বিশ্বে করোনা রোগী ১ কোটি ১৭ লাখ

  যুগান্তর ডেস্ক ০৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ১৭ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। প্রাণহানি পাঁচ লাখ ৪১ হাজারের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় প্রতিদিনই অর্ধলাখের কাছাকাছি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। ভারতেও হু-হু করে বাড়ছে সংক্রমণ। দেশটিতে রোগীর সংখ্যা সাত লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ব্রাজিলে মৃত্যুহার কিছুটা কমলেও এখনও দেশটি দৈনিক প্রাণহানিতে শীর্ষে। লাতিন আমেরিকার এ দেশটিতে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন। আক্রান্তের সংখ্যায় ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে বৈশ্বিক তালিকায় ১৭ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা নিজ নাগরিকদের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নিউজিল্যান্ড। বিভিন্ন শর্তে পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিচ্ছে দুবাই। খবর বিবিসি, গার্ডিয়ান ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ৯৫৬ জন। মারা গেছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ৭৫৩ জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ৫৭ হাজার ৯০২ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০৮, মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৩ জনের। যা আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩৮৮ ও ৩ হাজার ৬০৩ জন।

বিশ্ব তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ ফের বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৫০ হাজার ৫৮৬ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ৩৭৮ জনের। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৩০ লাখ ৪১ হাজার ৯৫০ জন, মারা গেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪১ জন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৪৮৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ৬৫৬ জনের। দেশটিতে মোট রোগীর সংখ্যা ১৬ লাখ ২৮ হাজার ২৮৩ জন, মৃত্যু হয়েছে ৬৫ হাজার ৬৩১ জনের।

রাশিয়াকে ছাড়িয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে আসা ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৫১০ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪৭৪ জনের। এ নিয়ে দেশটিতে মোট রোগী ৭ লাখ ২৩ হাজার ১৯৫ জন, মারা গেছেন ২০ হাজার ২০১ জন। ভারতে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে এখন পর্যন্ত শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। ওই রাজ্যে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ১১ হাজার ৯৮৭ এবং মারা গেছে ১০ হাজার ৫২৭ জন। রাজধানী দিল্লিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ পেরিয়ে গেছে। তবে করোনা থেকে সুস্থও হয়ে উঠেছেন প্রায় ৭২ হাজার রোগী।

চতুর্থ স্থানে রাশিয়ায় মোট রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ৯৪ হাজার ২৩০ জন, মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৪৯৪ জনের। পঞ্চম স্থানে থাকা পেরুতে মোট আক্রান্ত মোট আক্রান্ত ৩ লাখ ৫ হাজার ৭০৩ জন, মারা গেছেন ১০ হাজার ৭৭২ জন। ষষ্ঠ স্থানে স্পেনে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৬৯ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ৩৮৮ জনের।

নাগরিকদের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিউজিল্যান্ডের : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা নিজ নাগরিকদের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নিউজিল্যান্ড। মঙ্গলবার থেকে আগামী তিন সপ্তাহ নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা দেশে প্রবেশ করতে পারবেন না। নতুন এই পদক্ষেপের বিষয়ে সীমিত কোয়ারেন্টিন সুবিধার কথা উল্লেখ করেছে নিউজিল্যান্ড সরকার। এদিকে গত ৬৭ দিনে দেশটিতে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে সম্প্রতি ২২ জন রোগী বাইরে থেকে এসেছেন। তারা সবাই এমন কোনো দেশ থেকে নিউজিল্যান্ডে এসেছেন, যেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে।

আক্রান্তে ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ : বাংলাদেশে ৮ মার্চ তিনজনের করোনা শনাক্তের কথা জানানো হয়েছিল। এর আট দিনের মাথায় পাঁচজন বেড়ে মোট শনাক্ত দাঁড়ায় আটজনে। এরপর থেকে সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করে দ্রুত। প্রায় চার মাসের মাথায় এসে আক্রান্তের মোট সংখ্যায় ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ১৫১ জনের। অন্যদিকে ফ্রান্সে মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৩৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৯২০ জনের।

পর্যটকদের জন্য দরজা খুলল দুবাই : করোনা সংক্রমণ কমে আসায় সীমান্ত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। যা বিশ্বের পর্যটনপ্রেমীদের জন্য একটি সুখবর। পর্যটকদের জন্য একটি নীতিমালা জারি করেছে দেশটির সবচেয়ে বড় বিমানসেবা কোম্পানি এমিরেটস এয়ারলাইন্স। সব পর্যটককে এই এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইটে ভিসার জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। সবাইকে করোনাভাইরাসের ইন্স্যুরেন্স নিয়ে যাত্রা করতে হবে। যদি তা করা সম্ভব না হয় তাহলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর একজন যাত্রীকে সব খরচ বহন করতে হবে এই শর্ত সাপেক্ষে দুবাই আসা যাবে। এছাড়া সবাইকে বাধ্যতামূলক পিসিআর টেস্ট (করোনা শনাক্তকরণ) করাতে হবে এবং ফ্লাইটে ওঠার ৯৬ ঘণ্টা আগেই এই টেস্ট করাতে হবে। যাত্রীদের অবশ্যই করোনা নেগেটিভ সনদ সঙ্গে রাখতে হবে।

মেলবোর্ন লকডাউন : নতুন করে করোনার সংক্রমণের মুখে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মেলবোর্ন লকডাউন করা হয়েছে। মেলবোর্ন শহরে করোনার সংক্রমণ হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন কর্তৃপক্ষ। সংক্রমণ ঠেকাতে তারা লকডাউনের মতো ব্যবস্থা নিল। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহরটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯১ জন করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ এই লকডাউন ঘোষণা করে। ছয় সপ্তাহ লকডাউন চলবে। এতে মেলবোর্নের ৫০ লাখের বেশি মানুষকে লকডাউনের আওতায় থাকতে হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত