কমলাপুর আইসিডিতে কনটেইনারের পাহাড়: শিল্পের কাঁচামাল খালাসে কাস্টমসের অনীহা
jugantor
কমলাপুর আইসিডিতে কনটেইনারের পাহাড়: শিল্পের কাঁচামাল খালাসে কাস্টমসের অনীহা
খাতা-কলমে উপস্থিতি থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন, বেশির ভাগ কর্মকর্তার কক্ষে ঝুলছে তালা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কমলাপুর আইসিডিতে সরকারের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। চলমান সাধারণ ছুটিতে সীমিত আকারে বন্দর-কাস্টমসের কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা থাকলেও কর্মকর্তারা কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন না। রোস্টার অনুযায়ী যাদের ডিউটিতে থাকার কথা, তারাও দুপুরের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন। এমনকি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি শুধু খালা-কলমে। এতে উদ্যোক্তারা শিল্পের কাঁচামাল ও জরুরি খাদ্যপণ্য খালাস করতে পারছেন না। করোনা প্রভাবের চলমান সংকটকালীন কর্মকর্তাদের এহেন গাফিলতির কারণে পোর্ট ও শিপিং এজেন্টের ডেমারেজ গুনতে হবে আমদানিকারকদের। এর ফলে এই দুঃসময়ে দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

সোমবার দুপুরে সরেজমিন কমলাপুর আইসিডি ঘুরে দেখা গেছে, শহরের ব্যস্ততম এই অংশে সুনসান নীরবতা। দ্বিতীয়তলায় কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার ও ডেপুটি কমিশনারদের কক্ষ। সেখানে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। তৃতীয়তলায় বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের অফিস। এই অফিসের ঢোকার কেচিগেটেও তালা লাগানো।

অর্থাৎ চাইলেও কেউ বন্দরের বিল জমা দিতে পারবেন না। ফলে কনটেইনার খালাসও নেয়া সম্ভব নয়। চতুর্থতলায় মোহাম্মদ নাহিদুন্নবী নামে একজন উপকমিশনার অফিস করছেন। তার সঙ্গে অফিস করছেন কয়েকজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দর-কাস্টমসের উদাসীনতার কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। আমদানি পণ্য বন্দরে বা ডিপোতে পড়ে থাকার কারণে ডেমারেজ চার্জের খক্ষ ব্যবসায়ীকেই বহন করতে হবে। এমনিতেই করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

বাস্তবতা হল, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালিফতির কারণে এখন যদি ডেমারেজ গুনতে হয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা যাবেন কোথায়? তারা বলছেন, আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্থবির হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও আর লোকসান গুনতে পারবেন না। এ অবস্থায় বন্দর ও শিপিং লাইনের ডেমারেজসহ যত ধরনের সারচার্জ আছে তা মওকুফ করার বিষয়ে সরকারকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও বন্দরের সব ধরনের চার্জ-সারচার্জ মওকুফ করেছে। প্রয়োজনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করতে পারে। তা না হলে ব্যবসায়ীদের আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

আইসিডি কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলমান সরকারি ছুটিতে রোস্টার অনুযায়ী ডিউটি পালন করছেন কর্মকর্তারা। একজন ক্যাডার কর্মকর্তার অধীনে কয়েকজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তা সমন্বয়ে গঠিত টিম গঠন করে দেয়া হয়েছে। শিফট অনুযায়ী এই টিমের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কাস্টমসে এখন পণ্যের শুল্কায়নের চাপ কম। সিএন্ডএফ এজেন্টরা মালামাল খালাস করতে আসছে না। তাছাড়া পণ্য খালাসের বিষয়ে এনবিআর থেকে একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেখানে এই আপৎকালীন কোন কোন পণ্য (নিত্যপণ্য, ওষুধ ও সেবাসামগ্রী এবং শিল্পের কাঁচামাল) খালাস করা যাবে তা বলা আছে। সমস্যা হচ্ছে, কাস্টমসে প্রত্যেক অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রুপ রয়েছে। আর রোস্টারে একজন কর্মকর্তাকেই সব গ্রুপের পণ্য শুল্কায়নের দায়িত্ব দেয়া আছে। কিন্তু নানারকম ঝামেলা এড়াতে কোনো কর্মকর্তা নিজ গ্রুপের বাইরে অন্য কোনো গ্রুপের পণ্য অ্যাসেসমেন্ট করতে চান না। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অনেক ক্ষেত্রে এভাবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে কমলাপুর আইসিডির কমিশনার মোবারা খানম বলেন, ‘সীমিত আকারে এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাস্টমস খোলা আছে। এক্সপোর্ট আইটেম, কোভিড-১৯ ওষুধ ও সেবাসামগ্রী এবং নিত্যপণ্য খালাসে বেশি জোর দিচ্ছি। প্রত্যেক কর্মকর্তাই আমদানি-রফতানিকারকদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার প্রত্যয় নিয়েই কাজ করছেন। তারপরও বর্তমান প্রেক্ষাপট সবাইকে বিবেচনায় নিতে হবে।’

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২৫ মার্চের পর কমলাপুর আইসিডি দিয়ে রোববার ১৭টি এবং সোমবার ৪টি কনটেইনার খালাস হয়েছে। কিন্তু ধীরগতির কারণে এখানে কনটেইনারের জট লাগছে। সোমবারও দুটি কনটেইনার বোঝাই ওয়াগন আইসিডিতে প্রবেশ করেছে। এ পরিস্থিতিতে বেশকিছু কনটেইনার পানগাঁও আইসিডিতে পাঠাতে বলা হয়েছে।

আইসিডি কমলাপুরের ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার আহমেদুল করিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘২৫ মার্চের পর কনটেইনার খালাসের পরিমাণ কমে গেছে। এ অবস্থায় আইসিডিতে কনটেইনার রাখার জায়গা নেই। তাই কনটেইনার পানগাঁও আইসিডিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। বন্দরের কেচিগেট তালা দেয়া এবং কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোস্টার অনুযায়ী কর্মকর্তারা অফিস করছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে হয়তো বাইরে থেকে তালা মারা হয়েছে।’ অবশ্য সরেজমিন এই কর্মকর্তার বক্তব্যের সঠিকতা পাওয়া যায়নি। দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে এবং ডাকাডাকি করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

মালামাল খালাস করতে আসা কয়েকটি সিএন্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোস্টার অনুযায়ী রাজস্ব কর্মকর্তা ও সহকারী কর্মকর্তারা অফিস করেন না। অনেকে সকালে শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দুপুরের আগে চলে যান। মূলত এই দুই শ্রেণির কর্মকর্তা অ্যাসেসমেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সহকারী এবং উপকমিশনাররা পণ্য খালাসের আদেশ দেন। যেহেতু তারাই কর্মস্থলে কম সময় উপস্থিত থাকেন, তাই সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং ব্যবসায়ীরা চাইলেও সঠিক সময়ে মালামাল খালাস নিতে পারছেন না। এক্ষেত্রে সহকারী এবং উপকমিশনারদেরও করার কিছু থাকে না। বন্দর কর্তৃপক্ষের লোকজনেরও একই অবস্থা। রোস্টার অনুযায়ী কেউই ঠিকমতো অফিস করেন না। তাই চাইলেও বন্দরের বিল পরিশোধ করা যায় না। এছাড়া যেসব পণ্যের বিএসটিআই, কোয়ারেন্টিন, ল্যাব টেস্টের প্রয়োজন হয়, সেগুলো খালাস করা নিয়ে এখন বেশি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা মনে করেন, কাস্টমস কমিশনার এবং ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার কার্যকর ব্যবস্থা নিলে ব্যবসায়ী এবং সিএন্ডএফ কারোরই এ রকম দুর্ভোগে পড়তে হতো না। এ বিষয়ে তারা এনবিআর চেয়ারম্যানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কমলাপুর আইসিডিতে কনটেইনারের পাহাড়: শিল্পের কাঁচামাল খালাসে কাস্টমসের অনীহা

খাতা-কলমে উপস্থিতি থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন, বেশির ভাগ কর্মকর্তার কক্ষে ঝুলছে তালা
 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৭ এপ্রিল ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কমলাপুর আইসিডিতে সরকারের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। চলমান সাধারণ ছুটিতে সীমিত আকারে বন্দর-কাস্টমসের কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা থাকলেও কর্মকর্তারা কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন না। রোস্টার অনুযায়ী যাদের ডিউটিতে থাকার কথা, তারাও দুপুরের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন। এমনকি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি শুধু খালা-কলমে। এতে উদ্যোক্তারা শিল্পের কাঁচামাল ও জরুরি খাদ্যপণ্য খালাস করতে পারছেন না। করোনা প্রভাবের চলমান সংকটকালীন কর্মকর্তাদের এহেন গাফিলতির কারণে পোর্ট ও শিপিং এজেন্টের ডেমারেজ গুনতে হবে আমদানিকারকদের। এর ফলে এই দুঃসময়ে দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

সোমবার দুপুরে সরেজমিন কমলাপুর আইসিডি ঘুরে দেখা গেছে, শহরের ব্যস্ততম এই অংশে সুনসান নীরবতা। দ্বিতীয়তলায় কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার ও ডেপুটি কমিশনারদের কক্ষ। সেখানে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। তৃতীয়তলায় বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের অফিস। এই অফিসের ঢোকার কেচিগেটেও তালা লাগানো।

অর্থাৎ চাইলেও কেউ বন্দরের বিল জমা দিতে পারবেন না। ফলে কনটেইনার খালাসও নেয়া সম্ভব নয়। চতুর্থতলায় মোহাম্মদ নাহিদুন্নবী নামে একজন উপকমিশনার অফিস করছেন। তার সঙ্গে অফিস করছেন কয়েকজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দর-কাস্টমসের উদাসীনতার কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। আমদানি পণ্য বন্দরে বা ডিপোতে পড়ে থাকার কারণে ডেমারেজ চার্জের খক্ষ ব্যবসায়ীকেই বহন করতে হবে। এমনিতেই করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

বাস্তবতা হল, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালিফতির কারণে এখন যদি ডেমারেজ গুনতে হয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা যাবেন কোথায়? তারা বলছেন, আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্থবির হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও আর লোকসান গুনতে পারবেন না। এ অবস্থায় বন্দর ও শিপিং লাইনের ডেমারেজসহ যত ধরনের সারচার্জ আছে তা মওকুফ করার বিষয়ে সরকারকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও বন্দরের সব ধরনের চার্জ-সারচার্জ মওকুফ করেছে। প্রয়োজনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করতে পারে। তা না হলে ব্যবসায়ীদের আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

আইসিডি কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলমান সরকারি ছুটিতে রোস্টার অনুযায়ী ডিউটি পালন করছেন কর্মকর্তারা। একজন ক্যাডার কর্মকর্তার অধীনে কয়েকজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তা সমন্বয়ে গঠিত টিম গঠন করে দেয়া হয়েছে। শিফট অনুযায়ী এই টিমের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কাস্টমসে এখন পণ্যের শুল্কায়নের চাপ কম। সিএন্ডএফ এজেন্টরা মালামাল খালাস করতে আসছে না। তাছাড়া পণ্য খালাসের বিষয়ে এনবিআর থেকে একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেখানে এই আপৎকালীন কোন কোন পণ্য (নিত্যপণ্য, ওষুধ ও সেবাসামগ্রী এবং শিল্পের কাঁচামাল) খালাস করা যাবে তা বলা আছে। সমস্যা হচ্ছে, কাস্টমসে প্রত্যেক অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রুপ রয়েছে। আর রোস্টারে একজন কর্মকর্তাকেই সব গ্রুপের পণ্য শুল্কায়নের দায়িত্ব দেয়া আছে। কিন্তু নানারকম ঝামেলা এড়াতে কোনো কর্মকর্তা নিজ গ্রুপের বাইরে অন্য কোনো গ্রুপের পণ্য অ্যাসেসমেন্ট করতে চান না। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অনেক ক্ষেত্রে এভাবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে কমলাপুর আইসিডির কমিশনার মোবারা খানম বলেন, ‘সীমিত আকারে এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাস্টমস খোলা আছে। এক্সপোর্ট আইটেম, কোভিড-১৯ ওষুধ ও সেবাসামগ্রী এবং নিত্যপণ্য খালাসে বেশি জোর দিচ্ছি। প্রত্যেক কর্মকর্তাই আমদানি-রফতানিকারকদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার প্রত্যয় নিয়েই কাজ করছেন। তারপরও বর্তমান প্রেক্ষাপট সবাইকে বিবেচনায় নিতে হবে।’

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২৫ মার্চের পর কমলাপুর আইসিডি দিয়ে রোববার ১৭টি এবং সোমবার ৪টি কনটেইনার খালাস হয়েছে। কিন্তু ধীরগতির কারণে এখানে কনটেইনারের জট লাগছে। সোমবারও দুটি কনটেইনার বোঝাই ওয়াগন আইসিডিতে প্রবেশ করেছে। এ পরিস্থিতিতে বেশকিছু কনটেইনার পানগাঁও আইসিডিতে পাঠাতে বলা হয়েছে।

আইসিডি কমলাপুরের ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার আহমেদুল করিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘২৫ মার্চের পর কনটেইনার খালাসের পরিমাণ কমে গেছে। এ অবস্থায় আইসিডিতে কনটেইনার রাখার জায়গা নেই। তাই কনটেইনার পানগাঁও আইসিডিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। বন্দরের কেচিগেট তালা দেয়া এবং কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোস্টার অনুযায়ী কর্মকর্তারা অফিস করছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে হয়তো বাইরে থেকে তালা মারা হয়েছে।’ অবশ্য সরেজমিন এই কর্মকর্তার বক্তব্যের সঠিকতা পাওয়া যায়নি। দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে এবং ডাকাডাকি করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

মালামাল খালাস করতে আসা কয়েকটি সিএন্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোস্টার অনুযায়ী রাজস্ব কর্মকর্তা ও সহকারী কর্মকর্তারা অফিস করেন না। অনেকে সকালে শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দুপুরের আগে চলে যান। মূলত এই দুই শ্রেণির কর্মকর্তা অ্যাসেসমেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সহকারী এবং উপকমিশনাররা পণ্য খালাসের আদেশ দেন। যেহেতু তারাই কর্মস্থলে কম সময় উপস্থিত থাকেন, তাই সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং ব্যবসায়ীরা চাইলেও সঠিক সময়ে মালামাল খালাস নিতে পারছেন না। এক্ষেত্রে সহকারী এবং উপকমিশনারদেরও করার কিছু থাকে না। বন্দর কর্তৃপক্ষের লোকজনেরও একই অবস্থা। রোস্টার অনুযায়ী কেউই ঠিকমতো অফিস করেন না। তাই চাইলেও বন্দরের বিল পরিশোধ করা যায় না। এছাড়া যেসব পণ্যের বিএসটিআই, কোয়ারেন্টিন, ল্যাব টেস্টের প্রয়োজন হয়, সেগুলো খালাস করা নিয়ে এখন বেশি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা মনে করেন, কাস্টমস কমিশনার এবং ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার কার্যকর ব্যবস্থা নিলে ব্যবসায়ী এবং সিএন্ডএফ কারোরই এ রকম দুর্ভোগে পড়তে হতো না। এ বিষয়ে তারা এনবিআর চেয়ারম্যানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।