আম্পানে লণ্ডভণ্ড কলকাতা ৭২ জনের প্রাণহানি

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা ২২ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২৮৭ বছর আগে মাত্র একবারই এমন ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল কলকাতায়। কিন্তু সেবার বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩০ কিমি.। আর বুধবারের আম্পান তাকেও টপকে যায়। ঘণ্টায় এর গতিবেগ ছিল ১৩৩ কিমি.। ১৭৩৭ সালের ওই ঘূর্ণিঝড়ে ২ হাজারের মতো মানুষ মারা গেলেও এদিন রাতে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে কলকাতা বিমানবন্দর। কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য না পেলে এ ক্ষতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে- তা অনুধাবন করেই হয়তো খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এলাকা পরিদর্শনে আসতে অনুরোধ করেছেন। বৃহস্পতিবার টেলিফোনে মমতার কথা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও। সংশ্লিরা বলছেন, আগাম সতর্কতা থাকায় এবার ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে থানার ছাউনি যেমন উড়ে গেছে, তেমনি বহু বাড়ির টিনের চিলেকোঠা থেকে শুরু করে ছাদের ফুলের বাগান ধূলিসাৎ হয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, লাগোয়া দুই ২৪ পরগনার ধ্বংসলীলার ভয়াবহতা আরও বেশি। তছনছ হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ। দমদম, বারাকপুর, শ্রীরামপুর, বারাসাত, বারুইপুরের মতো শহরতলীতে ঠিক কবে বিদ্যুৎ পরিষেবা আসবে তা ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়াররা জানাতে পারেননি। মোবাইল টাওয়ার ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুৎহীন থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পেরে আরও দুর্ভোগে পড়েন বৃহত্তর কলকাতার লাখ লাখ মানুষ। ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ তো দূরের কথা, হাতে থাকা স্মার্টফোন, দেয়ালের টিভি সবই স্তব্ধ। যেন বিচ্ছিন্ন জনপদ কলকাতা। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ন্যূনতম পানিটুকু পর্যন্ত মেলেনি শহরের অধিকাংশ পল্লীতে। পানীয় জলের অভাবে অনেক বাড়িতে রান্নাও হয়নি। বিদ্যুৎহীন বহুতলে চলেনি লিফট। তাই বৃদ্ধরা জরুরি চিকিৎসার জন্য অ্যাপয়মেন্ট থাকলেও যেতে পারেননি হাসপাতালে। অবর্ণনীয়, অকল্পনীয় ও অব্যক্ত এমনই দুর্ভোগে দিন কাটিয়ে নিম্নচাপের অশনি সংকেত নিতে রাতে ঘুমাতে গেল তিলোত্তমা কলকাতা। আজও ফের বৃষ্টি পূর্বাভাস যদি কার্যকর হয় তবে গাছ কাটা, জলের লাইন চালু করা ও বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার কর্মসূচিও ভেস্তে যেতে পারে। ভারতের অন্যতম এ প্রাচীন নগরজীবন ফের কবে আধুনিকতম নাগরিক পরিষেবায় স্বাভাবিক হবে তা আম্পান চলে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পরেও কেউ জোর গলায় বলতে পারেননি। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, দিনের আলো ফুটতে ধ্বংসলীলার ভয়াবহতা ও ক্ষতির পরিমাণ দেখে এবং জেনে শহরটাকে চিনতে পারছি না।

উত্তরে সিঁথি থেকে দক্ষিণে ঠাকুরপুকুর, পূর্বে সল্টলেক-চিংড়িঘাটা ও পশ্চিমে খিদিরপুর, গার্ডেনরিচ, মোটরবাইক নিয়ে ঘুরে মনে হয়েছে, প্রবল আক্রোশে শহরটাকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে গিয়েছে আম্পান দৈত্য। বহু বাড়ির ছাদের পানির ট্যাঙ্ক, দেওয়ালের বাইরে এয়ারকন্ডিশন মেশিন, চিলেকোঠার টিন উড়তে উড়তে কয়েকশ’ মিটার দূরে অন্য পাড়ায় গিয়ে পড়েছে।

শহর ঘুরতে গিয়ে চোখে পড়েছে, বহু দোকানের সাইনবোর্ড ও রাস্তার বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড উধাও। রয়েছে শুধু কঙ্কালসার টিনের বাক্স, ইতিউতি টিউবলাইট। লকডাউনে হাতিবাগান-গড়িয়াহাটে হকারদের দোকান বন্ধ করেছিল। কিন্তু আম্পান শহরের বহু হকার এবং বাজারে সবজি বিক্রেতার দোকান উড়িয়ে নিয়ে গেছে। খোদ সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্টরাও এদিন বারেবারে পুরসভায় ফোন করে বাড়ির সামনে থেকে ভেঙে পড়া গাছ সরাতে অনুরোধ করেছেন।

হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে কলকাতা বিমানবন্দর : ঘূর্ণিঝড় আম্পানের দাপটে ভেসে গেছে কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে। হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে বিমানবন্দরটির অনেক অংশ। এতে এর অনেক কাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ হয়নি। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ডুবে যাওয়া কলকাতা বিমানবন্দরের কিছু দৃশ্য।

যেখান দেখা গেছে, পানির ওপর দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি বিমান। ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিমানবন্দরের টারম্যাক, রানওয়ে এবং হ্যাঙ্গার পানিতে তলিয়ে যায়। একটি ভবনের ছাদেও ভাঙন ধরেছে।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আম্পান ঝড়ের তাণ্ডবে দুটি হ্যাঙ্গার এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, সেগুলো আর মেরামত করা যাবে না। তবে করোনার কারণে ২৫ মার্চ থেকে বিমানবন্দরটির সব ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ঝড়ে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি বা বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত