করোনা ঝুঁকি নিয়ে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৯ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই কর্মস্থলে ফিরছেন রাজধানীর কর্মজীবী মানুষ।

এতে রাজধানীর সড়কে বাড়ছে গাড়ির সংখ্যা। মহাসড়ক-ফেরিঘাটগুলোতে চোখে পড়ছে মানুষের চাপ।

এ পরিস্থিতিতে ফের কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রাজধানী। যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রবেশপথ গাবতলী, আবদুল্লাহপুর ও সায়েদাবাদে গিয়ে মানুষের ভিড় দেখা যায়। তবে এখনও কোনো বাস রাজধানীতে ঢোকেনি।

গাবতলী এলাকায় দেখা গেছে, বাস ছাড়া বাকি সব ধরনের যানবাহনে মানুষ ঢুকছেন রাজধানীতে। আগের মতো পুলিশের চেকপোস্টে কড়াকড়ি নেই।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বাড়ি ফেরত মানুষ ঢাকায় ফিরতে অনেককেই নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই সড়কপথে তারা আসছেন প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস ভাড়া করে।

অনেকেই পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত নানা যানবাহনে গাদাগাদি করে আসছেন। এক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব। কেউ কেউ আবার মোটরসাইকেলে করে রাজধানীতে প্রবেশ করছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় সাধারণ ছুটি তুলে নেয়ার সঙ্গে গণপরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে সীমিত পরিসরে চলাচলের কথা বলা হয়।

৩১ মে থেকে বাস ও নৌ এবং রেল চলাচল শুরু হবে। রেলওয়ে মহাপরিচালক শামসুজ্জামান জানান, রেল যে কোনো সময় ছাড়ার জন্য তাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জানান, বাস ছাড়ার জন্য মালিকরা নিজেদের মধ্যে শিগগিরই বৈঠক করবেন। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

নৌ মালিক সমিতির সহসভাপতি ও পারাবত লঞ্চ মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, সামাজিক দূরত্ব মেনে লঞ্চ চালানো সম্ভব নয়। আমাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক না করেই গণপরিবহন ছাড়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। এখন আমরা নৌমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করছি।

ফেরিঘাটগুলোতে দীর্ঘ হচ্ছে যাত্রীদের ভিড় : রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ ও লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ দীর্ঘ হচ্ছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে।

সরেজমিন দৌলতদিয়া ৫নং ফেরিঘাটে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। অন্যদিকে ঢাকা ফেরত যাত্রীদের চাপও ছিল চোখে পড়ার মতো। দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ওসি মো. আবদুল মুন্নাফ শেখ বলেন, ঈদ শেষে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।

ঘাট এলাকায় দৌলতদিয়া নৌপুলিশের সদস্যরা কাজ করছে। পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে পাটুরিয়ার ফেরিঘাটগুলোর পন্টুন তলিয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে ভাঙনও দেখা দিয়েছে।

ভাঙনকবলিত পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে যাত্রী ও গাড়ির চাপ নেই। এ নৌরুটে যাত্রী ও গাড়ি স্বাভাবিকভাবে পারাপার হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ম্যানেজার মো. ফয়সাল জানান, বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই চারটি রো-রো ফেরিসহ ১০ ফেরি চলাচল করছে এ নৌরুটে। সকালে কাঁঠালবাড়ী থেকে আসা যাত্রীদের কিছুটা চাপ থাকলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকজন ও গাড়ির চাপ একদম কমে গেছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত