রফতানি ঋণ পেতে ক্রেডিট রেটিং সনদ দিতে হবে
jugantor
নীতিমালা সংশোধন করল বাংলাদেশ ব্যাংক
রফতানি ঋণ পেতে ক্রেডিট রেটিং সনদ দিতে হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় গঠিত রফতানি ঋণ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের বিধি আরও কঠোর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ তহবিল থেকে ঋণ পেতে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি থেকে ক্রেডিট রিপোর্ট থাকতে হবে।

এর বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া যাবে না। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ রকম নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে এ বিষয়ে ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নীতিমালা জারি করে। সেখানে এ সনদ নেয়ার শর্ত ছিল না। দেশের অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব মোকাবেলার জন্য ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ৫টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

এর মধ্যে একটি ছিল রফতানি খাতে দেশি মুদ্রায় ঋণ দিতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট বা প্রাক-জাহাজীকরণ ঋণে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম।

সূত্র জানায়, তহবিলের অর্থ নিয়ে যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে না পড়ে সে কারণে ক্রেডিট রেটিং সদন নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক ঋণ নিতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই এ সনদ নিতে হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ থেকে এ তহবিলটি গঠন করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তহবিলের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক রফতানিকারকদের নামে ঋণের অর্থ ছাড় করবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক রফতানিকারকদের সমপরিমাণ অর্থ পুনঃঅর্থায়ন করবে।

এ ঋণের বিপরীতে গ্রাহকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ নেয়া যাবে। রফতানি পণ্য তৈরি শেষ হলে জাহাজীকরণের আগে ঋণের অর্থ ছাড় করা হবে।

এর আগে নয়। রফতানি মূল্য দেশে আসার পর এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। কোনো কারণে রফতানি মূল্য দেশে আসতে বিলম্ব হলে ব্যাংক ঋণের মেয়াদ ৬ মাস বৃদ্ধি করবে।

তহবিলটি পরিচালনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট। যেসব ব্যাংক এ তহবিল থেকে রফতানিতকারকদের ঋণ দিতে ইচ্ছুক তাদের ওই বিভাগের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে হবে।

চুক্তি ছাড়া এ তহবিল থেকে ঋণ দেয়া যাবে না। চুক্তির একটি ফরমও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্তৃক স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠালেই চুক্তি কার্যকর হবে।

একই সঙ্গে যেসব গ্রাহকদের ঋণ দেয়া হবে তাদের ব্যাপারেও বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে। সেগুলোর একটি কাঠামোও ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে এ তহবিল থেকে ঋণ পেতে হলে রফতানিকারককে বিভিন্ন শর্ত পালন করতে হবে। এর মধ্যে ক্রেডিট রেটিং সনদ ছাড়াও রফতানিসংশ্লিষ্ট সব ধরনের তথ্য গ্রাহককে ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

ব্যাংকগুলো তা যাচাই করে ঋণ বিতরণ করবে। প্রথমে ব্যাংক গ্রাহককে নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ প্রদান করবে। পরে ওই ঋণের বিপরীতে অর্থ চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করবে।

ওই সময় গ্রাহকের যাবতীয় তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে। যেসব তথ্য পাঠাতে হবে সেগুলো হল- প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিতরণসংক্রান্ত সনদ বা মঞ্জুরিপত্র, প্রি-শিপমেন্ট রফতানি খাতে বিভিন্ন সময়ে ঋণ বিতরণ সমন্বিত বিবরণী, ঋণ ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতিপত্র ও লেটার অব কনটিউনিটি, সংশ্লিষ্ট রফতানির আদেশ বা রফতানি ঋণপত্রের কপি, কমার্শিয়াল ইনভয়েস ভ্যালু, বিল অব ল্যান্ডিং, কার্গো রিসিপ্ট, রফতানি বিল এবং পণ্য তৈরির প্রত্যয়ন প্রভৃতি।

সার্কুলারে বলা হয়, রফতানি পণ্য তৈরি শেষ হওয়ার পরই শুধু এ ঋণের অর্থ ছাড় করা যাবে। কোনোক্রমেই এর আগে এ তহবিলের অর্থ ছাড় করা যাবে না। ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

রফতানি পণ্য তৈরির পর ঋণের এ অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে পারবে। মূলত রফতানি মূল্য দেশে আসার আগের সময়কালীন খরচ মেটাতে সরকার এ ঋণের ব্যবস্থা করেছে। সাধারণত রফতানি মূল্য দেশে আসতে ৩-৪ মাস সময় লাগে।

নীতিমালা সংশোধন করল বাংলাদেশ ব্যাংক

রফতানি ঋণ পেতে ক্রেডিট রেটিং সনদ দিতে হবে

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৪ এপ্রিল ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় গঠিত রফতানি ঋণ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের বিধি আরও কঠোর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
 

এ তহবিল থেকে ঋণ পেতে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি থেকে ক্রেডিট রিপোর্ট থাকতে হবে।
 

এর বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া যাবে না। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ রকম নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
 

এর আগে এ বিষয়ে ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নীতিমালা জারি করে। সেখানে এ সনদ নেয়ার শর্ত ছিল না। দেশের অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব মোকাবেলার জন্য ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ৫টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।
 

এর মধ্যে একটি ছিল রফতানি খাতে দেশি মুদ্রায় ঋণ দিতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট বা প্রাক-জাহাজীকরণ ঋণে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম।

সূত্র জানায়, তহবিলের অর্থ নিয়ে যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে না পড়ে সে কারণে ক্রেডিট রেটিং সদন নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক ঋণ নিতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই এ সনদ নিতে হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ থেকে এ তহবিলটি গঠন করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তহবিলের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক রফতানিকারকদের নামে ঋণের অর্থ ছাড় করবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক রফতানিকারকদের সমপরিমাণ অর্থ পুনঃঅর্থায়ন করবে।
 

এ ঋণের বিপরীতে গ্রাহকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ নেয়া যাবে। রফতানি পণ্য তৈরি শেষ হলে জাহাজীকরণের আগে ঋণের অর্থ ছাড় করা হবে।
 

এর আগে নয়। রফতানি মূল্য দেশে আসার পর এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। কোনো কারণে রফতানি মূল্য দেশে আসতে বিলম্ব হলে ব্যাংক ঋণের মেয়াদ ৬ মাস বৃদ্ধি করবে।

তহবিলটি পরিচালনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট। যেসব ব্যাংক এ তহবিল থেকে রফতানিতকারকদের ঋণ দিতে ইচ্ছুক তাদের ওই বিভাগের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে হবে।
 

চুক্তি ছাড়া এ তহবিল থেকে ঋণ দেয়া যাবে না। চুক্তির একটি ফরমও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্তৃক স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠালেই চুক্তি কার্যকর হবে।
 

একই সঙ্গে যেসব গ্রাহকদের ঋণ দেয়া হবে তাদের ব্যাপারেও বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে। সেগুলোর একটি কাঠামোও ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে এ তহবিল থেকে ঋণ পেতে হলে রফতানিকারককে বিভিন্ন শর্ত পালন করতে হবে। এর মধ্যে ক্রেডিট রেটিং সনদ ছাড়াও রফতানিসংশ্লিষ্ট সব ধরনের তথ্য গ্রাহককে ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
 

ব্যাংকগুলো তা যাচাই করে ঋণ বিতরণ করবে। প্রথমে ব্যাংক গ্রাহককে নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ প্রদান করবে। পরে ওই ঋণের বিপরীতে অর্থ চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করবে।
 

ওই সময় গ্রাহকের যাবতীয় তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে। যেসব তথ্য পাঠাতে হবে সেগুলো হল- প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিতরণসংক্রান্ত সনদ বা মঞ্জুরিপত্র, প্রি-শিপমেন্ট রফতানি খাতে বিভিন্ন সময়ে ঋণ বিতরণ সমন্বিত বিবরণী, ঋণ ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতিপত্র ও লেটার অব কনটিউনিটি, সংশ্লিষ্ট রফতানির আদেশ বা রফতানি ঋণপত্রের কপি, কমার্শিয়াল ইনভয়েস ভ্যালু, বিল অব ল্যান্ডিং, কার্গো রিসিপ্ট, রফতানি বিল এবং পণ্য তৈরির প্রত্যয়ন প্রভৃতি।

সার্কুলারে বলা হয়, রফতানি পণ্য তৈরি শেষ হওয়ার পরই শুধু এ ঋণের অর্থ ছাড় করা যাবে। কোনোক্রমেই এর আগে এ তহবিলের অর্থ ছাড় করা যাবে না। ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
 

রফতানি পণ্য তৈরির পর ঋণের এ অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে পারবে। মূলত রফতানি মূল্য দেশে আসার আগের সময়কালীন খরচ মেটাতে সরকার এ ঋণের ব্যবস্থা করেছে। সাধারণত রফতানি মূল্য দেশে আসতে ৩-৪ মাস সময় লাগে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন