চিহ্নিত ১৭৮২২, মারা গেছেন ২৬৯

করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন রোগী নিশ্চিত হয়েছে ১১৬২ জন। একদিনে এটাই সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে একদিনে এত মৃত্যু ও শনাক্ত হয়নি। গত ৭ মে ১৩ জন এবং ১১ মে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। অন্যদিকে গত ১১ মে একদিনে সর্বোচ্চসংখ্যক ১০৩৪ জন শনাক্তের রেকর্ড ছিল। গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত আর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘোষণা আসে।

বুধবার দুপুর আড়াইটায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য দেন। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টার ১৯-সহ দেশে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৬৯ জন। আর নতুন ১১৬২-সহ মোট ১৭ হাজার ৮২২ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ২১৪-সহ এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৩৬১ জন।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো ও স্পাইন সার্জন এবং নিউরোস্পাইন সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, জীবন-জীবিকা উভয় বিবেচনায় লকডাউন বর্তমানে কিছুটা শিথিল। এতে জনগণের দায়িত্ব বেড়ে গেছে। সবার মনে রাখা উচিত, আমাদের মতো দেশে আক্রান্ত আর মৃত্যু আরও বেড়ে গেলে লাগাম টেনে ধরা কঠিন হবে। তাই নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজেকেই নিশ্চিত করে চলাচল ও দৈনন্দিন কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে সামনের দিনগুলোয় আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। একেক দেশে একেক সময় এই ভাইরাসের প্রার্দুভাব সর্বোচ্চ মাত্রায় গেছে। আমেরিকায় এটা সর্বোচ্চ মাত্রায় যেতে লেগেছে ৭৯ দিন। আমাদের দেশে প্রাদুর্ভাবের ৬৭তম দিনে আছি। সুতরাং সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি থাকতে পারে। তাই সবাইকে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন। বুধবারের ব্রিফিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে সাত হাজার ৮৬২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে আগের কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয় সাত হাজার ৯০০ নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় এক লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৮টি। দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ১৫ জনই করোনায় আক্রান্ত।

ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, নতুন মৃত ১৯ জনের ১২ জন পুরুষ ও সাতজন নারী। এর মধ্যে ঢাকা শহরে ১৩ জন, নারায়ণগঞ্জে একজন, মুন্সীগঞ্জে একজন, খুলনা বিভাগের নড়াইলে একজন, চট্টগ্রামে দু’জন ও কুমিল্লায় একজন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায় যায়, ০-১০ বছরের মধ্যে একটি মেয়েশিশু আছে। এ ছাড়া ৩১-৪০ বছরের মধ্যে একজন, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৭১-৮০ বছরের মধ্যে পাঁচজন রোগী আছেন।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন তিন হাজার ৪৩৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় ৭৬ জন আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র পেলেন এক হাজার ৩৩২ জন। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৫৫৮ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট দুই লাখ ২৭ হাজার ৬৪২ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৬৬২ জন। ফলে এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেলেন এক লাখ ৮২ হাজার ৩৬১ জন। বর্তমানে মোট ৪৫ হাজার ২২১ জন কোয়ারেন্টিনে আছেন।

করোনা রোগীদের প্রতি মানবিক হওয়ার আহ্বান : ব্রিফিংয়ে করোনায় আক্রান্তদের প্রতি মানবিক আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রত্যেকেই যেন মানবিক হই। আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি আমরা যেন কোনো অসদাচরণ না করি। তার প্রতি যেন কোনো কঠোর আচরণও না করি। তিনি আরও বলেন, আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি, একজন মৃত্যুবরণ করেছে। তাকে তার মা-সহ রাস্তায় নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অমানবিক আচরণ যেন না করি। আমরা সবাই মিলেই বাংলাদেশ। একা আমি ভালো থাকতে পারি না। আমি আজ সুস্থ আছি, কাল অসুস্থ হয়ে যাব না-এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।

দৈনিক মারা যাচ্ছে ১২ জন : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গত ৭ থেকে ১২ মে পর্যন্ত মাত্র ৬ দিনে মারা গেছেন ৭২ জন। অর্থাৎ, দৈনিক গড়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর তালিকায় শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ কেউ বাদ পড়ছেন না। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৯ জনের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী একটি মেয়েশিশু আছে। এ ছাড়া ৩১-৪০ বছরের একজন, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৭১-৮০ বছরের মধ্যে ৫ জন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এই ভাইরাসে ব্যক্তির সুরক্ষা তার নিজের কাছে। তাই তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার আহ্বান জানান।

৪১ ল্যাবে পরীক্ষা : করোনাভাইরাসের নমুনা শনাক্তকরণে আরও তিনটি নতুন ল্যাবরেটরি যুক্ত হয়েছে। এগুলো হল : রাজধানী ঢাকার বেসরকারি ইবনে সিনা হাসপাতাল ও প্রাভা হেলথ এবং ঢাকার বাইরে জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ। এ নিয়ে মোট ৪১টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত