এমপি পাপুল কুয়েতের নাগরিক নন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার এমপি শহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েতের নাগরিক নন। বৃহস্পতিবার কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিদেশিদের জন্য আবাসিক আইনে এমপি পাপুল কুয়েতে বসবাস করে আসছেন।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পাপুল কুয়েতের নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কুয়েতের গণমাধ্যমে পাপুলের কুয়েতি নাগরিকত্বের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতে আটক বাংলাদেশের এমপি শহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েতের নাগরিকত্ব পাননি। বিদেশিদের জন্য আবাসিক আইনের (ফরেনার্স রেসিডেন্ট ল) আওতায় কুয়েতে পাপুল অবস্থান করে আসছেন।

একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে পাপুলের নাগরিকত্বের বিষয়টি কুয়েতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস আল-সালেহকে উদ্ধৃত করে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়, বড় রকমের দুর্নীতির প্রকাশ ঘটিয়েছে এ ঘটনা (পাপুল-কাণ্ড)। বিষয়টি এখন পাবলিক প্রসিকিউশনের অধীনে রয়েছে।

পাবলিক প্রসিকিউশন যাদের নাম প্রকাশ করতে চাইবে, যাদের বিচারের আওতায় আনতে চাইবে এবং যাদের বিষয়ে তদন্তের অনুরোধ করবে, তার সবই করা হবে। সবকিছুর এখতিয়ার পাবলিক প্রসিকিউশনের।

দুর্নীতিতে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। কুয়েত জাতীয় পরিষদের সদস্য ওসামা আল-শাহীনকে উদ্ধৃত করে এরেম নিউজে বলা হয়, ঘটনার গভীরতা ও নাগরিকত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া উচিত। বাংলাদেশের সংসদে যে আলোচনা হয়েছে, তা সত্য কি না স্পষ্ট করা দরকার।

এদিকে মঙ্গলবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, এমপি পাপুল কুয়েতের লোকাল রেসিডেন্ট। তবে নাগরিক কি না, সে বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেননি। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালাম বলেন, ‘কুয়েতের নাগরিকত্ব আইন অনেক কড়া। আমার জানা মতে, উনার নাগরিকত্ব নেই। গত কয়েক বছরে এশিয়ার কেউ নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে আমার জানা নেই। দীর্ঘদিন ধরে উনি (পাপুল) এখানে রেসিডেন্ট পারমিট নিয়ে থাকেন। এ পারমিট কয়েক বছর পরপর নবায়ন করতে হয়।’

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কয়েকটি পত্রিকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের বক্তব্য ভুলভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাৎকারে পাপুলকে কুয়েতের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেননি। পাপুল বাংলাদেশ সরকারের কোনো ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট নিয়ে কুয়েতে যাননি এবং তিনি প্রায় ২৯-৩০ বছর কুয়েতে ব্যবসায় নিয়োজিত আছেন। তার হয়তো কুয়েতের রেসিডেন্ট পারমিট আছে।’

জানা গেছে, সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শুধু তা-ই নয়, নিজের স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করেছেন তিনি।

মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলকে ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। মানব পাচার, অর্থ পাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণসহ বেশকিছু অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।

পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশেও তার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কুয়েতে তার নির্যাতনে শিকার পাঁচ বাংলাদেশি ৭ জুন রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন। এ মামলাটি এরইমধ্যে সিআইডিতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত