মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে ঢাকামুখী জনস্রোত

দৌলতদিয়া পাটুরিয়া এবং কাঁঠালবাড়ী শিমুলিয়া রুটে তীব্র যাত্রীচাপ

  যুগান্তর ডেস্ক ৩১ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের ছুটি শেষে করোনার ঝুঁকি নিয়েই রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ফিরছে মানুষ। শনিবার দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া হয়ে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল নামে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ৫-৬ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রোসবাস, মোটরসাইকেল, পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও ইজিবাইকসহ ব্যটারিচালিত নানা যানবাহনে যাত্রীরা কাঁঠালবাড়ী ও দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছেন।

এরপর ফেরিতে গাদাগাদি করে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিয়ে তারা পাড়ে পৌঁছেন। সেখান থেকে একই কায়দায় গন্তব্যে রওনা হন। এ পারেও তাদের ৫-৬ গুণ ভাড়া গুনতে হয়। যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। সামাজিক দূরত্ব বজায় কিংবা মাস্ক পরার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে নিদারুণ উদাসীনতা লক্ষ করা গেছে। সাধারণ ছুটি শেষে আজ খুলছে সরকারি অফিস। এ কারণেই শনিবার কর্মজীবী মানুষের প্রচণ্ড চাপ ছিল। এদিন দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও মানুষ প্রাইভেটকার, মাইক্রোসবাস, মোটরসাইকেল, পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও ইজিবাইকসহ ব্যটারিচালিত নানা যানবাহনে ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে ফেরেন। যুগান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

শিবচর (মাদারীপুর) ও লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) : কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে শনিবার রাজধানী ও আশপাশের জেলামুখী কর্মজীবী মানুষের ঢল নামে। ফেরিতে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিয়ে তারা মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘটে পৌঁছেন। সেখান থেকে ছোট ছেট যানে রাজধানীর দিকে ছোটেন তারা। এই রুটে মোট ১৭টি ফেরি সারাক্ষণ চলাচল করছে। প্রতিটি ফেরিতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ফেরি কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ভেড়ার দশ মিনিটের মধ্যে যানবাহন ও যাত্রীতে ভরে যায়। যাত্রীচাপ সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। এদিকে লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না। গাদাগাদি করে তারা ফেরি পার হন। সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরের কথা, অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।

কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ম্যানেজার আবদুল আলীম জানান, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় গত তিন দিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন ছোট যানবাহনে যাত্রীরা কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আসছেন। ঘাট পর্যন্ত আসতে তাদের ৫-৬ গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিগুলো যানবাহন পারাপারের পাশাপাশি যাত্রী পারাপারে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমানে এই নৌরুটে চলাচলকারী ১৭টি ফেরির মধ্যে ১৩টি চালু রাখা হয়েছে।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পদ্মা পারি দিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছে যাত্রীদের বিপাকে পড়তে হয়। উপায় না দেখে গাদাগাদি করে ৪-৫ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে সিএনজি, অটো, মোটরসাইকেল, পিকাপ, ট্রাক, ছোটগাড়ি কিংবা মাইক্রোবাসে গন্তব্যে রওনা দেন। মাথায় ব্যাগসহ ছোট ছেলেমেয়ে কোলে করে হেঁটে রওনা দিয়েছেন কেউ কেউ। ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকেও রওনা দেন অনেকে। এর পরও আবার বিপত্তি ঘটায় ট্রাফিক পুলিশ। ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া ভাড়ার গাড়ি চলাচলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা ভাড়ার গাড়িগুলো আটকে দেয়। এতে যাত্রীরা ভয়াবহ যানবাহন সংকটে পড়েন।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) ও মানিকগঞ্জ : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ঘাটেও এদিন রাজধানীমুখী মানুষের ঢল নামে। এই ঘাট থেকে ফেরিতে গাদাগাদি করে তারা পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছেন। সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীচাপ বাড়তে থাকে। আর এসব যাত্রীকে সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। ফেরিতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও যাত্রীরা তা মানেননি।

যাত্রীদের পাশাপাশি ফেরিঘাটে ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের চাপ ছিল। গণপরিবহন না থাকায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, মাহেন্দ্র, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে নদী পার হন যাত্রীরা। পার হয়ে গণপরিবহন না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েন তারা। মোটরসাইকেল, মাহেন্দ্র, অটোরিকশাযোগে কয়েক গুণ ভাড়া বেশি দিয়ে তারা গন্তব্যে রওয়ানা দেন।

পাটুরিয়া ঘাটে আসা পোশাক শ্রমিক মামুন মিয়া জানান, ফরিদপুর থেকে সিএনজিতে দৌলতদিয়া পর্যন্ত আসতে তার ৫০০ টাকা খরচ হয়। আবার পাটুরিয়া থেকে নবীনগর যেতে মাইক্রোবাসে ৫০০ টাকা করে ভাড়া চাচ্ছে। এমনিতেই বাড়ি গিয়ে টাকা পয়সা শেষ। এরপর এখন কর্মস্থলে ফিরতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট সহকারী ব্যবস্থাপক মাহবুব হোসেন জানান, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট বড় ৭টি ফেরি চলাচল করছে। ঢাকামুখী যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ রয়েছে।

টাঙ্গাইল : শনিবার উত্তরবঙ্গ ও টাঙ্গাইলের আশপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ রাজধানীতে ফেরেন। এ কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে পিকআপ, প্রাইভেটকার, মাইক্রো ও মোটরসাইকেল চলাচল বেড়ে যায়। ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ২২ হাজার গাড়ি পারাপার হয়। এতে সেতুতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি।

ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব মহাসড়কের সেতু গোলচত্বর ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড গিয়ে দেখে যায়, হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ভিড় করেছেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় গাদাগাদি করে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রো ও পিকআপে তারা গন্তব্যে যাচ্ছেন।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল হোসেন জানান, সকাল থেকেই মহাসড়কে ছোট ছোট যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। উত্তরবঙ্গ ছাড়াও টাঙ্গাইলের আশপাশের জেলার মানুষজন এই মহাসড়ক ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। এ কারণে প্রাইভেটকার, পিকআপ, পণ্যবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেল ও মাইক্রো বাসের সংখ্যা বেশি ছিল।

ভোলা : ভোলায় জোয়ারের কারণে ইলিশা ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে ও অ্যাপ্রোচ তলিয়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। যাত্রীদের বেশির ভাই ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী। এদিকে ৬ মাসেও চালু হয়নি হাইলেভেল ওয়াটার ঘাট।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত