বিদেশে অর্থ পাচার

এবি ব্যাংকের আরও ৪ কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এবি ব্যাংক

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এবি ব্যাংকের আরও চার কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে চারজনের নাম ইমিগ্রেশনে পাঠিয়ে তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়। যে চার কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তারা হলেন- এবি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহফুজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ লোকমান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এনএম আজিম ও কোম্পানি সেক্রেটারি মহাদেব সরকার সুমন। এর আগে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, দু’জন সাবেক এমডি ও ৭ জন পরিচালকসহ ১২ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হক, সাবেক এমডি ফজলার রহমানসহ একাধিক কর্মকর্তা দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে সিঙ্গাপুরে অফশোর কোম্পানি খুলে ২০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা) পাচারের অভিযোগের দায় স্বীকার করেছেন। ব্যাংকের অপর চারজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, ডেস্ক অফিসার হিসেবে তারা উপরের নির্দেশে সব কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ মেমো তৈরি করে পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করেছেন, কেউ দেশের বাইরে অর্থ স্থানান্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা এবি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, কেন তারা ব্যাংকের বিপুল অর্থ পাচারে সহায়তা করলেন- এর জবাবে তারা বলেন, দেশের বাইরে অর্থ পাচারের কোনো অনুমোদন বা অফিসিয়াল অর্ডার ছিল না। তবে ব্যাংকটির হেড অব ট্রেজারি আবু হেনা মোস্তফা কামালের মৌখিক নির্দেশে তারা কাজ করেছেন।

গত ২৮ ডিসেম্বর ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলার রহমানও দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে দেশের বাইরে অর্থ পাচারের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকটির আরেকজন সাবেক এমডি শামীম আহমেদ চৌধুরী ও ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন অ্যান্ড ট্রেজারি শাখার প্রধান আবু হেনা মোস্তফা কামালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। তদন্তের অংশ হিসেবে ৭ জানুয়ারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৬ জন পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক। ওইদিন হাজির হতে যাদের তলব করে নোটিশ করা হয়েছে তারা হলেন- এবি ব্যাংকের পরিচালক শিশির রঞ্জন বোস, মেজবাহুল হক, ফাহিমুল হক, সৈয়দ আফজাল হাসান উদ্দিন, রুনা জাকিয়া ও মো. আনোয়ার জামিল সিদ্দিকী।

এদিকে একই অভিযোগে ব্যাংকটির গ্রাহক ব্যবসায়ী সাইফুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জানুয়ারি দুদকে হাজির হতে নোটিশ করা হলেও তিনি ভয়ে হাজির হননি বলে জানা গেছে। তিনি ৭ জানুয়ারি ব্যাংকের অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুদকে হাজির হবেন। দুদকের গণসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, অর্থ পাচারের ঘটনায় এ পর্যন্ত ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন ১৬ কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি অফশোর কোম্পানি খোলার নাম করে দুবাইয়ের পিজিএফ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ১৬৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে এবি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান এবি ব্যাংকের অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন।

 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter