মুক্তির দশ দিন

নিজেকে প্রশ্ন করি কতটা পরিশুদ্ধ হয়েছি

  মঈন চিশতী ২৩ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘কাদ আফলাহা মান তাযাক্কা, সফলকাম সে যে আত্মাকে বিশুদ্ধ করেছে।’ আপনার বন্ধুটি আজ শত কোটি টাকার মালিক। আর আপনি তেমন কিছুই করতে পারেননি। পরিবার খোটা দেয়- কী করলে জীবনে? আসলে মুমিনের সফলতা পার্থিব বিত্তবৈভব নয়। সততায় নিবিষ্ট থেকে কিছু সম্পদ যদি আসে ক্ষতি নেই। কিন্তু অনৈতিক কিছু এলে জীবনটাই বৃথা হয়ে যাবে।

বিশর হাফী নামে এক দরবেশ ছিলেন ইরাকে। নগ্ন পায়ে বাগদাদের রাজপথে হাঁটতেন। তার সম্মানে গাড়িটানা পশুগুলো রাস্তায় পেশাব-পায়খানা করত না। একদিন বাগদাদের পথে পশুর পায়খানা দেখে জনৈক বুজুর্গ বললেন, হায়! দরবেশ বিশর হাফী আজ দুনিয়া ছেড়ে মাবুদের কাছে চলে গেছেন। সাথীরা বললেন, হুজুর এটা কীভাবে বুঝলেন? কেউ তো বিশর হাফীর মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে আসেনি। তিনি বললেন, দেখছ না রাস্তায় পশুর পায়খানা পড়ে আছে। হাদিসে আছে, ‘মান তাওয়াদদাআ লিল্লাহি, রাফাআহুল্লাহ। যে আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তার মর্যাদা উঁচু করে দেন।’

মুমিনের সফলতা দুনিয়ার বিচারে নয়, তাকওয়ার বিচারে হয়। ‘ইন্না আকরামা কুম ইন্দাল্লাহি আতকাকুম। তোমাদের মধ্যে সে আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান যে তাকওয়াবান।’ এ সফলতা তাজকিয়ায়ে নফস বা আত্মশুদ্ধির সঙ্গে জড়িত। আত্মশুদ্ধির কর্মশালা নিয়েই রমজান এসেছে। আর কোরআন সেই কর্মশালার গাইডবুক।

মোমিনের সফলতার জন্য কোরআন মোটাদাগে চারটি গাইডলাইন দিয়েছে। সূরা মুমিনুনে আল্লাহ বলেন, ‘১. সফল ওইসব মুমিন, যারা তাদের নামাজে একাগ্র। ২. যারা বেহুদা কথাবার্তা থেকে বিরত রয়েছেন। ৩. যারা তাদের জাকাত যথাযথভাবে আদায় করেছে। ৪. যারা লজ্জাস্থানের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।’ এ চারটি বিষয় শানিত করার জন্যই রমজান এসেছে। এক কথায় একে তাকওয়াও বলা হয়। কোরআন এসেছে ‘হুদাল্লিল মুত্তাকিন। মুত্তাকিনদের হেদায়েতের জন্য।’

কিন্তু রমজান আসে রমজান যায় আমাদের স্বভাবের পরিবর্তন হয় না। এমনকি রমজানেও চলে মলমপার্টির দৌরাত্ম্য। পকেটমারের পকেটমারি। মজুদদারের মজুদদারি। যেভাবে রোজার ট্রেনিং নেয়া দরকার ছিল সেভাবে ট্রেনিং নিতে পারিনি বলে আমরা যুগ যুগ ধরে কার্যকর মুত্তাকি হতে পারছি না। হাজী হয়েও ভালো মানুষ হতে পারছি না। পাঞ্জেগানা মুসল্লি হয়েও ফাহেশা ও অশ্লীলতামুক্ত জীবনযাপন করতে পারছি না। কারণ আমাদের নামাজে একাগ্রতা নেই। কবি নজরুল ইসলামের ভাষায়, ‘নামাজি তোর নামাজ হল যে ভুল/মসজিদে তুই রাখলি সেজদা ছাড়ি ইমানের মূল।’

নামাজ শুরু হয় আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা আল্লাহু আকবর বলে। আর শেষ হয় সালাম বা শান্তির ঘোষণা দিয়ে। ডানে সালাম মানে যারা কালেমায় বিশ্বাসী তাদের কোনো ক্ষতি না করার ঘোষণা। আর বামে সালাম মানে যারা আমাদের ধর্ম বা সমাজের নয় তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বও আমাদের কাঁধে। কিন্তু আমরা কী দেখি? নামাজ শেষ করেই বেহুদা কাজে সবাই মগ্ন হয়ে পড়ি। মানুষের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়াই। যারা ভিন্নমতের তাদের দাবিয়ে রাখতে চেষ্টা করি। অনেক সময় তাদের মসজিদেও জায়গা দেই না। আমাদের স্মরণ রাখা দরকার, মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখান থেকে কোনো মানুষকে বের করে দেয়ার অধিকার কারও নেই।

রমজান এসেছে আমাদের জীবনের আমল এবং চিন্তার পরিশুদ্ধতার হিসাব মেলাতে। আমরা কতটা পরিশুদ্ধ হয়েছি এ শেষ রমজানে নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে উত্তর খুঁজে নেই। হে আল্লাহ আমাদের গোটা রমজানের বরকত দিয়ে বিশ্বকে করোনামুক্ত করুন। ঊসধরষ : [email protected]

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত