রাজধানীমুখী মানুষের ঢল

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীমুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ফাইল ছবি

ঈদের ছুটি শেষে করোনার ঝুঁকি নিয়েই রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ফিরছে মানুষ। শুক্রবার দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া হয়ে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল নামে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ আসে এই দুই রুট দিয়ে।

এছাড়া দেশের অন্য এলাকা থেকেও প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত নানা যানবাহনে মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করে। কিন্তু এই মানুষগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। সামাজিক দূরত্ব বজায় কিংবা মাস্ক পরার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে নিদারুণ উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে।

সাধারণ ছুটি শেষে আগামীকাল থেকে খুলছে সরকারি অফিস। তাই আজও এসব রুটে কর্মজীবী মানুষের প্রচণ্ড চাপ থাকবে। এদিকে বাস ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল করেছে রাজধানীতে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এভাবে মানুষের যাতায়াত করোনা পরিস্থিতিকে আরও ভয়ংকর দিকে ঠেলে দেবে বলে অনেকের আশঙ্কা।

এদিকে রাজধানীতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সরকারের রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা-আইইডিসিআর সূত্র জানায়, রাজধানীর প্রায় সব পাড়া-মহল্লায়ই কিছু না কিছু করোনা রোগী রয়েছে। মিরপুর, ধানমণ্ডি, চকবাজার, বংশাল, গেণ্ডারিয়া, হাজারীবাগ, শাহবাগ, গুলশান, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ, মিটফোর্ড, মোহাম্মদপুর, রাজারবাগ, শাঁখারি বাজার, তেজগাঁও, উত্তরা, ওয়ারী করোনার অন্যতম হটস্পট। সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে মিরপুরে। এরপর মহাখালী, মুগদা, যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুরে।

শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় দেখা যায়, লেগুনায় ঠাসাঠাসি করে মানুষ চলছে। মিরপুরের অলিগলিতে মানুষের ভিড়। কেউ বের হয়েছেন বাজার করতে। আর কেউ বেরিয়েছেন ঘুরতে। সেলুনগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না করেই চুল কাটা হচ্ছে। মিরপুরের মধ্যপীরেরবাগের একাধিক সেলুনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এছাড়া বাজারের দোকান এবং সবজির ভ্যানগুলোতে ঘেঁষাঘেঁষি করে লোকজন জিনিসপত্র কেনাকাটা করছেন।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশও কাজ করে যাচ্ছে। আসলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, যেহেতু করোনার কোনো প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত আসেনি। তাই সচেতনতাই এখন বড় দাওয়াই। বিষয়টা আমাদের প্রত্যেককে বুঝতে হবে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) থেকে প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে মানুষের ঢল নামে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ফেরিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও জীবন ও জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে চাকরি বাঁচাতে গাদাগাদি করে মাইক্রো, প্রাইভেট কার, ব্যাটারিচালিত অটোবাইক, মোটরসাইকেল ও মাহেন্দ্রযোগে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে নদী পার হয়ে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছেন।

পোশাক কারখানার শ্রমিক নাজমা আক্তার, শেফালী খাতুন, রাজ্জাক মোল্লা বলেন, ‘গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ছোট ছোট যানে গাদাগাদি করে তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘাটে এসে পৌঁছেছি। করোনার ভয়ে কাজে যোগ না দিয়ে ঘরে বসে থাকলে খাব কি? তাই ঝুঁকি নিয়েই কর্মস্থলে যাচ্ছি।’

বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আবদুল্লাহ রনি জানান, এই নৌপথে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৪টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ভোর থেকেই যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ থাকার কারণে ৯টি ফেরি চলাচল করছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, গণপরিবহন বন্ধ থাকার পরও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কাজ করে যাচ্ছি।

শিবচর (মাদারীপুর) থেকে প্রতিনিধি জানান, কর্মস্থলমুখী যাত্রীর চাপ বেড়েছে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই কাঁঠালবাড়ী ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ফেরিঘাটে যাত্রীরা ভিড় করতে শুরু করেন। কাঁঠালবাড়ী থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত ১৩টি ফেরি সর্বক্ষণ চলাচল করছে। প্রতিটি ফেরিতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে যাত্রীরা ছিলেন একেবারেই উদাসীন।

কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ম্যানেজার আবদুল আলীম জানান, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তিন দিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন ছোট যানবাহনে করে যাত্রী কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আসছে। আর ঘাট পর্যন্ত আসতে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ৫ থেকে ৭ গুণ বেশি ভাড়া। এই নৌরুটে আড়াই মাস ধরে লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিগুলো যানবাহন পারাপারের পাশাপাশি যাত্রী পারাপারে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমানে এই রুটে চলাচলকারী ১৭টি ফেরির মধ্যে ১৩টি চালু রাখা হয়েছে। বাকি ৫টি ফেরি নোঙর করে রাখা হয়েছে। ব্যক্তিগত পরিবহনের চাপ বাড়তে থাকলে সেগুলো ছাড়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ঈদে গড়ে প্রায় ১ কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়েন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এবার কমবেশি ১০ লাখ মানুষ রাজধানী ছেড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেই মানুষগুলো জীবিকার তাগিদে রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ফিরতে শুরু করেছেন।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত