেও। সাধারণ মানুষের একাংশ অভিযোগ করছেন, হাসপাতালে ভর্তি হয়েও নিরাপদ নন তারা। এ সম্পর্কে আমেরিকার ইমার্জেন্সি হেল্থ অফিসার ডক্টর রোজেনা স্মিথ বলেন, অনেকের ধারণা, যেসব হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা বেশি সেখানেই ভাইরাসটি বেশি ছড়াচ্ছে। ফলে অন্য রোগীরাও করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

জানা গেছে, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে জাপানি বাহিনী আক্রমণ করে ১৯৪১ সালের ২৬ নভেম্বর। নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক টর্পেডো নিক্ষিপ্ত হতে থাকে, সঙ্গে চলে প্রচণ্ড বোমা হামলা ও উপর্যুপরি মেশিনগানে গুলিবর্ষণ। ধ্বংস হতে থাকে একের পর এক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ নানা সমরাস্ত্র। এই আক্রমণে প্রায় আড়াই হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয়, আহত হয় আরও এক হাজারেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে ২০০৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিধ্বংসী জঙ্গি হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৩০০০ নাগরিকের প্রাণ যায়।

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত