অকারণে বের হওয়ার চেষ্টা মানুষের
jugantor
ওয়ারীতে লকডাউন
অকারণে বের হওয়ার চেষ্টা মানুষের

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অকারণে বের হওয়ার চেষ্টা মানুষের
রাজধানীর ওয়ারীতে লকডাউন চলাকালে রোববার ব্যারিকেডের পাশে এসে এক ব্যক্তি অনলাইনে কেনাকাটার টাকা পরিশোধ করছেন। ছবি: যুগান্তর

রাজধানীর ওয়ারীতে ২১ দিনের লকডাউনের দ্বিতীয় দিন ছিল রোববার। এদিন লকডাউন এলাকার বাসিন্দাদের অনেকে অকারণে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। লকডাউন তোয়াক্কা না করে তারা পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

এতে এলাকার প্রবেশের দুটি পথে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ এলাকার চাকরিজীবীদের ২১ দিনের সাধারণ ছুটি থাকার কথা থাকলেও অনেকে অফিসের অজুহাতে বের হন।

তবে লকডাউন মানাতে তৎপর ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা। যারা জরুরি কাজে বের হয়েছেন খাতায় নাম এন্ট্রি করে বের হয়েছেন। কেউ কেউ আবার যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই জোর করে বের হয়েছেন।

সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রবেশপথগুলোতে একসঙ্গে অনেকজনকে বের হতে এবং জটলা করতে। লাইন ধরে খাতায় নাম এন্ট্রি করে একে একে বের হতে বলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। কিন্তু অনেকেই তা মানেননি। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে হুমকি দিয়েও অনেকে ওয়ারী থেকে বের হয়েছেন জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, তাদের মধ্যে বেশির ভাগ সরকারি কর্মকর্তা। তবে এলাকার সচেতন মহলের অনেকে লকডাউন মানছেন এবং বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতাও করে যাচ্ছেন।

স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, এলাকার বাসিন্দাদের স্বার্থেই তাদের এ তৎপরতা। এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে রাখতে তাদের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে এলাকাটিকে সুরক্ষিত রাখতেই এমন উদ্যোগ। এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কিছুক্ষণ পরপর স্বেচ্ছাসেবকদের মাইকিং করতেও দেখা গেছে।

লকডাউন ভেঙে বের হওয়ার বিষয়ে এলাকার বাসিন্দা ও আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তা তাসফিয়া বলেন, আজকে হঠাৎ ব্যাংকের জরুরি একটা কাজ পরে গেছে। যেটা অন্য একজনকে বুঝিয়ে দিয়ে আসতে হবে।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, করোনার বিস্তার সারা দেশেই আছে। ওয়ারী একটি ছোট এলাকা। এখানকার সফলতা ব্যর্থতা সারা দেশের প্রেক্ষাপটে খুব একটা বড় বিষয় নয়। এটা একটি পাইলট প্রকল্প। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সচেতন হলে সারা দেশে ভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটা কমে আসবে। প্রবেশপথে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো বলেন, খুব জরুরি কাজ না থাকলে সরকারি কর্মকর্তারা বের হতে পারবেন না। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সরকারি কর্মকর্তা হোক বা বেসরকারি। সবাইকে আইন মানতে হবে। সবাইকে লকডাউন মানতে হবে। হয়তো দু-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে প্রথম দিনের তুলনায় আজকের অবস্থা অনেকটাই ভালো। স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়কারী মামুন বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই অসহায়। অনেকে আমাদের হুমকি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। আটকাতে চাইলে বাকবিতণ্ডা করছে।

ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, লকডাউন এলাকা থেকে মানুষ যাতে বের হতে না পারে আমরা সে চেষ্টা করছি। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কাউকে কাউকে আমরা বের হতে দিচ্ছি। ২১ দিনের সাধারণ ছুটি থাকার কথা থাকলেও অনেকে বলছেন অফিস থেকে ছুটি পাইনি। তিনি আরও বলেন, সকালের দিকে গেটে সাংবাদিক বেশি ছিল। এ কারণে একটু বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল।

 

ওয়ারীতে লকডাউন

অকারণে বের হওয়ার চেষ্টা মানুষের

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৬ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
অকারণে বের হওয়ার চেষ্টা মানুষের
রাজধানীর ওয়ারীতে লকডাউন চলাকালে রোববার ব্যারিকেডের পাশে এসে এক ব্যক্তি অনলাইনে কেনাকাটার টাকা পরিশোধ করছেন। ছবি: যুগান্তর

রাজধানীর ওয়ারীতে ২১ দিনের লকডাউনের দ্বিতীয় দিন ছিল রোববার। এদিন লকডাউন এলাকার বাসিন্দাদের অনেকে অকারণে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। লকডাউন তোয়াক্কা না করে তারা পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

এতে এলাকার প্রবেশের দুটি পথে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ এলাকার চাকরিজীবীদের ২১ দিনের সাধারণ ছুটি থাকার কথা থাকলেও অনেকে অফিসের অজুহাতে বের হন।

তবে লকডাউন মানাতে তৎপর ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা। যারা জরুরি কাজে বের হয়েছেন খাতায় নাম এন্ট্রি করে বের হয়েছেন। কেউ কেউ আবার যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই জোর করে বের হয়েছেন।

সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রবেশপথগুলোতে একসঙ্গে অনেকজনকে বের হতে এবং জটলা করতে। লাইন ধরে খাতায় নাম এন্ট্রি করে একে একে বের হতে বলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। কিন্তু অনেকেই তা মানেননি। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে হুমকি দিয়েও অনেকে ওয়ারী থেকে বের হয়েছেন জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, তাদের মধ্যে বেশির ভাগ সরকারি কর্মকর্তা। তবে এলাকার সচেতন মহলের অনেকে লকডাউন মানছেন এবং বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতাও করে যাচ্ছেন।

স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, এলাকার বাসিন্দাদের স্বার্থেই তাদের এ তৎপরতা। এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে রাখতে তাদের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে এলাকাটিকে সুরক্ষিত রাখতেই এমন উদ্যোগ। এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কিছুক্ষণ পরপর স্বেচ্ছাসেবকদের মাইকিং করতেও দেখা গেছে।

লকডাউন ভেঙে বের হওয়ার বিষয়ে এলাকার বাসিন্দা ও আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তা তাসফিয়া বলেন, আজকে হঠাৎ ব্যাংকের জরুরি একটা কাজ পরে গেছে। যেটা অন্য একজনকে বুঝিয়ে দিয়ে আসতে হবে।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, করোনার বিস্তার সারা দেশেই আছে। ওয়ারী একটি ছোট এলাকা। এখানকার সফলতা ব্যর্থতা সারা দেশের প্রেক্ষাপটে খুব একটা বড় বিষয় নয়। এটা একটি পাইলট প্রকল্প। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সচেতন হলে সারা দেশে ভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটা কমে আসবে। প্রবেশপথে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো বলেন, খুব জরুরি কাজ না থাকলে সরকারি কর্মকর্তারা বের হতে পারবেন না। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সরকারি কর্মকর্তা হোক বা বেসরকারি। সবাইকে আইন মানতে হবে। সবাইকে লকডাউন মানতে হবে। হয়তো দু-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে প্রথম দিনের তুলনায় আজকের অবস্থা অনেকটাই ভালো। স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়কারী মামুন বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই অসহায়। অনেকে আমাদের হুমকি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। আটকাতে চাইলে বাকবিতণ্ডা করছে।

ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, লকডাউন এলাকা থেকে মানুষ যাতে বের হতে না পারে আমরা সে চেষ্টা করছি। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কাউকে কাউকে আমরা বের হতে দিচ্ছি। ২১ দিনের সাধারণ ছুটি থাকার কথা থাকলেও অনেকে বলছেন অফিস থেকে ছুটি পাইনি। তিনি আরও বলেন, সকালের দিকে গেটে সাংবাদিক বেশি ছিল। এ কারণে একটু বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০