প্রতিজ্ঞা হোক ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ার
jugantor
রমজানুল মোবারক
প্রতিজ্ঞা হোক ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ার

  মাওলানা মুহসিন আল জাবির  

০৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেখতে দেখতে কেটে গেল রমজানের নয়টি দিন। এ সময়ে সিয়ামের শুদ্ধতা কতটুকু গ্রহণ করতে পেরেছি? একজন সিয়াম সাধক সারাটা দিন উপবাস করে নিজের মানবিক গুণ উন্নীত করতে। পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুণ ধারণ করতে। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসা পেতে।
ফাইল ছবি

দেখতে দেখতে কেটে গেল রমজানের নয়টি দিন। এ সময়ে সিয়ামের শুদ্ধতা কতটুকু গ্রহণ করতে পেরেছি? একজন সিয়াম সাধক সারাটা দিন উপবাস করে নিজের মানবিক গুণ উন্নীত করতে। পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুণ ধারণ করতে। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসা পেতে।

বদান্যতা ও উদারতা লাভ করতে। সমাজে মিলেমিশে অবস্থান করতে। অপরদিকে মানুষের লালিত কিছু বদ-স্বভাব মানবসমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ ও কুৎসা রটানো মানুষকে পশুর কাতারে নিয়ে আসে। সমাজে ধ্বংস ডেকে আনে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চিত ধ্বংস ওইসব লোকের জন্য, যারা পেছনে পরনিন্দা করে এবং সামনে গালাগাল করে।’ (সূরা হুমাজা-১)।

পরনিন্দা মানুষের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করে। যে পরনিন্দা করে তাকে কেউ বিশ্বাস করে না। ভালোবাসে না। তার জন্য মানুষের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হয়। কলহ-বিবাদ সৃষ্টি হয়। নিন্দুকের নিজের আমল নষ্ট হয়। হাদিসে রয়েছে- কেয়ামতের দিন কিছু লোক নিজের আমলনামায় কোনো আমল খুঁজে পাবে না।

তখন সে জানতে চাইবে- তার কৃত আমলগুলো লেখা হয়নি কেন? তাকে বলা হবে- পরনিন্দার কারণে তোমার এই আমলগুলো কেটে নেয়া হয়েছে। তুমি যার নিন্দা করেছ, সেগুলো তার আমলনামায় যোগ করা হয়েছে। নিন্দুক সেদিন আফসোস করবে কিন্তু সে তার আমল আর ফিরে পাবে না।

পরনিন্দায় যেমন আমল নষ্ট হয়, তেমনি সিয়াম সাধনাও নষ্ট হয়। তাই নবীজি (সা.) পরনিন্দা বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে এই মাহে রমজানে। তিনি বলেন, ‘সিয়াম সাধনা হল মানুষের জন্য ঢালবিশেষ। কিন্তু সিয়াম সাধক নিজেই সেই ঢাল ফাটিয়ে দেবে।’

সাহাবায়ে কেরাম বললেন, এটা কিভাবে হুজুর? জবাবে নবীজি (সা.) বলেন, ‘মিথ্যা ও পরনিন্দার মাধ্যমে।’ অন্য হাদিসে রয়েছে- ‘মিথ্যা ও পরনিন্দায় সাওম নষ্ট হয়।’

আসুন আজই নিজের মন থেকে সব ধরনের লোভ-লালসা ঝেড়ে ফেলি। হিংসা-বিদ্বেষ ও পরনিন্দা পরিহার করে চলি। সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকি। সিয়াম সাধনার উদ্দেশ্য হল নিজেকে পার্থিব লালসা থেকে দূরে রাখা। হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকা। আত্মসংযমী হওয়া। তাকওয়া অর্জন করা।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের কাউকে অপর কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা তার প্রতি লালসা কর না।’ (সূরা নিসা-৩২)। প্রকৃত সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ফেতনা-ফ্যাসাদ, পরনিন্দা, ঝগড়া-বিবাদ ও মন্দ আচরণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

একজন সিয়াম সাধক কখনও কারও প্রতি অন্যায় করতে পারে না। ঘুষ খেতে পারে না। দুর্নীতি করতে পারে না। ক্ষমতা ও পদমর্যাদার জন্য অন্যায় করতে পারে না। একজন সিয়াম সাধক হবে সহনশীল। অল্পে তুষ্ট ধৈর্যশীল। তার ভেতর ফুটে উঠবে সিয়াম সাধনার মাহাত্ম্য। সে হবে মহাগুণে গুণান্বিত। চারিত্রিক ও মানসিক পরিশুদ্ধ।

অতএব আসুন হে সায়েম, সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজেকে সুন্দর ও মানবিক গুণে সাজাই। আমাদের এ সমাজকেও আমরা সুন্দর মানবিক ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ হিসেবে গড়ে তুলি।

লেখক : হাফেজ, মাওলানা, মুফতি; লেখক ও গবেষক ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

রমজানুল মোবারক

প্রতিজ্ঞা হোক ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ার

 মাওলানা মুহসিন আল জাবির 
০৪ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
দেখতে দেখতে কেটে গেল রমজানের নয়টি দিন। এ সময়ে সিয়ামের শুদ্ধতা কতটুকু গ্রহণ করতে পেরেছি? একজন সিয়াম সাধক সারাটা দিন উপবাস করে নিজের মানবিক গুণ উন্নীত করতে। পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুণ ধারণ করতে। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসা পেতে।
ফাইল ছবি

দেখতে দেখতে কেটে গেল রমজানের নয়টি দিন। এ সময়ে সিয়ামের শুদ্ধতা কতটুকু গ্রহণ করতে পেরেছি? একজন সিয়াম সাধক সারাটা দিন উপবাস করে নিজের মানবিক গুণ উন্নীত করতে। পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুণ ধারণ করতে। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসা পেতে।

বদান্যতা ও উদারতা লাভ করতে। সমাজে মিলেমিশে অবস্থান করতে। অপরদিকে মানুষের লালিত কিছু বদ-স্বভাব মানবসমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ ও কুৎসা রটানো মানুষকে পশুর কাতারে নিয়ে আসে। সমাজে ধ্বংস ডেকে আনে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চিত ধ্বংস ওইসব লোকের জন্য, যারা পেছনে পরনিন্দা করে এবং সামনে গালাগাল করে।’ (সূরা হুমাজা-১)।

পরনিন্দা মানুষের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করে। যে পরনিন্দা করে তাকে কেউ বিশ্বাস করে না। ভালোবাসে না। তার জন্য মানুষের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হয়। কলহ-বিবাদ সৃষ্টি হয়। নিন্দুকের নিজের আমল নষ্ট হয়। হাদিসে রয়েছে- কেয়ামতের দিন কিছু লোক নিজের আমলনামায় কোনো আমল খুঁজে পাবে না।

তখন সে জানতে চাইবে- তার কৃত আমলগুলো লেখা হয়নি কেন? তাকে বলা হবে- পরনিন্দার কারণে তোমার এই আমলগুলো কেটে নেয়া হয়েছে। তুমি যার নিন্দা করেছ, সেগুলো তার আমলনামায় যোগ করা হয়েছে। নিন্দুক সেদিন আফসোস করবে কিন্তু সে তার আমল আর ফিরে পাবে না।

পরনিন্দায় যেমন আমল নষ্ট হয়, তেমনি সিয়াম সাধনাও নষ্ট হয়। তাই নবীজি (সা.) পরনিন্দা বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে এই মাহে রমজানে। তিনি বলেন, ‘সিয়াম সাধনা হল মানুষের জন্য ঢালবিশেষ। কিন্তু সিয়াম সাধক নিজেই সেই ঢাল ফাটিয়ে দেবে।’

সাহাবায়ে কেরাম বললেন, এটা কিভাবে হুজুর? জবাবে নবীজি (সা.) বলেন, ‘মিথ্যা ও পরনিন্দার মাধ্যমে।’ অন্য হাদিসে রয়েছে- ‘মিথ্যা ও পরনিন্দায় সাওম নষ্ট হয়।’

আসুন আজই নিজের মন থেকে সব ধরনের লোভ-লালসা ঝেড়ে ফেলি। হিংসা-বিদ্বেষ ও পরনিন্দা পরিহার করে চলি। সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকি। সিয়াম সাধনার উদ্দেশ্য হল নিজেকে পার্থিব লালসা থেকে দূরে রাখা। হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকা। আত্মসংযমী হওয়া। তাকওয়া অর্জন করা।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের কাউকে অপর কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা তার প্রতি লালসা কর না।’ (সূরা নিসা-৩২)। প্রকৃত সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ফেতনা-ফ্যাসাদ, পরনিন্দা, ঝগড়া-বিবাদ ও মন্দ আচরণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

একজন সিয়াম সাধক কখনও কারও প্রতি অন্যায় করতে পারে না। ঘুষ খেতে পারে না। দুর্নীতি করতে পারে না। ক্ষমতা ও পদমর্যাদার জন্য অন্যায় করতে পারে না। একজন সিয়াম সাধক হবে সহনশীল। অল্পে তুষ্ট ধৈর্যশীল। তার ভেতর ফুটে উঠবে সিয়াম সাধনার মাহাত্ম্য। সে হবে মহাগুণে গুণান্বিত। চারিত্রিক ও মানসিক পরিশুদ্ধ।

অতএব আসুন হে সায়েম, সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজেকে সুন্দর ও মানবিক গুণে সাজাই। আমাদের এ সমাজকেও আমরা সুন্দর মানবিক ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ হিসেবে গড়ে তুলি।

লেখক : হাফেজ, মাওলানা, মুফতি; লেখক ও গবেষক ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ