করোনায় ভিন্নমাত্রার ঈদ রাজনীতিবিদদের

সময় কাটাবেন পরিবারের সঙ্গে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এবার অনেকটা ভিন্নমাত্রায় ঈদ উদযাপন করবেন রাজনৈতিক নেতারা। ঈদের নামাজের পর নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে কোলাকুলি বা হাত মেলানোর চিরচেনা চিত্র এবার দেখা যাবে না। করোনা মহামারীর এই দুঃসময়ে পরিবারের সঙ্গেই ঈদ উদযাপন করবেন তারা। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এবার ঈদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, মাঠের বিরোধী দল বিএনপি, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বেশির ভাগ সিনিয়র নেতা রাজধানীতেই ঈদ কাটাবেন। নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা না হলেও ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। করবেন ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেউ কেউ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলো অতীতে যে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করত এবার তা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজনদের ঈদ শুভেচ্ছা অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। গত দুই বছর কারাগারেই ঈদ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২৫ মার্চ মুক্তি পেয়ে বর্তমানে গুলশানের বাসায় আছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করছেন না। ঈদের দিনেও কোনো অনুষ্ঠান থাকছে না। পরিবারের সদস্য এবং হাতেগোনা সিনিয়র কয়েক নেতাকে ঈদের দিন সাক্ষাৎ দিতে পারেন তিনি। জানা গেছে, নেতারা এলাকায় যেতে না পারলেও অনেকেই করোনার দুর্যোগকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঢাকা থেকে নিজ নিজ এলাকায় ত্রাণ ও ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। গরিবদের মধ্যে বিতরণ করেছেন কাপড় ও নগদ টাকা। সিনিয়র অনেক নেতা নিজে গিয়েও অসহায় মানুষের হাতে এসব তুলে দিয়েছেন। তবে এদের সংখ্যা খুবই কম। অতীতের পোড় খাওয়া নেতাদেরই খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে। সুবিধাভোগী ও সুযোগসন্ধানী নেতারা এ দুর্যোগেও হাত-পা গুটিয়ে আছেন। নেতাকর্মীরা ফোন করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

আওয়ামী লীগ : আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ করবেন তার সরকারি বাসভবন গণভবনে। প্রতি বছর ঈদের দিন আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিদেশি কূটনীতিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এবার ঈদের দিনে কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি। ঈদে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকলেও ফোনে ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী শারীরিকভাবে অসুস্থ। ফলে এবারও ঢাকাতেই ঈদ করবেন তিনি। এছাড়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় এবং উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদ বনানীর বাসায় ঈদ উদযাপন করবেন। তবে ঈদের আগে ও পরে নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তারা। এছাড়া আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও ঢাকায় ঈদ করবেন। সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকেই ঈদের দিন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।

ঈদে নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে যাবেন না প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম। তিনি এ বছর ঢাকায় ধানমণ্ডির বাসভবনে ঈদ করবেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানও ঈদ করবেন ঢাকায়। এছাড়া প্রেসিডিয়ামের অন্য সদস্যদের মধ্যে কাজী জাফর উল্লাহ, সাহারা খাতুন, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান ঢাকাতেই ঈদ করবেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে মাহবুবউল আলম হানিফ ঈদ করবেন কুষ্টিয়ায়। তিনি ইতোমধ্যে নিজ নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়া সদরে চলে গেছেন। আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ঈদ করবেন ঢাকায়। এছাড়া প্রতি বছর নিজ এলাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ঈদ করলেও এবার দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ রাজধানী ঢাকাতেই ঈদ করবেন।

সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে বিএম মোজাম্মেল হক ও এসএম কামাল হোসেন ঈদ করবেন ধানমণ্ডির নিজ বাসভবনে। এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, আইনবিয়ষক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু ঈদ করবেন ঢাকায়। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ প্রতি বছর নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করলেও এবার তাকেও ঈদ করতে হচ্ছে ঢাকায়। তবে ঈদ উপলক্ষে নিজ এলাকার ১৮শ’ মানুষের জন্য ঈদ সামগ্রী পাঠিয়েছেন তিনি। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যেও প্রায় সবাই এবার রাজধানী ঢাকাতেই ঈদ করছেন। এছাড়া সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই এবার ঈদ করছেন রাজধানীতেই।

বিএনপি : দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুই বছর পর কারাগারের বাইরে ঈদ করবেন। তবে করোনার কারণে তা অনেকটা কারাগারেই রূপ নিয়েছে। কারামুক্ত হওয়ার পরও করোনার কারণে নেতাকর্মীরা তাদের নেত্রীকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না। বর্তমানে গুলশানের বাসায় আইসোলশনে আছেন তিনি। ঈদের দিনেও নেতাকর্মীরা দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। নিকটাত্মীয়দের সঙ্গেই ঈদের আনন্দটুকু ভাগাভাগি করে নেবেন। লন্ডনে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। তবে নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে সিনিয়র কয়েকজন ঈদের দিন অনুমতি সাপেক্ষে চেয়ারপারসনকে শুভেচ্ছা জানাতে যেতে পারেন। এদিকে ঈদের দিন সকালে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। প্রতি বছর নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে এবার শুধু স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সেখানে যাবেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে লন্ডনে ঈদ উদযাপন করবেন। তারেক রহমানের প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমানের স্ত্রী ও মেয়েও এবার লন্ডনে ঈদ করছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিবার নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদ করলেও এবার থাকছেন ঢাকাতেই। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,

ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঈদ করবেন ঢাকায়। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে ঈদ করবেন। এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শওকত মাহমুদ, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন ঢাকায় ঈদ করবেন। আবদুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রামে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবার ঢাকার বাসায় ঈদ করবেন। যদিও গত বছর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদ করেন তিনি। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ ঢাকায় ঈদ করবেন। এছাড়া বিএনপির অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারাও করোনার কারণে ঈদের দিন ঢাকাতেই থাকছেন। এদিকে ২০ দলের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) একাংশের সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, অপর অংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ঈদে থাকছেন ঢাকাতেই।

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত