কৃষ্ণাঙ্গ যুবক হত্যা: যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন লুটতরাজ সহিংসতা

  যুগান্তর ডেস্ক ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নৈরাজ্য, লুটপাট ও সহিংস ঘটনা ঘটেছে। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরের ডিপার্টমেন্ট স্টোরে নজিরবিহীন লুটতরাজ করা হয়েছে। ডেকে ডেকে লুটের মালপত্র বিতরণ করেছে দুর্বৃত্তরা।

দেশটির ৪০টি শহরে কঠোর কারফিউ জারির পরও ফ্লয়েডের হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। সপ্তম দিন সোমবারও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সহিংসতায় তিন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। মিনেসোটা, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় রাজধানী ওয়াশিংটনে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে বিক্ষোভ দমনে দেশজুড়ে সেনা অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট, বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্সের।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পাশাপাশি পুলিশি দমন-নির্যাতনের জবাবে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন জায়গায় লুটপাট হচ্ছে উল্লেখ করে সোমবার বিক্ষোভকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানান গভর্নর বিল দে ব্লাসিও।

তিনি জানান, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে অনেকে লুটপাট করছে, ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, অন্যকে আঘাত করছে। তার বিবৃতির পর সোমবার রাতেও অনেক দোকানের জানালার কাচ ভেঙে লুটপাট করা হয়েছে। ম্যানহাটনের অভিজাত শপিং এলাকা সোহোর লুইস ভুশন স্টোর লুট করে একদল দুর্বৃত্ত। জানালার কাচ ভেঙে তার দিয়ে নানা জিনিসপত্র পাচার করা হয়েছে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্টোর থেকে লুটপাট করা হয়েছে। এ সময় একজনকে বলতে শোনা যায়- ‘কিছু নিতে চাইলে তাড়াতাড়ি আসতে হবে।’

সোহোর গ্রিন স্ট্রিট ও প্রিন্স স্ট্রিটের কর্নারে অবস্থিত লুইস ভুশন স্টোরের পেছন দিক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে লুটপাটকারীরা। পরে সামনের দরজা খুলে দেয়া হয়। গাড়িভর্তি একদল মানুষ স্টোরের কাছে এসে পার্ক করে। পরে তারা ভেতরে ঢুকে স্টোরের মালামাল গাড়িতে উঠিয়ে চলে যায়।

পুলিশ জানায়, লুটপাটকারীরা ব্রুম স্ট্রিটের কর্নারে, ব্রডওয়ের ওপরে অবস্থিত ব্লুমিংডেল স্টোরেও হানা দিয়েছে। দুই হাতে কাপড় নিয়ে দৌড়ে পালানোর সময় এক ব্যক্তিকে পুলিশ ধাওয়া করে ধরে ফেলে। আরেক ঘটনায় তিনটি শু-বক্স হাতে নিয়ে ভাগার চেষ্টা করছিলেন এক তরুণ। প্যাট্রোল কারের পুলিশ তাকে আটক করে। ওয়াশিংটন ডিসিসহ ২৩টি অঙ্গরাজ্যে সক্রিয় রয়েছেন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা। তবে কারফিউ জারি আর বিশেষ বাহিনী নামিয়েও লোকজনকে রাস্তা থেকে সরানো যাচ্ছে না।

শক্ত হাতে বিক্ষোভ দমনের আহ্বান ট্রাম্পের : ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ওপর আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভিডিও টেলিকনফারেন্সে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে আমরা এমন কিছু করতে যাচ্ছি যা মানুষ আগে দেখেনি। অনেক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বিক্ষোভ দমনে যথেষ্ট ভূমিকা নিচ্ছেন না বলে সোমবার টেলিকনফারেন্সে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা সময় নষ্ট করছেন, তারা (বিক্ষোভকারী) আপনাদের মাড়িয়ে দিতে চাইছে আর মনে যেন হচ্ছে আপনারা তাদের ঝাঁকুনি দিতে চান।’ নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া ও লস অ্যাঞ্জেলসের মতো ডেমোক্রেট গভর্নর এবং মেয়রশাসিত অঙ্গরাজ্য ও শহর কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাদের আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রয়োজনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের প্রস্তাব দেন তিনি। তবে মিনেসোটার ডেমোক্রেট গভর্নর টিম ওয়ালজের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি বিক্ষোভকারীদের বোলিং পিনের মতো দ্রুত পরাস্ত করেছেন।’

নিউ জার্সিতে আরেক ডেমোক্রেট ফিল মরফিও ‘ভালো কাজ’ করেছেন বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। মিনেসোটা বিক্ষোভ দমনের পরীক্ষা ছিল মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা প্রথম ধাপ দেখেছেন। সেটি ছিল দুর্বল এবং করুণ আর এখন দ্বিতীয় ধাপে আপনাদের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।’

চলমান বিক্ষোভ দমনে সেনা অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে রাজধানীতে সেনা নামানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। হুমকি দিয়েছেন, বিক্ষোভ প্রশমিত না হলে অঙ্গরাজ্যগুলোতেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেবেন তিনি।

ফ্লয়েডের মৃত্যু শ্বাসকষ্টে : পুলিশের নির্যাতনের শিকার আফ্রিকান-আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু শ্বাসকষ্টেই হয়েছে। ফ্লয়েডের পরিবারের নিয়োগ করা বেসরকারি সংস্থার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, গলা ও ঘাড়ে চাপ প্রয়োগে শ্বাস বন্ধ হওয়ার কারণে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়েছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েডকে গ্রেফতার করতে গিয়ে নির্যাতন করেন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক চাওভিন। মৃত্যুর আগে ফ্লয়েডের বলে যাওয়া শেষ শব্দগুলোকে (আই কান্ট ব্রেদিং) স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেক শহরের বিক্ষোভকারীরা।

ঘটনাপ্রবাহ : কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় অগ্নিগর্ভ যুক্তরাষ্ট্র

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত