দেশে শনাক্ত ছাড়াল দেড় লাখ, মৃত্যু ১৯২৬

লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে ১৪ দিনের আইসোলেশন * উপসর্গ চলে গেলে আরও ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনের পর কাজে যোগদান

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্তের পর বৃহস্পতিবার ১১৭তম দিনে এ সংখ্যা ছাড়াল দেড় লাখ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৪ হাজার ১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এক দিনে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। দেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত একদিনে করোনায় ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৯২৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৩৩৪সহ সুস্থ হয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৪২ জন। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
বুলেটিনে জানানো হয়, দেশে ৭০টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৭টি। আগের নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৬২ জনের। এখন পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৮ লাখ ২ হাজার ৬৯৭টি নমুনা। পরীক্ষার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৩ দশমিক ৩৫ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।
নাসিমা সুলতানা জানান, যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ছয়জন নারী। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৩ জন এবং বাসায় পাঁচজন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দু’জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে আটজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দু’জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দু’জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১১ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বরিশালে দু’জন, রাজশাহী ও খুলনায় পাঁচজন করে, সিলেটে দু’জন এবং রংপুর বিভাগে একজন রয়েছেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত মোট মৃতদের মধ্যে শূন্য থেকে ১২ বছর বয়সের ১২ জন, ১২ থেকে ২০ বছর বয়সের ২২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৬৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১৪৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ২৮৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৫৬০ জন এবং ৬০ বা তার চেয়ে বেশি বয়সী ৮৩৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৯৬০ জনকে। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশন করা হয় ২৮ হাজার ৫০২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম মিলিয়ে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৮৯৪ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৩ হাজার ৬০৮ জন।
নাসিমা সুলতানা বলেন, যে স্থানে নমুনা সংগ্রহ করা হবে, সেখানে রসিদের মাধ্যমে ফি নেয়া হবে। এরপর তা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর একটি অ্যাপ তৈরি করছে। সেটা হলে অ্যাপের মাধ্যমে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। তবে দরিদ্র রোগীদের ক্ষেত্রে ফি মওকুফ থাকবে। তিনি আরও বলেন, অনেকে সুস্থ হওয়ার পরে কাজে যোগ দিতে অসুবিধা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তির করোনাভাইরাসের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। করোনার উপসর্গ চলে গেলে আরও ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার পর কাজে যোগ দিতে পারবেন। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ সময়টিকে ১০ দিন বলেছে। তবুও অতিরিক্ত সতর্কতা বিবেচনায় আমরা লক্ষণ, উপসর্গমুক্ত হওয়ার পরও ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বলছি। তাই যারা নিয়োগকারী আছেন, তারা এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা আছেন, তাদের কাজে ফিরতে সহায়তা করবেন। এক্ষেত্রে আর কোনো পরীক্ষার দরকার হবে না।
প্রতি মাসে নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে নাসিমা বলেন, মার্চে নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৩ হাজার ৬৫টি। এপ্রিলে তা বেড়ে হয় ৬২ হাজার ৮২৬টি, মে মাসে আরও বেড়ে হয় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯টি। জুনে সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়। ওই মাসে পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩০টি।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত