সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রণক্ষেত্র

  সিলেট ব্যুরো ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: যুগান্তর

সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় সংঘর্ষকালে দুই পক্ষ একে অপরেও ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায়।

একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিকের ছেলে রুমন, গিয়াস, খালেদ মানিক এনাম ও অলি রয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সেলিম আহমদ ফলিকের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন সাধারণ শ্রমিকরা। এ নিয়ে ৪-৫ দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জেরে মঙ্গলবার বিকালে সাধারণ শ্রমিক ও ফলিকের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে র‌্যাব এসে যোগ দেয়। এরপর পুলিশ ও র‌্যাব মিলে গুলি-টিয়ারশেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন আগে সেলিম আহমদ ফলিকের কাছে গিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য খাদ্যসামগ্রী দেয়ার কথা বলেন এক শ্রমিক নেতা। তখন ফলিক ওই নেতার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তহবিলের এক টাকাও খরচ করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপর থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সাধারণ শ্রমিকরা। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফলিকের কাছে কল্যাণ তহবিলের হিসাব চাইলে তিনি মাত্র ৪১ লাখ টাকার হিসাব দেন। বাকি টাকার হিসাব না দেয়ায় শ্রমিকরা তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। এর জেরেই সংঘর্ষ বাধে।

শ্রমিকনেতা ময়নুল ইসলাম বলেন, সেলিম আহমদ ফলিক সন্ত্রাসীদের নিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা করেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জবাব দেয়া হেবে।

মিতালী শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলাদ আহমদ রিয়াদ জানান, শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের প্রায় আড়াই কোটি টাকা থাকার কথা। কিন্তু ফলিক আমাদের হিসাব দিয়েছেন মাত্র ৪১ লাখ টাকার। বাকি ২ কোটি টাকা গেল কোথায়? শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের পুরো টাকার হিসাব না দিলে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে। অফিসে ঢুকতে দেয়া হবে না।

শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোমিত অভিযোগ করেন, ফলিক সন্ত্রীদের দিয়ে ইউনিয়ন দখল করার অপচেষ্টা করছেন। এটা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

অভিযোগের বিষয়ে সিলেট সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক বলেন, ‘অভিযোগ সঠিক নয়। টাকার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এসব বিষয় ক্যাশিয়ার শামসুল হক মানিক জানেন। ওরা নিরীহ শ্রমিকদের ওপর হামলা করেছে।’

জানতে চাইলে ক্যাশিয়ার শামসুল হক মানিক বলেন, আসলে এখানে টাকা আত্মসাতের বিষয় নেই। এর পেছনে অন্য বিষয় আছে। ঈদের আগে সাধারণ শ্রমিকরা কল্যাণ ফান্ড থেকে ঈদ উপহার শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করতে চান। কিন্তু সভাপতি দেননি। এ নিয়েই মূলত ঝামেলার সৃষ্টি হয়।

দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল জনান, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এবং র‌্যাব ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পথচারীসহ উভয় পক্ষের ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে কোনো পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত