চাকরি বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকামুখী জনস্রোত

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাকরি হারানোর ভয়ে নিু আয়ের মানুষরা করোনাঝুঁকির মধ্যেই কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ দিন দিন বেড়েই চলছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ যেমনি যাচ্ছে ঢাকায়। তেমনি ঢাকা থেকে ঈদ সামনে রেখে ফিরতে শুরু করেছে শ্রমজীবী পরিবারের অপর সদস্যরা। লঞ্চ-স্পিডবোট বন্ধ থাকায় বাড়তি চাপ বেড়েছে ফেরিতে।

ফেরিগুলো যানবাহন পারাপারের পাশাপাশি যাত্রী পারাপারে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে ঘাটের মানুষের যাতায়াত দেখলে মনে হয় না যে, করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের চলাচলে আছে কোনো বাধানিষেধ। ঘাট এলাকার যাত্রীরা জানান, রোববার (আজ) থেকে ঢাকার দোকানগুলো খুলবে। আবার কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গার্মেন্ট খোলা। চাকরি বাঁচাতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছেন তারা। গণপরিবহন না চললেও ব্যাটারিচালিত রিকশা বা অন্য কোনোভাবে অনেক বেশি ভাড়া দিয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। পথে পথে পোহাতে হচ্ছে নানা দুর্ভোগ। যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

শিবচর (মাদারীপুর) : ঘাট কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া বন্ধে সারা দেশে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকেই ঘাট দিয়ে মানুষ যেমনি যাচ্ছে, তেমনি বাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছে। সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও ২৬ এপ্রিল থেকে আজও ঢাকামুখো যাত্রীদের চাপ বেড়েছে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার প্রবেশদ্বারখ্যাত কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া ঘাটে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে পারাপারের প্রতিযোগিতা। সকাল থেকে রাজধানীমুখী যাত্রীদের ভিড়ে যেন করোনা উৎসবে পরিণত হয় কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। দেশব্যাপী করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার সতর্ক থাকলেও পদ্মা নদীর কাঁঠালবাড়ী -শিমুলিয়া নৌরুটে যেন পারাপারে প্রতিযোগিতায় লেগেছে হাজার হাজার মানুষ। শনিবার সকাল থেকে সরেজমিন কাঁঠালবাড়ী ঘাটে দেখা যায়, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকলেও ফেরিতে পাড়ি দিচ্ছে হাজারও মানুষ।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই ৯-১০টি ফেরিতে যানবাহন পার করা হচ্ছে। বিভিন্ন জেলা থেকে বিকল্পভাবে ভেঙে ভেঙে ঘাটে এসে ফেরিতে করে ঢাকামুখী যাত্রীরা ফেরি পার হচ্ছে। তবে যাত্রীদের সঙ্গে প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবাদানকারী যানবাহন ও পার করা হচ্ছে। বরিশাল থেকে আসা যাত্রী সোহেল আহমেদ জানান, করোনার মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বরিশাল থেকে ভেঙে ভেঙে ঘাট পর্যন্ত এসেছি। এখানে আসতে মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে ১৩শ’ টাকা খরচ হয়েছে। তবু ঢাকা যেতে হবে চাকরি বাঁচাতে।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ের সৃষ্টি হয়েছে। দুপুর পর্যন্ত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটগুলোতে এ ভিড় দেখা যায়। তবে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের চাপও ছিল চোখে পড়ার মতো। সরেজমিন, শনিবার দুপুরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরিতে ওঠার জন্য দৌলতদিয়া ৫নং ফেরিঘাটের পন্টুুনের ওপর প্রায় তিন শতাধিক যাত্রী অপেক্ষায় রয়েছে। ঘাটে ফেরি ভিড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব না মেনে গাদাগাদি করে ফেরিতে উঠছে।

কুষ্টিয়া থেকে আসা যাত্রী আবেদ হোসেন বলেন, পোশাক কারখানা খোলায় অতিরিক্ত ভাড়ার দিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোতে করে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এসেছি। তাছাড়া কয়েকবার পথে পথে আটকে থাকায় আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

মানিকগঞ্জ : শনিবার সকালের দিকে যাত্রীর চাপ একটু কম থাকলেও দুপুর গড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারও মানুষের গাদাগাদিতে ভরপুর হয়ে গেছে পাটুরিয়া ঘাটে। যে ঘাটে ফেরি ভিড়ছে সে ফেরি থেকে শত শত মানুষ নামছে। কম করে হলেও প্রতিটি ফেরিতে ২-৩শ’ যাত্রী হবে। শত শত মাইল পার হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন হাজারও মানুষ। ঘাটে আসা অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষের একই কথা ‘বউ, পোলাপান আর নিজের পেটের তাগিদে মহামারী করোনা মাথায় নিয়ে কর্মস্থলের দিকে যেতে হচ্ছে। অনেকেই আবার দোকানের কর্মচারীসহ এনজিও কর্মীও রয়েছেন। রোববার অনেক শপিংমল খুলবে সেখানে তাদের যোগদান করতে হবে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টরের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) জিল্লুর রহমান জানান, গার্মেন্ট, ঢাকার শপিংমল, বিভিন্ন বেসরকারি অফিস খোলা থাকায় হাজারও কর্মজীবী মানুষ ফেরিতে পার হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত