করোনাভাইরাস সংকট: বাসের ভাড়া বাড়ানো নিয়ে বৈঠক আজ

বিদ্যমান ভাড়ায় লঞ্চ চলাচল শুরু কাল * সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ চান পরিবহন নেতারা

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস সংকটের সময়ে বাসে কতজন যাত্রী বহন করা হবে ও ভাড়ার হার কী হবে- তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ শনিবার বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি। বাসের যাত্রী সংখ্যা বিবেচনা করে এ কমিটি ভাড়া নির্ধারণ করে দেবে। কমিটিতে বিআরটিএ’র কর্মকর্তা ছাড়াও মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধি রয়েছেন।

১ জুন সোমবার থেকে বাস চলাচল শুরু হবে। প্রতিটি বাসে আসনের অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী বহন করবে। অপরদিকে বিদ্যমান ভাড়ায় আগামীকাল রোববার থেকে আপাতত লঞ্চ চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে ভাড়া বাড়বে কিনা- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে।

শুক্রবার বিআরটিএতে বাস মালিকদের নিয়ে ও বিআইডব্লিউটিএতে লঞ্চ মালিকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত পৃথক দুই বৈঠকে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দুটি বৈঠকেই বাস ও লঞ্চে যাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আরও কিছু পৃথক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিআরটিএতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাসের ৩০ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখার প্রস্তাব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে মালিকরা ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখার পক্ষে মত দেন। বৈঠকে মন্ত্রী ১১ দফা নির্দেশনা দেন। ওই বৈঠকে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের পক্ষে বক্তব্য দেন পরিবহন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। মন্ত্রীও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার হুশিয়ারি দেন।

করোনাভাইরাস সংকটের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে গণপরিবহন চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক আদেশে সীমিত আকারে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়। এরপরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন পরিচালনা নিয়ে শুক্রবার বাস ও লঞ্চ মালিকদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করল বিআরটিএ ও বিআইডব্লিউটিএ।

সড়কে গণপরিবহন চলাচল নিয়ে বিআরটিএ কার্যালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন- সাবেক নৌমন্ত্রী ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাজাহান খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা, সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ ও শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলীসহ পরিবহন নেতারা।

বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৈঠকে পরিবহন নেতারা ভাড়া ৫০ শতাংশ বাড়ানো অথবা ৫০ শতাংশ আসনের ভাড়া সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বলা হয়, ভাড়ার ব্যাপারে ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। আজ শনিবার কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে ওবায়দুল কাদের প্রতিটি বাসে ২৫-৩০ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখাসহ ১১টি নির্দেশনা দেন। তিনি প্রতি দুই আসনে একজন যাত্রী এবং যাত্রীর পরিবারের সদস্য হলে পাশাপাশি আসনে বসার কথা বলেন। পরে এ নিয়ে আলোচনা করে ৫০ শতাংশ আসনে যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠকে বাস ভাড়া শতভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন পরিবহন মালিকরা। খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, যাত্রী যেহেতু অর্ধেক নেয়া হবে সেক্ষেত্রে ভাড়া দ্বিগুণ করে দিলেই হয়। এটা নিয়ে আলাদা বৈঠকের দরকার নেই।

মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে পাশাপাশি দুই আসনের একটিতে যাত্রী অন্যটি ফাঁকা রাখতে হবে। ওই যাত্রীকে দুই আসনের ভাড়া দেয়ার বিধান করলেই হয়।

পরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভাড়া নির্ধারণের জন্য বিআরটিএর একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে যুক্তিসঙ্গত ভাড়া চূড়ান্ত করতে হবে।

বৈঠকে যাত্রীদের মাস্ক ও গ্লাভস দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হলে এর বিরোধিতা করেন মালিকরা। এ বিষয়ে খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের মালিকরা মাস্ক ও গ্লাভস সরবরাহ করবে। যাত্রীরা নিজেদের মাস্ক নিজেরা নিয়ে আসবে। তিনি করোনা সংকটকালে মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র চেক না করার প্রস্তাব করেন।

তবে এর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নিলে অবৈধ যানবাহন চলাচল করবে। পুলিশ সীমিত আকারে গাড়ি চেক করবে।

তিনি বলেন, বাস নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া থামাতে পারবে না। দূরপাল্লার বাস পথিমধ্যে যাত্রী নামাতে পারবে, উঠাতে পারবে না।

বৈঠকে শাজাহান খান, মশিউর রহমান রাঙ্গা, খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ ও ওসমান আলীসহ পরিবহন নেতারা সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, ইউনিয়ন ও সমিতিগুলোর নির্ধারিত যে চাঁদা ধার্য করা রয়েছে তা প্রয়োজনে ওই সব সংগঠনের অফিসে গিয়ে দিয়ে আসব। রাস্তায় গাড়ি থেকে কোনো চাঁদা তোলা যাবে না।

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারও সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চায়। যেকোনো মূল্যে চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে।

এতে গাড়িতে জীবাণুনাশক ছিটানো, কাউন্টার থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

লঞ্চ : বিদ্যমান ভাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামীকাল রোববার থেকে লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। শুক্রবার বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ওই সভায় নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যা-প) সংস্থার চেয়ারম্যান মাহবুব উদ্দিন আহম্মদ বীরবিক্রম, লঞ্চ মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদ উদ্দিন ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে লঞ্চ মালিকরা বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন। এ সময় বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপরিবহন অধিদফতর বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী যাত্রীদের প্রাপ্য স্থান দেয়ার অনুরোধ জানায়। বৈঠকে লঞ্চের সার্ভে সনদে উল্লেখিত সংখ্যক যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত হয়। কোনো লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে কিনা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে কিনা- তা মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠকের এক পর্যায়ে লঞ্চ মালিক শহিদ উদ্দিন ভূঁইয়া বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম-পরিচালক পর্যায়ের এক কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে কর্মকর্তাদের ঘুষের পরিমাণও বেড়ে গেছে- এমন বক্তব্য দিলে বৈঠকে চরম হইচই বিতর্ক তৈরি হয়। তার পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য চলতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই লঞ্চ মালিককে অন্যরা থামিয়ে দেন।

পরে বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, রোববার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চলাচল শুরু হবে। লঞ্চ মালিকরা তাদের কিছু দাবি-দাওয়া দিয়েছেন তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করব। ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে পরে আলোচনা হবে। এখন বিদ্যমান ভাড়ায় যাত্রী বহন করতে হবে। সার্ভে সনদ অনুযায়ী যাত্রী নিতে হবে।

পরে মাহবুব উদ্দিন আহম্মদ বীরবিক্রম বলেন, রেজিস্ট্রেশন ও সার্ভে সনদে যে সংখ্যক যাত্রী উল্লেখ রয়েছে তা সঠিক নয়। কম সংখ্যক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চালালে লোকসান হবে, তেলের টাকাও তোলা যাবে না। ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে কারিগরি কমিটি ১০ দিনের মধ্যে বৈঠক করবে। ওই বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে বিদ্যমান ভাড়ায় যাত্রী নেয়া হবে।

রেজিস্ট্রেশন ও সার্ভে সনদের বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম পাল্টা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়াররা কারিগরি দিক বিবেচনা করে লঞ্চের যাত্রী সংখ্যা নির্ধারণ করে দেন, যা সার্ভে সনদে উল্লেখ থাকে। আইন অনুযায়ী একজন তৃতীয় শ্রেণির যাত্রী কমপক্ষে ১.২৫ বর্গমিটার জায়গা পাবে। তাকে সেই জায়গা দিতে হবে। এ সময় লঞ্চ মালিকরা চুপ ছিলেন।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত