২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২২, শনাক্ত ১৭৭৩

ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে করোনা

মোট মৃত্যু ৪০৮ রোগী ২৮৫১১ * নতুন ৩৯৫সহ সুস্থ হয়েছেন ৫৬০২

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই সংক্রমিত ও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। একদিনে সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ডসংখ্যক নতুন শনাক্ত এবং মৃত্যু তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২২ জন।

এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০৮ জন। একই সময়ে আরও ১৭৭৩ জনের মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এতে দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫১১ জন।

সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩৯৫ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৬০২ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বৃহস্পতিবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সবশেষ এ তথ্য তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে ৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলে, এর দশ দিনের মাথায় প্রথম মৃত্যু হয়। গত দশ সপ্তাহে কখনও একদিনে এত নতুন রোগী আর এত বেশি মৃত্যু হয়নি। বুধবার দেশে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছিল ১৬১৭ জন। আর ওইদিন মারা যায় ১৬ জন। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ ২১ জনের মৃত্যু হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১০ হাজার ১৭৪টি। দেশের ৪৭টি ল্যাবে ১০ হাজার ২৬২ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ১১৪টি।

বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে করোনা পরীক্ষার অনুমতি দেয়া হয়েছে। সেখানে পরীক্ষার ফিও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে করোনা পরীক্ষার জন্য সাড়ে ৩ হাজার টাকা ও বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করলে রোগীকে ১ হাজার টাকা দিতে হবে।

গত একদিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ, ৩ জন নারী। ২২ জনের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ১৬ জন, বাড়িতে মারা গেছেন পাঁচজন এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় একজনকে। মৃত ২২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ১ জন এবং সিলেট বিভাগের ৩ জন।

ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে আটজন, ঢাকার অন্যান্য স্থানের একজন, নারায়ণগঞ্জের একজন, চট্টগ্রাম শহরের চারজন, কক্সবাজারের একজন, চাঁদপুরের তিনজন, ময়মনসিংহ শহরের একজন, সিলেট বিভাগের সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার একজন এবং সিলেটের অন্যান্য স্থানের দু’জন রয়েছেন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৃতদের মধ্যে ২ জনের বয়স ছিল আশি বছরের বেশি। বাকিদের মধ্যে ২ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ৩ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০, ১০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০, ২ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০, ১ জন ৩১ থেকে ৪০ এবং ২ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১৫৪ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন তিন হাজার ৮৯৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ৭৩সহ এখন পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ৯৬৬ জন।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে চার হাজার ৩২ জনকে। এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৫৫ হাজার ৫৩৪ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ৫৯১ জন।

এখন পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন দুই লাখ এক হাজার ১৫২ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৪ হাজার ৩৮২ জন। করোনার ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা অনলাইন ব্রিফিংয়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আহ্বান জানান।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত