আমদানিকারকের নথির ভিত্তিতে পণ্য ছাড় করা যাবে
jugantor
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার
আমদানিকারকের নথির ভিত্তিতে পণ্য ছাড় করা যাবে
বন্দর থেকে পণ্য খালাসের নীতিমালা শিথিল * নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ চিকিৎসা, কৃষি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমদানি করা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ কৃষি উপকরণ, চিকিৎসা ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্যোক্তাদের কাগজপত্র বা নথির ভিত্তিতে দ্রুত ছাড় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আমদানি করা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ কৃষি উপকরণ, চিকিৎসা ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্যোক্তাদের কাগজপত্র বা নথির ভিত্তিতে দ্রুত ছাড় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একই সঙ্গে এসব পণ্যের আমদানিব্যয়ও উদ্যোক্তাদের কাগজপত্রের ভিত্তিতে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে।

এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে পাঠানো হয়েছে। ২২ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি দেয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও সংস্থাকে।

এগুলো হল : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চিঠিতে এসব দফতর থেকে যথাযথ নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, করোনা প্রাদুর্ভাবজনিত প্রেক্ষাপটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ (চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, লবণ, চিনি, আদা, রসুন) পানি, শিশুখাদ্য ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সব ধরনের চিকিৎসাসামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী স্বাস্থ্যবিধি মেনে এর উৎপাদন, আমদানি, পণ্য খালাস, পণ্য পরিবহন, কুরিয়ার ব্যবস্থা এবং ওয়্যারহাউস কার্যক্রম যাতে অব্যাহত থাকে, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সূত্র জানায়, এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লিখিত সার্কুলার জারি করে। এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি সংযুক্ত করে বলা হয়েছে, করোনার প্রাদুর্ভাবজনিত প্রেক্ষাপটে আমদানিপণ্য দ্রুত খালাসের লক্ষ্যে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক ডকুমেন্ট ছাড়করণের বিষয়ে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ ক্ষেত্রে ১২ এপ্রিল জারিকৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত গাইডলাইন অনুসরণ করতে বলা হয়।

গাইডলাইনের বিষয়ে সূত্র জানায়, প্রচলিত নিয়মানুযায়ী বিদেশ থেকে রফতানিকারকের ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আসে আমদানিকারকের ব্যাংকে। সেগুলোর সঙ্গে আমদানিকারকের কাগজপত্র ও এলসির কপি মিলিয়ে ব্যাংক পণ্য ছাড় করার অনুমোদন দেয়। এর পর কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পণ্য ছাড় করে।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী লকডাউন থাকায় প্রচলিত নিয়ম মেনে পণ্য ছাড় করতে অনেক দেরি হচ্ছে। এর ফলে বন্দরে কনটেইনারজট লেগে গেছে। জরুরি পণ্য আটকে যাচ্ছে বন্দরে।

এতে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু আমদানিকারকের কাগজপত্র দেখে পণ্য ছাড় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।

পণ্য ছাড় করতে গেলে আরও যেসব কাগজপত্র বা আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে সেগুলো আপাতত পরিপালন করতে হবে না।

একই সঙ্গে আমদানি করা পণ্যের বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট বিদেশি ব্যাংকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে থাকে। কিন্তু লকডাউনের কারণে এসব ডকুমেন্ট সময়মতো আসছে না।

ফলে বিল পরিশোধ বিলম্বিত হচ্ছে। এতে পরবর্তী সময়ে পণ্য আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এখন থেকে জরুরি ভিত্তিতে আমদানিকারকের কাগজপত্র দেখেই পণ্যের বিল পরিশোধ করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

আমদানিকারকের নথির ভিত্তিতে পণ্য ছাড় করা যাবে

বন্দর থেকে পণ্য খালাসের নীতিমালা শিথিল * নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ চিকিৎসা, কৃষি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৭ এপ্রিল ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আমদানি করা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ কৃষি উপকরণ, চিকিৎসা ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্যোক্তাদের কাগজপত্র বা নথির ভিত্তিতে দ্রুত ছাড় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ফাইল ছবি

আমদানি করা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ কৃষি উপকরণ, চিকিৎসা ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্যোক্তাদের কাগজপত্র বা নথির ভিত্তিতে দ্রুত ছাড় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একই সঙ্গে এসব পণ্যের আমদানিব্যয়ও উদ্যোক্তাদের কাগজপত্রের ভিত্তিতে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে।

এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে পাঠানো হয়েছে। ২২ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি দেয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও সংস্থাকে।

এগুলো হল : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চিঠিতে এসব দফতর থেকে যথাযথ নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, করোনা প্রাদুর্ভাবজনিত প্রেক্ষাপটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ (চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, লবণ, চিনি, আদা, রসুন) পানি, শিশুখাদ্য ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সব ধরনের চিকিৎসাসামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী স্বাস্থ্যবিধি মেনে এর উৎপাদন, আমদানি, পণ্য খালাস, পণ্য পরিবহন, কুরিয়ার ব্যবস্থা এবং ওয়্যারহাউস কার্যক্রম যাতে অব্যাহত থাকে, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সূত্র জানায়, এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লিখিত সার্কুলার জারি করে। এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি সংযুক্ত করে বলা হয়েছে, করোনার প্রাদুর্ভাবজনিত প্রেক্ষাপটে আমদানিপণ্য দ্রুত খালাসের লক্ষ্যে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক ডকুমেন্ট ছাড়করণের বিষয়ে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ ক্ষেত্রে ১২ এপ্রিল জারিকৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত গাইডলাইন অনুসরণ করতে বলা হয়।

গাইডলাইনের বিষয়ে সূত্র জানায়, প্রচলিত নিয়মানুযায়ী বিদেশ থেকে রফতানিকারকের ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আসে আমদানিকারকের ব্যাংকে। সেগুলোর সঙ্গে আমদানিকারকের কাগজপত্র ও এলসির কপি মিলিয়ে ব্যাংক পণ্য ছাড় করার অনুমোদন দেয়। এর পর কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পণ্য ছাড় করে।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী লকডাউন থাকায় প্রচলিত নিয়ম মেনে পণ্য ছাড় করতে অনেক দেরি হচ্ছে। এর ফলে বন্দরে কনটেইনারজট লেগে গেছে। জরুরি পণ্য আটকে যাচ্ছে বন্দরে।

এতে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু আমদানিকারকের কাগজপত্র দেখে পণ্য ছাড় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।

পণ্য ছাড় করতে গেলে আরও যেসব কাগজপত্র বা আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে সেগুলো আপাতত পরিপালন করতে হবে না।

একই সঙ্গে আমদানি করা পণ্যের বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট বিদেশি ব্যাংকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে থাকে। কিন্তু লকডাউনের কারণে এসব ডকুমেন্ট সময়মতো আসছে না।

ফলে বিল পরিশোধ বিলম্বিত হচ্ছে। এতে পরবর্তী সময়ে পণ্য আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এখন থেকে জরুরি ভিত্তিতে আমদানিকারকের কাগজপত্র দেখেই পণ্যের বিল পরিশোধ করা যাবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন