আজ ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ৭ জুন, ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস। বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য প্রতিবাদী আত্মত্যাগে ভাস্বর একটি দিন। ১৯৬৬ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়।

এ দিনটি বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনকে স্পষ্টত নতুন পর্যায়ে উন্নীত করে। এর মধ্য দিয়েই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা-সংগ্রামে রূপ নেয়। ৬ দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১১ দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ বিশ্বমানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রতি বছর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হলেও করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে জনসমাগম পরিহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এ বছর দিবসটি পালিত হবে।

এ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি অনলাইন আলোচনা সভা এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইন আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন। করোনার কারণে জনসমাগম এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগও।

দলটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঐতিহাসিক ৭ জুনের সব বীর শহীদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং বাঙালি জাতির স্বাধীনতা, মুক্তি, গণতন্ত্র ও প্রগতি প্রতিষ্ঠায় আত্মদানকারী শহীদ সন্তানদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছে দেশবাসীকে।

১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে জাতির পিতাসহ সব রাজবন্দির মুক্তি আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল এই ছয় দফা। ছয় দফাভিত্তিক ১১ দফা ছিল ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দাবিনামা।

সর্বোপরি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পূর্ববাংলার জনগণ আওয়ামী লীগ তথা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মনোনীত প্রার্থীদের একচেটিয়া রায় প্রদান করে বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে।

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করার পরও পশ্চিম পাকিস্তানিরা যখন নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করল, তখনই ঐতিহাসিক ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ভাষণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণেও ছয় দফার প্রতিটি দফার পর্যালোচনা ছিল।

পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকার বিভিন্ন সেক্টরের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনা করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে সব সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়েছিল ছয় দফার ভিত্তিতে। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ঐতিহাসিক ছয় দফার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা আজ-সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী : আজ ৭ জুন ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে একটি অনলাইন আলোচনা সভা এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশে অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার বিকালে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফ করেন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিকদের জানান, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভা নিঃসন্দেহে সবার কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। আলোচক হিসেবে থাকবেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সহযোগিতায় ধারণকৃত আলোচনা অনুষ্ঠানটি আজ ৭ জুন সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলে সুবিধাজনক সময়ে প্রচারিত হবে।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা বিষয়ে বলেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন ও এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন বিষয়ে সবাইকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ৭ জুন রাত ৯টা হতে রাত ১০টা এক ঘণ্টাব্যাপী ‘শতবর্ষে শত পুরস্কার’ শিরোনামে একটি অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

ঘরে বসে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন বাংলাদেশে এই প্রথম, যা মুজিববর্ষে ডিজিটাল বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে আগ্রহীগণকে quiz.mujib100.gov.bd ওয়েব লিংকের মাধ্যমে ৭ জুন বিকাল ৩টার ভেতর অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে নিবন্ধনকারী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৬ মিনিটের ভেতর যত বেশি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবেন, তার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার বিজয়ী নির্ধারণ করবে। যত দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করে কুইজ প্রতিযোগিতায় ১০০ জন বিজয়ীকে পুরস্কার দেয়া হবে।

প্রথম পুরস্কার তিন লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার দুই লাখ টাকা, তৃতীয় পুরস্কার এক লাখ টাকা, চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা, পঞ্চম পুরস্কার ২৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ পুরস্কার ৯৫টি প্রতিটি পাঁচ হাজার টাকা। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের ইমেইলে সনদপত্র পাঠানো হবে।

৬ দফা দাবি থেকে শিক্ষা নিয়ে তরুণ প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে-রাষ্ট্রপতি: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা দাবি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।

ঐতিহাসিক ৬ দফা কেবল বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ নয়, সারা বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের মুক্তি আন্দোলনের অনুপ্রেরণারও উৎস এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা অন্যতম মাইলফলক।

তিনি ‘ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস’ উপলক্ষে শনিবার এক বাণীতে এ কথা বলেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠন, ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে লাহোরে সর্বদলীয় এক সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬ দফা প্রস্তাব পেশ করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

৭ জুনের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ করব-প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ জুনের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। ইনশাআল্লাহ্, ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে হবে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ। ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে শনিবার দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ঐতিহাসিক ৭ জুনসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধপরিকর। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দিতে কাজ করছি।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত