পদে পদে জটিলতা স্মার্টকার্ড প্রকল্পে
jugantor
আইএমইডি’র প্রতিবেদন
পদে পদে জটিলতা স্মার্টকার্ড প্রকল্পে
বেড়েছে মেয়াদ ও ব্যয়, আসছে নতুন প্রকল্প * ৯ বছরে বিতরণ ৫ কোটি ৭ লাখ কার্ড * ভুল সংশোধনে দীর্ঘ সময় ও হয়রানি * মাঝপথে অর্থায়ন থেকে সরে গেছে বিশ্বব্যাংক

  হামিদ-উজ-জামান  

২৯ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদে পদে জটিলতা স্মার্টকার্ড প্রকল্পে

শুরু থেকেই পদে পদে জটিলতায় ভুগছে স্মার্টকার্ড প্রকল্প। ফলে দেড়গুণ সময় লেগেছে, বেড়েছে ১৩৬ দশমিক ৬২ শতাংশ ব্যয়।

৯ বছরে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৫ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার কার্ড। লক্ষ্য ছিল ৯ কোটি কার্ড তৈরি ও বিতরণের। এর অন্যতম বড় কারণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা, অদক্ষতা ও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা।

বিশ্বব্যাংকের কঠোর শর্ত পালন কাজ শুরু করতেই গেছে ৩৩ মাস। আবার মাঝপথে অর্থায়ন থেকেও সরে যায় সংস্থাটি। পরে সরকারের নিজস্ব অর্থেই চলছে কার্যক্রম।

এছাড়া সরবরাহ করা কার্ডে থাকছে ভুল তথ্য, ছবির মান খারাপ এবং কার্ড সংশোধনে দীর্ঘসময় ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন নাগরিকরা।

‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পে এ চিত্র দেখা গেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় মূল্যায়ন সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। জটিলতা কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

রোববার তিনি যুগান্তরকে বলেন, বিদেশি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ১৩৯ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। এখন সম্পূর্ণ দেশীয় কোম্পানি ও কাঁচামাল দিয়ে অনেক বেশি স্মার্টকার্ড তৈরি করা হচ্ছে। আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এখন কার্ড রফতানির চিন্তা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৯টি দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

সাইদুল ইসলাম আরও বলেন, নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরাই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করিনি। প্রকল্পের আওতায় অন্যতম কাজ ডাটা সেন্টারের মাধ্যমে ৪টি সংস্থাকে সেবা দেয়ার কথা থাকলেও এখন ১২৭টি মূল প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেয়া হচ্ছে। অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে এক হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান ডাটা সেন্টার থেকে সেবা নিচ্ছে।

তবে এই প্রকল্পটি আগামী ডিসেম্বরে সমাপ্ত ঘোষণা করে আমরা নতুন করে আইডিইএ-২ প্রকল্প তৈরি করছি। এছাড়া হয়রানি কমাতে অনলাইনে ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, চলতি (জুন) মাসের মধ্যেই প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হবে।

আমরা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিবিড় পরিবীক্ষণ করিয়েছি যাতে নিরপক্ষেভাবে তথ্যগুলো উঠে আসে। এই মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে চলতি প্রকল্পের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে অন্য কোনো প্রকল্পে কাজে লাগানো যাবে।

আইএমইডির প্রতিবেদনের খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটির মূল মেয়াদ ছিল ২০১১ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জুন। কিন্তু এ সময় অগ্রগতি না হলে প্রথমবার ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই দেড় বছর বাড়িয়ে মেয়াদ করা হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয়বার সংশোধন করে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ সময় এক বছর বাড়িয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ করা হয়।

এতেও অগ্রগতি না হলে তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে আবারও ছয় মাস বাড়িয়ে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এরপর চতুর্থবার প্রায় এক বছর বাড়িয়ে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদ করা হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। পাঁচ বছরের জায়গায় এটির কার্যকাল এখন প্রায় নয় বছর চলছে।

প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল এক হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা ছিল। পরে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ২৫৭ কোটি ৮০ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয় ১ হাজার ৬৩৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ফের ২৪৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৮৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সর্বশেষ ১৮৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৯৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে আইএমএমইডি বলেছে, প্রকল্পের আওতায় ডাটা সেন্টারসহ বেশকিছু কাজ শতভাগ শেষ হলেও মূল কাজই এখনও বাকি। এটির প্রধান কাজ হচ্ছে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত এবং নাগরিকদের কাছে বিতরণ করা। কার্ড তৈরির জন্য ফরাসি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওর্বারথার টেকনোলজিস চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি।

ফলে বিশ্বব্যাংকের সম্মতি ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনক্রমে চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। এরপরও তারা ৯ কোটি স্মার্টকার্ড তৈরি ও বিতরণ করতে পারেনি। কার্য সম্পাদনে ব্যর্থতা, অদক্ষতা ও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় কোম্পানিটির সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন করা হয়নি।

ঠিকাদার কোম্পানিটি যখন চলে যায়, তখন মাত্র ১ কোটি ২৯ লাখ কার্ড তৈরি করেছে। পরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ কোটি ৭৩ লাখ কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে।

১০ মার্চ পর্যন্ত ৬ কোটি ১০ লাখ কার্ড পার্সোনালাইজ করা হয়েছে এবং বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত জনগণের কাছে বিতরণ করা হয়েছে ৫ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার। বলা হয়েছে, প্রকল্পটির বাস্তবায়নের গতি লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

তবে প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন না হওয়ার একটি বড় কারণ বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়া। ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এই চুক্তি আর নবায়ন করেনি। ফলে বিশ্বব্যাংকের পুরো অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া পুরো ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে মেটাতে হচ্ছে।

প্রকল্পের দুর্বল দিক : প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থায়ন চুক্তিতে বিশ্বব্যাংকের আরোপিত পূর্বশর্ত। যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন সংশোধন ও বিধিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত অর্থছাড় না করা।

সরবরাহ করা কার্ডে তথ্যের ভুল ও ছবির মান খারাপ, কার্ড সংশোধনে দীর্ঘসময় ও হয়রানি, উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে জনবলের অভাব, আইসিটি সিস্টেমের নিয়মিত আপগ্রেডেশনের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট ঘাটতি এবং সুস্পষ্ট এক্সিট প্লান না থাকা।

আইএমইডি’র প্রতিবেদন

পদে পদে জটিলতা স্মার্টকার্ড প্রকল্পে

বেড়েছে মেয়াদ ও ব্যয়, আসছে নতুন প্রকল্প * ৯ বছরে বিতরণ ৫ কোটি ৭ লাখ কার্ড * ভুল সংশোধনে দীর্ঘ সময় ও হয়রানি * মাঝপথে অর্থায়ন থেকে সরে গেছে বিশ্বব্যাংক
 হামিদ-উজ-জামান 
২৯ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পদে পদে জটিলতা স্মার্টকার্ড প্রকল্পে
ছবি: সংগৃহীত

শুরু থেকেই পদে পদে জটিলতায় ভুগছে স্মার্টকার্ড প্রকল্প। ফলে দেড়গুণ সময় লেগেছে, বেড়েছে ১৩৬ দশমিক ৬২ শতাংশ ব্যয়।

৯ বছরে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৫ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার কার্ড। লক্ষ্য ছিল ৯ কোটি কার্ড তৈরি ও বিতরণের। এর অন্যতম বড় কারণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা, অদক্ষতা ও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা।

বিশ্বব্যাংকের কঠোর শর্ত পালন কাজ শুরু করতেই গেছে ৩৩ মাস। আবার মাঝপথে অর্থায়ন থেকেও সরে যায় সংস্থাটি। পরে সরকারের নিজস্ব অর্থেই চলছে কার্যক্রম।

এছাড়া সরবরাহ করা কার্ডে থাকছে ভুল তথ্য, ছবির মান খারাপ এবং কার্ড সংশোধনে দীর্ঘসময় ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন নাগরিকরা।

‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পে এ চিত্র দেখা গেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় মূল্যায়ন সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। জটিলতা কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

রোববার তিনি যুগান্তরকে বলেন, বিদেশি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ১৩৯ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। এখন সম্পূর্ণ দেশীয় কোম্পানি ও কাঁচামাল দিয়ে অনেক বেশি স্মার্টকার্ড তৈরি করা হচ্ছে। আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এখন কার্ড রফতানির চিন্তা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৯টি দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

সাইদুল ইসলাম আরও বলেন, নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরাই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করিনি। প্রকল্পের আওতায় অন্যতম কাজ ডাটা সেন্টারের মাধ্যমে ৪টি সংস্থাকে সেবা দেয়ার কথা থাকলেও এখন ১২৭টি মূল প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেয়া হচ্ছে। অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে এক হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান ডাটা সেন্টার থেকে সেবা নিচ্ছে।

তবে এই প্রকল্পটি আগামী ডিসেম্বরে সমাপ্ত ঘোষণা করে আমরা নতুন করে আইডিইএ-২ প্রকল্প তৈরি করছি। এছাড়া হয়রানি কমাতে অনলাইনে ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, চলতি (জুন) মাসের মধ্যেই প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হবে।

আমরা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিবিড় পরিবীক্ষণ করিয়েছি যাতে নিরপক্ষেভাবে তথ্যগুলো উঠে আসে। এই মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে চলতি প্রকল্পের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে অন্য কোনো প্রকল্পে কাজে লাগানো যাবে।

আইএমইডির প্রতিবেদনের খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটির মূল মেয়াদ ছিল ২০১১ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জুন। কিন্তু এ সময় অগ্রগতি না হলে প্রথমবার ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই দেড় বছর বাড়িয়ে মেয়াদ করা হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয়বার সংশোধন করে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ সময় এক বছর বাড়িয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ করা হয়।

এতেও অগ্রগতি না হলে তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে আবারও ছয় মাস বাড়িয়ে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এরপর চতুর্থবার প্রায় এক বছর বাড়িয়ে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদ করা হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। পাঁচ বছরের জায়গায় এটির কার্যকাল এখন প্রায় নয় বছর চলছে।

প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল এক হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা ছিল। পরে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ২৫৭ কোটি ৮০ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয় ১ হাজার ৬৩৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ফের ২৪৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৮৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সর্বশেষ ১৮৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৯৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে আইএমএমইডি বলেছে, প্রকল্পের আওতায় ডাটা সেন্টারসহ বেশকিছু কাজ শতভাগ শেষ হলেও মূল কাজই এখনও বাকি। এটির প্রধান কাজ হচ্ছে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত এবং নাগরিকদের কাছে বিতরণ করা। কার্ড তৈরির জন্য ফরাসি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওর্বারথার টেকনোলজিস চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি।

ফলে বিশ্বব্যাংকের সম্মতি ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনক্রমে চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। এরপরও তারা ৯ কোটি স্মার্টকার্ড তৈরি ও বিতরণ করতে পারেনি। কার্য সম্পাদনে ব্যর্থতা, অদক্ষতা ও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় কোম্পানিটির সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন করা হয়নি।

ঠিকাদার কোম্পানিটি যখন চলে যায়, তখন মাত্র ১ কোটি ২৯ লাখ কার্ড তৈরি করেছে। পরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ কোটি ৭৩ লাখ কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে।

১০ মার্চ পর্যন্ত ৬ কোটি ১০ লাখ কার্ড পার্সোনালাইজ করা হয়েছে এবং বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত জনগণের কাছে বিতরণ করা হয়েছে ৫ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার। বলা হয়েছে, প্রকল্পটির বাস্তবায়নের গতি লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

তবে প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন না হওয়ার একটি বড় কারণ বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়া। ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এই চুক্তি আর নবায়ন করেনি। ফলে বিশ্বব্যাংকের পুরো অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া পুরো ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে মেটাতে হচ্ছে।

প্রকল্পের দুর্বল দিক : প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থায়ন চুক্তিতে বিশ্বব্যাংকের আরোপিত পূর্বশর্ত। যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন সংশোধন ও বিধিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত অর্থছাড় না করা।

সরবরাহ করা কার্ডে তথ্যের ভুল ও ছবির মান খারাপ, কার্ড সংশোধনে দীর্ঘসময় ও হয়রানি, উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে জনবলের অভাব, আইসিটি সিস্টেমের নিয়মিত আপগ্রেডেশনের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট ঘাটতি এবং সুস্পষ্ট এক্সিট প্লান না থাকা।