শনাক্ত ২০ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু প্রায় তিনশ’

করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এ ভাইরাস। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৯৮।

একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ২০২ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। গত ৬৯ দিনের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় এটাই সর্বোচ্চ শনাক্ত। এ নিয়ে মোট চিহ্নিত রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৬৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২৭৯ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন হাজার ৮৮২ জন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ১০৪১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়, মারা যায় ১৪ জন। বুধবার চিহ্নিত হয় ১১৬২, মৃত্যু ১৯ জন। সোমবার ১০৩৪ জনের দেহে সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়। এদিন প্রাণ যায় ১১ জনের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মৃতের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। প্রতিদিনই এই রোগে মানুষ মরছে, একদিনও বিরতি নেই। প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী সংক্রমণের কথা নিশ্চিত করে সরকার। আর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৮ মার্চ।

শুক্রবার বেলা আড়াইটায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। শুরুতেই তিনি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে নয় হাজার ৫৩৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় আট হাজার ৫৮২টি। এটি একদিনে সর্বোচ্চসংখ্যক নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার রেকর্ড। পাশাপাশি এদিন সর্বোচ্চসংখ্যক (১২০২ জন) শনাক্তের রেকর্ডও হল। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হল এক লাখ ৬০ হাজার ৫১২টি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৪১টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, আক্রান্তদের মধ্যে যে ১৫ জন মারা গেছেন তাদের সাতজন পুরুষ ও আটজন নারী। বয়সের দিক থেকে ৮১-৯০ বছরের মধ্যে দু’জন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে আটজন, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে একজন এবং ২১-৩০ বছরের মধ্যে একজন আছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত এই মহাপরিচালক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৯ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৮১ জন। বর্তমানে দুই হাজার ৭৪৮ জন আইসোলেশনে আছেন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ৪৭৯ জন। দেশে আইসোলেশন শয্যা সংখ্যা আট হাজার ৯৩৪টি। আইসিইউ শয্যা আছে ৩২৯টি এবং ডায়ালিসিস ইউনিট আছে ১০২টি। আইসিইউ শয্যা ও ডায়ালিসিস ইউনিট বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ঢাকা মহানগরীতে দুই হাজার ৯০০টি আইসোলেশন শয্যা আছে এবং ঢাকা শহরের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশন শয্যা আছে ছয় হাজার ৩৪টি।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৭৯৭ জন। এ সময়ে ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ছয় জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে ছিলেন দুই লাখ ৩৩ হাজার ৪৭০ জন, আর ছাড়া পেয়েছেন এক লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৫ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৬ হাজার ৮০৫ জন।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত