মৃত্যু প্রায় দুই হাজার, শনাক্ত ১৫৯৬৭৯

এক মাস পর মৃত্যু ৩০-এর নিচে * ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০৪১ জন

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসে দেশে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছুঁইছুঁই। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৯ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৯৭। এদিকে গত এক মাসের বেশি সময় পর ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০-এর নিচে নেমেছে। ১ জুন দেশে ২২ জন মারা গেছেন। এরপর পুরো জুন মাসেই প্রতিদিন ৩০-এর ওপরে ছিল মৃত মানুষের সংখ্যা।

দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তিন মাসে মৃত্যু হয়েছিল এক হাজার জনের। এরপর মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে তা দুই হাজার ছুঁইছুঁই অবস্থায় পৌঁছেছে। মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ ছাড়াতে সময় লেগেছিল ২ মাস ৭ দিন। পরের ৫০০ জনের মৃত্যু ঘটে ১৬ দিনের মধ্যে। এর পরের ৫০০ জন মারা যায় ১২ দিনে। মৃতের তালিকায় আরও ৪৯৭ জন যোগ হতে সময় লাগল ১৩ দিন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩২৮৮ জনের দেহে। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৫৯ হাজার ৬৭৯। গত দুই দিনে নমুনা পরীক্ষা আগের কয়েকদিনের তুলনায় কম হয়েছে। এ কারণে শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমেছে তবে শনাক্তের হার আছে ২০ শতাংশের ওপরই। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৬৭৩ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৭০ হাজার ৭২১ জন।

শনিবার কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

বুলেটিনে নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৮৭১টি, নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭২৭টি। এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৪ দশমিক ২৯ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৫ শতাংশ।

নাসিমা সুলতানা জানান, যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী। এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৫৮৭ জন, যা শতকরা ৭৯ দশমিক ৪৭ ভাগ এবং নারী ৪১০ জন, যা শতকরা ২০ দশমিক ৫৩ ভাগ। ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে একজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন।

এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ জন, বরিশাল বিভাগে ২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭ জন, খুলনা বিভাগে ৩ জন, সিলেটে ৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন রয়েছেন।

হাসপাতালে মারা গেছেন ২৫ জন, বাসায় একজন এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে তিনজনকে। সারা দেশে মোট মৃত রোগীদের এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের ১ হাজার ৪১ জন, চট্টগ্রামের ৫২১ জন, রাজশাহীর ১০১ জন, খুলনার ৮২ জন, বরিশালের ৬৭ জন, সিলেটের ৮৪ জন, ময়মনসিংহের ৪৮ জন, রংপুর বিভাগের ৫৩ জন।

মোট মৃত ১ হাজার ৯৯৭ জনের বয়সভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে নাসিমা সুলতানা জানান, ষাটোর্ধ্ব রোগীদের মৃত্যুর হার ৪৩ দশমিক ৫২ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের ২৯ দশমিক ০৪ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সের ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সীদের ১ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ১০ বছরের নিচে রোগীদের মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ।

নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৭৪৪ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৬ হাজার ৪৪৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২৪২ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৩০ হাজার ১২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম মিলিয়ে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ২৪২ জনকে। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৫ হাজার ১৪৫ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৬৪৮সহ এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ৯ হাজার ৯৯৫ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৪ হাজার ১৫০ জন।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত