আম্পানের তাণ্ডবে পাউবোর বাঁধে ৮৪ পয়েন্টে ভাঙন

বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে - পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে ১৩ জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধে ৮৪টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন হয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কয়েক মিটার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর ঢেউয়ের আঘাতে এসব বাঁধ ভেঙে যায়। যার দৈর্ঘ্য সাড়ে প্রায় সাত কিলোমিটার। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও পটুয়াখালী জেলার বাঁধে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী যুগান্তরকে বলেন, শুক্রবার ‘রেসকিউ হেলিকপ্টার’ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখে এসেছি। খুলনার কয়রা ও বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকায় ৪টি স্থানে মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুতগতিতে তীব্র ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আম্পানের কারণে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয় আগেই। এ কারণে সবাই এখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, সারা দেশে ১৬ হাজার ৬শ’ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এগুলো প্রায় ৫০-৬০ বছর আগের তৈরিকৃত বাঁধ। তাই জলোচ্ছ্বাস স্থায়ীভাবে ঠেকানোর পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ইতোমধ্যে প্রকল্প শুরু হয়েছে। ২০ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ইনশাআল্লাহ জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো সম্ভব হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আমিনুল ইসলাম শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। পুনরায় বাঁধ নির্মাণে কী পরিমাণ ব্যয় হতে পারে তা নিরূপণে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জানানো হয়েছে। আশা করছি ঈদের পর এ বিষয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে।

পাউবোর চিফ মনিটরিং ও টাস্কফোর্স প্রধান কাজী তোফায়েল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বাঁধের ৮৪ পয়েন্টের ২৫২টি স্থানে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এসব বাঁধ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢেউয়ের আঘাতে। সমুদ্র উপকূল এলাকায় ঢেউয়ের আঘাতের প্রভাব বেশি পড়ে। এ সময় জলোচ্ছ্বাসও হয় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কয়েক মিটার বেশি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জলোচ্ছ্বাস যখন হয় তখন যত শক্তিশালীই হোক বাঁধের ওপর এর একটি প্রভাব পড়তেই পারে। তবে জলোচ্ছ্বাস বিবেচনায় নিয়ে একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। জানা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পাঁচ হাজার ৫৫৭ কিলোমিটার বাঁধের কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু আম্পানের প্রভাবে দেশের নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় কমপক্ষে ৮-১০ ফুট বেশি উচ্চতায় পানি বেড়েছে। বিভিন্ন জেলার বেড়িবাঁধ বা তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে বা বাঁধ উপচে জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত